📌 মুন্সীগঞ্জের দেওয়ানকান্দি এলাকায় পদ্মার তীব্র ভাঙনে একটি মসজিদ সম্পূর্ণ নদীতে ডুবে গেছে। শুক্রবার রাতে এশার নামাজ পড়ার পর ফজরে মুসল্লিরা দেখেন মসজিদের কোনো চিহ্ন নেই। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের শিকার হলেও সরকারি পদক্ষেপের অভাবের কথা উল্লেখ করেছেন
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকায় পদ্মার তীব্র ভাঙনে একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ সম্পূর্ণ নদীতে ডুবে গেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে এশার নামাজ পড়ার পর মুসল্লিরা ফজরের সময় গিয়ে দেখেন, মসজিদটির কোনো চিহ্নই নেই। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান নদীভাঙনের কারণে এলাকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীতে ডুবে যাচ্ছে, কিন্তু সরকারি পদক্ষেপের অভাবের কারণে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার মসজিদ পদ্মার তীব্র স্রোতে শুক্রবার রাতে ডুবে গেছে। মুসল্লিরা এশার নামাজ পড়ার পর ফজরে দেখতে পান মসজিদের কোনো চিহ্ন নেই।
- 📌 ৫ বছর ধরে নদীভাঙনের শিকার এলাকার ১০০ শতাংশ জমি নদীতে ডুবে যাচ্ছে। স্থানীয় শিক্ষক মো. খালেক সাইফুল বলেন, মাদরাসার মসজিদসহ এলাকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীতে ডুবে যাচ্ছে।
- 📌 পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধ্বংস বালুর বস্তা দিয়ে নির্মিত অস্থায়ী বাঁধও পদ্মার তীব্র স্রোতে ধ্বংস হয়ে গেছে।
- 📌 এমপি ও জেলা প্রশাসক পরিদর্শন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতন ও জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী রোববার বিকেলে এলাকায় গিয়ে ভাঙনরোধে কাজের উদ্বোধন করেন।
- 📌 ৪০০ মিটার এলাকা ভাঙনের হুমকিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে কাজ চলছে, কিন্তু স্রোতের তীব্রতা প্রতিরোধ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে কঠিন করে তুলেছে।
📰 বিস্তারিত
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকায় পদ্মার তীব্র স্রোতে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার মসজিদ সম্পূর্ণ নদীতে ডুবে গেছে। মসজিদের নাম ছিল আবু হানিফা জামে মসজিদ। মুসল্লিরা শুক্রবার রাতে এশার নামাজ পড়ার পর মাদরাসার ভেতরে ঘুমিয়ে পড়েন। ফজরের সময় নামাজ পড়তে গিয়ে তারা দেখেন, মসজিদের কোনো চিহ্নই নেই। স্থানীয় ছাত্র সোহেল বলেন, “আমরা শুক্রবার রাতে মসজিদে এশার নামাজ পড়ে মাদরাসার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলাম। পরে ফজর নামাজ পড়তে এসে দেখি মসজিদটি নদীতে ভেঙে গেছে। এখন আমরা খোলা মাঠে নামাজ আদায় করছি।”
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান দুদু দাবি করেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় নদী গভীর হয়ে এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের এখানে ৫ বছর ধরে নদীতে কিছু না কিছু ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের মাদরাসার ১০০ শতাংশ জমি ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। অনেক দিন ধরে শুনছি এখানে স্থায়ী বাঁধ দেবে। কিন্তু পদক্ষেপ দেখছি না। মানুষের বাড়ি-ঘর, মসজিদ সব পদ্মায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে।”
স্থানীয় মো. হোসেন লিটন খান বলেন, “আমরা এই এলাকার লোকজন পদ্মার করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাচ্ছিনা। আমাদের এখানকার মাদানী কমপ্লেক্সের মসজিদসহ ভালো একটা অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখানে প্রতি বছর মাহফিলের সময় অনেক লোক হয়। মাহফিল করার যে মাঠ ছিলো, সেটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।”
এদিকে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভাঙন কবলিত এলাকায় পরিদর্শন করেছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতন ও মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী। তারা বালুর বস্তা ফেলে ভাঙনরোধে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। জেলা প্রশাসক বলেন, “এই এলাকার ভাঙনরোধে আমরা মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে ভাঙনের হুমকিতে থাকা ৪০০ মিটার এলাকা নিয়ে কাজ করছি আমরা।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, “পদ্মা নদীতে পানির স্রোত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে আমরা আমাদের সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু স্রোতের তীব্রতা প্রতিরোধ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে কঠিন করে তুলেছে।”
"আমরা শুক্রবার রাতে মসজিদে এশার নামাজ পড়ে মাদরাসার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলাম। পরে ফজর নামাজ পড়তে এসে দেখি মসজিদটি নদীতে ভেঙে গেছে। এখন আমরা খোলা মাঠে নামাজ আদায় করছি।"
"আমাদের এখানে ৫ বছর ধরে নদীতে কিছু না কিছু ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের মাদরাসার ১০০ শতাংশ জমি ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দেওয়ানকান্দি, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা, পদ্মা নদী তীর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইমাম আবু হানিফা, সোহেল, মিজানুর রহমান দুদু, মো. খালেক সাইফুল, মো. হোসেন লিটন খান, কামরুজ্জামান রতন, নুর মহল আশরাফী, শেখ এনামুল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ সেপ্টেম্বর (ভাঙনের দিন), ১৩ সেপ্টেম্বর (পরিদর্শন), ৫ বছর (নদীভাঙনের ইতিহাস), ১০০ শতাংশ (জমি ডুবে যাওয়া), ৪০০ মিটার (ভাঙনের হুমকিতে থাকা এলাকা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!