📌 স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাপন্থী নেতারা আজ সোমবার যুক্তরাজ্য ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্যে যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের চাপে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনও উল্লেখযোগ্য
যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যতে বিপ্লবী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। আজ সোমবার স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাপন্থী সরকারপ্রধানরা একত্রিত হয়ে যুক্তরাজ্য ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্যে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই বৈঠকটি যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ভূগোলকে পরিবর্তন করতে পারে। কার্ডিফের নজিরবিহীন এই সম্মেলনে তিন অঞ্চলের ফার্স্ট মিনিস্টার যৌথভাবে স্বাধীনতা গণভোটের অধিকার দাবি করবেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আজ সোমবার স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টাররা যুক্তরাজ্য ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্যে যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবেন
- 📌 স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে ‘যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে পরিচিত হতে বলেছেন
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর আয়ারল্যান্ডের আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রে যোগদানের বিষয়টি ‘দারুণ’ বলে উল্লেখ করেছেন
- 📌 গত মে মাসের নির্বাচনে ওয়েলসে প্রথমবারের মতো স্বাধীনতাপন্থী দল প্লেইড কামরু ক্ষমতায় এসেছে
- 📌 স্কটল্যান্ডে এসএনপি এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে সিন ফেইন তাদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করেছে
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। তিনি পার্লামেন্টে বলেছিলেন যে, যদি জনমত আরেকটি স্কটিশ স্বাধীনতা গণভোটের পক্ষে থাকে, তাহলে তিনি অনুমতি দেবেন। কিন্তু এই ঘোষণার পরই স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাপন্থী নেতারা একত্রিত হয়ে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করবেন। কার্ডিফের সেন্ট ডেভিড’স হোটেলে এই বৈঠকে অংশ নেবেন স্কটল্যান্ডের জন সুইনি, ওয়েলসের রুন আপ ইওয়ের্থ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড। তারা যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চায়।
স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি বলেছেন, “বার্নহামকে এখন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। ইতিহাসে তিনি যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত হবেন। বর্তমান ব্যবস্থা টেকসই নয় এবং ওয়েস্টমিনস্টারকে যুক্তরাজ্য-পরবর্তী ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।” তিনি আরো বলেছেন, “আমরা আজ কার্ডিফে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করব। আর সেই ভবিষ্যৎ কেবল স্বাধীনতার মাধ্যমে নতুনভাবে শুরু করার মধ্য দিয়েই আসতে পারে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনও এই দাবির পক্ষে উল্লেখযোগ্য। তিনি গত শনিবার ডাবলিন সফরে বলেছিলেন, “উত্তর আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হলে সেটি ‘দারুণ ব্যাপার’ হবে। এটা কীভাবে খারাপ হতে পারে?” তিনি প্রশ্ন করেছিলেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওপর জাতীয়তাবাদী নেতাদের চাপ বাড়িয়েছে।
গত মে মাসের নির্বাচনে ওয়েলসে লেবার পার্টির বড় পরাজয়ের পর প্রথমবারের মতো তিন অঞ্চলের সরকারেই স্বাধীনতাপন্থী দল ক্ষমতায় এসেছে। ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ ইওয়ের্থ প্লেইড কামরু দলের নেতা। স্কটল্যান্ডে এসএনপি তাদের প্রধান রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। উত্তর আয়ারল্যান্ডে সিন ফেইন ২০২২ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল, কিন্তু ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির বয়কটের কারণে মিশেল ও’নিলকে ফার্স্ট মিনিস্টার হতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
"প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ড তিনটিই স্বাধীনতাপন্থী ফার্স্ট মিনিস্টারের নেতৃত্বে রয়েছে। এর চেয়ে স্পষ্ট আর কোনো লক্ষণ হতে পারে না যে বর্তমান ব্যবস্থা টেকসই নয় এবং ওয়েস্টমিনস্টারকে যুক্তরাজ্য-পরবর্তী ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।"
বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে তার মন্তব্যের পর চাপ বাড়ানো। বার্নহাম পার্লামেন্টে বলেছিলেন, “জনমত যদি আরেকটি স্বাধীনতা গণভোটের পক্ষে থাকে, তাহলে স্কটল্যান্ডে আবার গণভোট হতে পারে।” তিনি আরো বলেছিলেন, স্কটল্যান্ডের বিচ্ছেদের গণভোট আয়োজনের শর্ত হবে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে যে পরিস্থিতি প্রযোজ্য, ঠিক একই পরিস্থিতি। গুড ফ্রাইডে চুক্তির অধীনে আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে গণভোট আয়োজনের একটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কার্ডিফ (ওয়েলস), সেন্ট ডেভিড’স হোটেল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জন সুইনি (স্কটল্যান্ড), রুন আপ ইওয়ের্থ (ওয়েলস), মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড (উত্তর আয়ারল্যান্ড), ডোনাল্ড ট্রাম্প (মার্কিন প্রেসিডেন্ট), অ্যান্ডি বার্নহাম (যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ (স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, উত্তর আয়ারল্যান্ড)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!