📌 চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নে অবস্থিত ১০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রের পোড়া তেলের বর্জ্য খাল হয়ে সাঙ্গু নদে মিশছে। স্থানীয়রা দাবি, দূষণে পানি কালচে হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং কৃষিকাজে বাধা পড়ছে
চট্টগ্রামের সাঙ্গু নদে পোড়া তেলের কালো স্লাজ ভেসে আসছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য খাল হয়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল গফুরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) দোহাজারী-কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট পিকিং বিদ্যুৎকেন্দ্রের পোড়া ফার্নেস অয়েলের স্লাজ আশপাশের খাল, কৃষিজমি ও সাঙ্গু নদে দূষণ সৃষ্টি করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় অবস্থিত ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের পোড়া তেলের বর্জ্য খাল হয়ে সাঙ্গু নদে মিশছে
- 📌 খালের পানি কালচে হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, পাশের গাছপালায় কালো স্লাজ লেগে আছে
- 📌 ৩০ হেক্টর জমির কৃষিকাজে বাধা পড়ছে, মাছসহ জলজ প্রাণী সংখ্যা কমে গেছে
- 📌 ২০১১ সাল থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য খালে মিশছে, বন্যা সময়ে স্লাজ ছড়িয়ে পড়েছিল
- 📌 ১২ সেপ্টেম্বর স্থানীয়রা মানববন্ধন করে অভিযোগ জানিয়েছিল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনাকেই
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নে অবস্থিত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) দোহাজারী-কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট পিকিং বিদ্যুৎকেন্দ্রের পোড়া ফার্নেস অয়েলের স্লাজ আশপাশের খাল, কৃষিজমি ও সাঙ্গু নদে দূষণ সৃষ্টি করছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল গফুরের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রায় ৩০০ মিটার পূর্বে উত্তর কালিয়াইশের মইল্যার ডেবা এলাকায় উৎপত্তি হওয়া মইল্ল্যা খালটি প্রবাহিত হয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষিণ পাশ দিয়ে গিয়ে মলেয়াবাদ গ্রামের চাগাচর এলাকায় সাঙ্গু নদে মিশেছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি অংশে খালের পানি কালচে আকার ধারণ করেছে। পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং পাশের গাছপালায় কালো স্লাজ লেগে আছে। স্থানীয়রা জানান, একসময় মইল্ল্যা খালের পানি ব্যবহার করে খালের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকার দুই পাশে শতাধিক কৃষক প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করতেন। তবে দূষণসহ নানা কারণে এখন চাষাবাদ কিছুটা কমেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর পর থেকে কেন্দ্রের ভেতর থেকে বের হওয়া কালো স্লাজ খালের পানিতে মিশছে বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ।
২০১১ সালের শুরুতে চালু হওয়া এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ধরে কেরানীহাট স্টেশন থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার উত্তরে দোহাজারী বিওসির মোড় এলাকায় অবস্থিত। এ বছরের জুলাইয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামে হওয়া বন্যার সময় খাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে জমে থাকা স্লাজ আশপাশের কৃষিজমি ও লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। এরপর স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হন। ১২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপকের কাছে অভিযোগ জানান।
"বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য সরাসরি খালে পড়া বন্ধ না হলে শুধু খাল পরিষ্কার করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। বর্জ্য কোথা থেকে বের হচ্ছে, কীভাবে তা খালে যাচ্ছে এবং এর পরিশোধনের ব্যবস্থা কী—এসব বিষয় তদন্ত করে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা, কালিয়াইশ ইউনিয়ন, মইল্ল্যা খাল ও সাঙ্গু নদ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল গফুর (কালিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য), স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০ মেগাওয়াট (বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষমতা), ৩০০ মিটার (বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে খালের দূরত্ব), ৩০ হেক্টর (দূষণে প্রভাবিত কৃষিজমি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!