📌 হাম শনাক্তের জন্য সরকারি পরীক্ষাগারে দৈনিক গড়ে দুই শতাধিক নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৩৯ হাজার ৪৬১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫১ দশমিক ৮২ শতাংশই পজিটিভ পাওয়া গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ বছর হামে ও উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে
দেশে হাম শনাক্তের হার ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি পরীক্ষাগারে প্রতি দুজনের নমুনায় একজন হামে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হচ্ছে। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত পরীক্ষায় ৫১ দশমিক ৮২ শতাংশ নমুনাই পজিটিভ পাওয়া গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরকারি পরীক্ষাগারে দৈনিক গড়ে দুই শতাধিক নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
- 📌 জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট ৩৯ হাজার ৪৬১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
- 📌 পরীক্ষায় ৫১ দশমিক ৮২ শতাংশ নমুনাই হামে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে।
- 📌 এ বছর হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
- 📌 মৃতদের অধিকাংশই শিশু, যারা হামের টিকা পায়নি বলে জানা গেছে।
📰 বিস্তারিত
হাম শনাক্তের জন্য দেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত একমাত্র সরকারি পরীক্ষাগার হলো জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস–রুবেলা ল্যাবরেটরি। চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের সময় দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি ও কিছু বেসরকারি হাসপাতাল থেকে আসা নমুনা এখানে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষাগারে রোগীর কাছ থেকে কোনো অর্থ ব্যয় হয় না।
গতকাল শনিবার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস–রুবেলা ল্যাবরেটরির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট ৩৯ হাজার ৪৬১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫১ দশমিক ৮২ শতাংশ নমুনাই হামে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত বছর ডিসেম্বরের দিকে হাম শনাক্তের হার বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। জানুয়ারিতে শনাক্ত হয় ডিসেম্বরের দ্বিগুণ, ফেব্রুয়ারিতে জানুয়ারির দ্বিগুণ শনাক্ত হয়।
এ বছর হামের প্রাদুর্ভাব প্রথম অনুমান করেন এই পরীক্ষাগারের কর্মকর্তারা। পরীক্ষাগারের প্রধান খন্দকার মাহবুবা জামিল জানান, এই পরীক্ষাগারের তথ্যের ভিত্তিতে সরকার ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করে এবং ৫ এপ্রিল থেকে সেখানে শিশুদের টিকা দেওয়া শুরু করে।
"গত বছর ডিসেম্বরের দিকে হাম শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যায়। জানুয়ারিতে শনাক্ত হয় ডিসেম্বরের দ্বিগুণ, ফেব্রুয়ারিতে জানুয়ারির দ্বিগুণ শনাক্ত হয়।"
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ বছর ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩২ জন মানুষ চিকিৎসা নিতে এসেছে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৪৪ জন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
এই সময় পরীক্ষাগারে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৪০ জনের। হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ বছর মোট ৮৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের অধিকাংশই শিশু। এসব শিশুর অধিকাংশ হামের টিকা পায়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খন্দকার মাহবুবা জামিল (পরীক্ষাগারের প্রধান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৯ হাজার ৪৬১ জন, ৫১ দশমিক ৮২ শতাংশ, ৮৬৭ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!