📌 সাতক্ষীরা জেলায় ২০২৬ সালে ৪১ জন নতুন কুষ্ঠরোগী শনাক্ত হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা খ্রিষ্টান সার্ভিস সোসাইটি (সিএসএস) জানায়, জেলার চারটি উপজেলায় রোগীরা চিকিৎসাধীন। বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা জানিয়ে বলেছেন, রোগের লক্ষণ উপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন
সাতক্ষীরা জেলায় কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা চিন্তাজনক হারে বাড়ছে। ২০২৬ সালের প্রথম ১২ মাসে এই রোগে আক্রান্ত ৪১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা খ্রিষ্টান সার্ভিস সোসাইটি (সিএসএস) সপ্তাহান্তে একটি ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে এই তথ্য প্রকাশ করে। সিএসএসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার কালীগঞ্জ, আশাশুনি, সাতক্ষীরা সদর ও শ্যামনগর উপজেলায় রোগীরা চিকিৎসাধীন আছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৬ সালে সাতক্ষীরায় নতুন করে ৪১ জন কুষ্ঠরোগী শনাক্ত হয়েছে — সর্বশেষ ২০২৫ সালে ৬০ জনের চেয়ে বেশি
- 📌 কালীগঞ্জে ১৬ জন, আশাশুনিতে ১৪ জন, সাতক্ষীরা সদরে ৬ জন ও শ্যামনগরে ৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন
- 📌 ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে: ২০১৯ (২ জন), ২০২০ (১২ জন), ২০২১ (২৯ জন), ২০২২ (৫০ জন), ২০২৩ (৪৯ জন), ২০২৪ (৬৮ জন), ২০২৫ (৬০ জন)
- 📌 সিএসএস পরিচালক সাজ্জাদুর রহিম পান্থ বলেন, ‘সমাজে কুষ্ঠ সম্পর্কে ভুল ধারণা প্রচলিত থাকায় রোগীরা চিকিৎসা এড়ায়’
- 📌 বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা জানিয়ে বলেছেন, দ্রুত চিকিৎসা না করলে স্থায়ী অক্ষমতার ঝুঁকি বাড়ে
📰 বিস্তারিত
সাতক্ষীরা শহরের পানসির কনফারেন্স রুমে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ‘কুষ্ঠরোগ ও এর পরিণতি বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন’-এ সিএসএসের তথ্য প্রকাশিত হয়। সভাপতিত্ব করেন দেশ টিভির সাতক্ষীরা স্টাফ রিপোর্টার শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন। প্রধান অতিথি ছিলেন সিএসএসের স্বাস্থ্য পরিচালক সাজ্জাদুর রহিম পান্থ। তিনি বলেন, “কুষ্ঠ একটি প্রাচীন রোগ। সমাজে এ রোগ সম্পর্কে নানা ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকেই মনে করেন কুষ্ঠ অভিশাপের ফল বা পাপের কারণে হয়। এসব ভুল ধারণার কারণে রোগীরা চিকিৎসা এড়ায়। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আমরা ২০১৩ সাল থেকে বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি, কিন্তু এখনো রোগী শনাক্ত হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, কুষ্ঠরোগের প্রাথমিক লক্ষণ হলো শরীরে অনুভূতিহীন দাগ, ত্বকের অনুভূতি কমে যাওয়া, হাত-পায়ে দুর্বলতা বা স্নায়ুর সমস্যা। যদি দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, তাহলে রোগী সুস্থ হতে পারেন। কিন্তু চিকিৎসায় বিলম্ব হলে স্থায়ী অক্ষমতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল-২৪-এর জেলা প্রতিনিধি আমিনা বিলকিস ময়না, প্রথম আলোর ইমতিয়াজ উদ্দিন, নাগরিক টিভির কৃষ্ণ মোহন ব্যানার্জি এবং অন্যান্য গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
সিএসএসের প্রজেক্ট অফিসার খালেকুজ্জামান ওরিয়েন্টেশন পরিচালনা করেন। তিনি জানান, সাতক্ষীরা জেলায় কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
"কুষ্ঠ একটি প্রাচীন রোগ। সমাজে এ রোগ সম্পর্কে নানা ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকেই মনে করেন কুষ্ঠ অভিশাপের ফল বা পাপের কারণে হয়। এসব ভুল ধারণার কারণে রোগীরা চিকিৎসা এড়ায়। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কুষ্ঠমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাতক্ষীরা জেলা (কালীগঞ্জ, আশাশুনি, সাতক্ষীরা সদর, শ্যামনগর উপজেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাজ্জাদুর রহিম পান্থ (সিএসএস পরিচালক), শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন (দেশ টিভি রিপোর্টার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪১ জন (২০২৬ সালে নতুন রোগী), ৬৮ জন (২০২৪ সালে সর্বোচ্চ রোগী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!