📌 ইসলামে নামাজ ও কোরআন পাঠের পূর্বশর্ত হিসেবে অজু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোরআনে বর্ণিত বিধান অনুসারে অজু করার সঠিক পদ্ধতি, ফরজ কাজ, দোয়া ও সতর্কতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে
ইসলামে আত্মিক ও শারীরিক পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম প্রধান উপায় হলো অজু। নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত বা পবিত্র কোরআন স্পর্শের পূর্বশর্ত হিসেবে অজু করা শরীয়তের বিধান অনুযায়ী বাধ্যতামূলক। কোরআনের সুরা মায়িদা ৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন যে, ইবাদতের পূর্বশর্ত হিসেবে মুখমণ্ডল, হাত, মাথা ও পায়ের টাখনু পর্যন্ত ধুয়ে পবিত্রতা অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অজু করার পূর্বশর্ত: পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত মনে স্থির করা এবং ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক।
- 📌 অজুর চারটি ফরজ কাজ: মুখ, হাত, মাথা ও পায়ের টাখনু ধুয়ে পবিত্রতা অর্জন।
- 📌 নখে নেলপালিশ বা পানি নিরোধক থাকলে তা আগেই তুলে ফেলা প্রয়োজন।
- 📌 অজু শেষে ‘আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু’ দোয়া পাঠ করলে জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যায়।
- 📌 অজু শেষে দু-রাকাত নফল নামাজ আদায় করলে অতীতের সব গুনাহ মাফ হয়।
📰 বিস্তারিত
মুখমণ্ডল, হাত, মাথা ও পায়ের টাখনু ধুয়ে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে অজু সম্পন্ন করা হয়। শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, অজু করার সময় মুখমণ্ডল ধুয়ে নেওয়ার আগে পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত মনে স্থির করতে হয়। এরপর ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে হবে। দুই হাতের কবজি পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নেওয়া হয়। হাতে আংটি, ঘড়ি বা চুড়ি থাকলে তা নাড়াচাড়া করে ভেতরে পানি পৌঁছাতে হবে এবং আঙুলের ফাঁকগুলো খেলাল করতে হবে। বিশেষত নখে নেলপালিশ বা পানি নিরোধক পুরু প্রলেপ থাকলে তা আগেই তুলে ফেলা প্রয়োজন। তবে মেহেদি বা আলতার রং লেগে থাকলে অজু হয়ে যায়। মহিলাদের কপালে টিপ থাকলে তা ছাড়িয়ে কপাল ধুতে হবে।
অজুর পরবর্তী ধাপে নাকে পানি দিয়ে বাঁ হাতের আঙুল দিয়ে তিনবার ঝেড়ে ফেলতে হয়। রোজা রাখা অবস্থায় থাকলে গলায় পানি যেন না যায়—সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়। কপালের চুলের গোড়া থেকে থুতনির নিচ এবং এক কানের লতি থেকে অন্য কানের লতি পর্যন্ত পুরো মুখমণ্ডল তিনবার পানি দিয়ে ধুতে হয়। দাড়ি পাতলা হলে ভেতরের চামড়াসহ ধুতে হয় এবং ঘন হলে পানি দিয়ে আঙুল চালনা করে দাড়ি খেলাল করতে হয়।
অজুর পরবর্তী ধাপে হাত ধোয়ার আগে আঠা, রং বা মাটি লেগে থাকলে তা আগেই পরিষ্কার করে নিতে হয়। নতুন পানি দিয়ে হাত ভিজিয়ে দুই হাতের আঙুল মুখোমুখি করে মাথার সামনের অংশ থেকে পেছনের ঘাড় পর্যন্ত নিয়ে আবার সামনে ফিরিয়ে এনে পুরো মাথা একবার মাসেহ করতে হয়। আলাদা পানি না নিয়ে ওই ভেজা হাত দিয়েই শাহাদাত (তর্জনী) আঙুল কানের ভেতরের ছিদ্রে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি কানের পিঠ ও বাইরের অংশে ঘুরিয়ে কান মাসেহ করতে হয়। এরপর ভেজা হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে ঘাড় মাসেহ করতে হয়।
অজু শেষে কালেমা শাহাদাত পাঠ করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি সঠিকভাবে অজু সম্পন্ন করে ‘আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু’ দোয়া পাঠ করলে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও অজু শেষে এক মনে দু-রাকাত নফল নামাজ আদায় করলে অতীতের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়।
‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে এক আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসলামের শরীয়ত (কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মহান আল্লাহ তাআলা, নবী মুহাম্মদ (সা.)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ (সুরা মায়িদা আয়াত), ৩ (বার ধুয়ে নেওয়া), ৮ (জান্নাতের দরজা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!