📌 মানিকগঞ্জের সিংগাইরে অনুমোদন ছাড়াই চামড়া পোড়ানোর কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য বিপদে পড়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, কারখানাটি বন্ধ না হওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ঘনবসতিপূর্ণ ফোর্ডনগর খানপাড়া এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা একটি চামড়া পোড়ানোর কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে এলাকাবাসীর জীবন বিপদে পড়েছে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে এই কারখানার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ফোর্ডনগর খানপাড়া** এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা চামড়া কারখানার ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য বিপদে পড়েছে।
- 📌 **২ থেকে ৩ হাজার** মানুষের বসবাসকারী এলাকায় কারখানাটি গত **৩-৪ বছর** ধরে অপারেশন চালাচ্ছে।
- 📌 **গরুর কাঁচা চামড়া, হাড় ও মাংস** পোড়ানোর সময় সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়ায় শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টসহ স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
- 📌 **৮ থেকে ১০টি** কারখানা ও বিভিন্ন কোম্পানির কার্যক্রমের পাশাপাশি এই কারখানাটি এলাকার জীবিকা নির্বাহে বাধা সৃষ্টি করছে।
- 📌 **কারখানার মালিক আব্দুর রব** কল করলে রিসিভ করেননি। শ্রমিক **মো. মহসিন** জানান, কারখানার পরিবেশসহ অন্যান্য কাগজপত্র নেই।
- 📌 **সিংগাইর ইউএনও খায়রুন্নাহার পপি** বলেছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- 📌 **মানিকগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. ওয়ালী আখের** জানান, কারখানাটির কোনো ছাড়পত্র নেই এবং বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
📰 বিস্তারিত
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর খানপাড়া এলাকায় প্রায় **২ থেকে ৩ হাজার** মানুষের বসবাস। এই এলাকায় **৮ থেকে ১০টি** কারখানা ও বিভিন্ন কোম্পানির কার্যক্রম রয়েছে, যেখানে স্থানীয়রা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু এই এলাকায় গত **৩-৪ বছর** ধরে একটি **নামবিহীন চামড়া কারখানার** অপারেশন চলছে, যা এলাকাবাসীদের জীবন বিপদে ফেলেছে।
কারখানাটিতে **গরুর কাঁচা চামড়া, হাড় ও মাংস** পোড়ানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়া ও দুর্গন্ধ বাতাসের সঙ্গে মিশে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে শিশু ও বয়স্কদের **শ্বাসকষ্ট, অসুস্থতা**সহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা **মো. হাসান খান** বলেন, ‘কারখানার ধোঁয়া ও দুর্গন্ধের কারণে আমাদের সন্তানেরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। রাতে ঠিকমতো ঘুমানো যায় না। গভীর রাতে চামড়া পোড়ানো হয়, যা নাক বন্ধ করে দেয়। বিশেষ করে শিশু ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। অনেকে জমি বিক্রি করে এলাকা ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।’
অনেকেই কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আরেক বাসিন্দা **জাকির হোসেন** বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। দূষণ বন্ধের অনুরোধও করেছি, কিন্তু মালিকপক্ষ নানা অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। আমরা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কারখানাটির কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানাই।’
কারখানার শ্রমিক **মো. মহসিন** জানান, ‘আমরা গরুর পরিত্যক্ত চামড়া পুড়িয়ে মেশিনের মাধ্যমে গুঁড়ো করি। এরপর তা দিয়ে মাছ ও মুরগির খাবার তৈরি হয়। কারখানাটির পরিবেশসহ অন্যান্য কাগজপত্র আছে কি না, তা আমার জানা নেই।’
কারখানার মালিক **আব্দুর রব**কে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) **খায়রুন্নাহার পপি** বলেছেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত কারখানাটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মানিকগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক **মো. ওয়ালী আখের** জানান, ‘প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেই। এমনকি ছাড়পত্রের জন্য কোনো আবেদনও করা হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
"কারখানার ধোঁয়া ও দুর্গন্ধের কারণে আমাদের সন্তানেরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। রাতে ঠিকমতো ঘুমানো যায় না। গভীর রাতে চামড়া পোড়ানো হয়, যা নাক বন্ধ করে দেয়।"
"বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। দূষণ বন্ধের অনুরোধও করেছি, কিন্তু মালিকপক্ষ নানা অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফোর্ডনগর খানপাড়া, ধল্লা ইউনিয়ন, সিংগাইর উপজেলা, মানিকগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. হাসান খান, জাকির হোসেন, মো. মহসিন, খায়রুন্নাহার পপি (ইউএনও), মো. ওয়ালী আখের (পরিবেশ অধিদপ্তর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২-৩ হাজার বাসিন্দা, ৮-১০টি কারখানা, ৩-৪ বছর ধরে চলছে কারখানার অপারেশন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!