📌 ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা মাউসের মস্তিষ্কে মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের কোষ রোপণ করে ‘অ্যালিয়েন-কর্টিক্যাল মাউস’ তৈরি করেছেন। এই মাউসগুলো মানব স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে স্মৃতি ও চিন্তা প্রক্রিয়ায় উন্নতি দেখিয়েছে, যা মানব মস্তিষ্কের রোগ অধ্যয়নে নতুন দরজা খুলতে পারে
ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ল্যাবরেটরিতে গবেষণার অংশ হিসেবে তৈরি করা মাউসগুলো বাহ্যিকভাবে সাধারণ মাউসের মতো দেখতে। কিন্তু তাদের মস্তিষ্কে লক্ষ লক্ষ মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের কোষ রয়েছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মানব স্নায়ুতন্ত্রের কোষ ল্যাবরেটরিতে তৈরি করে মাউসের মস্তিষ্কে রোপণ করেছেন, যেখানে মাউসগুলোকে জেনেটিকভাবে মস্তিষ্কের কর্টেক্স এবং হিপোক্যাম্পাসের অংশ বাদ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। এই ‘অ্যালিয়েন-কর্টিক্যাল মাউস’ গবেষণায় মানব মস্তিষ্কের রোগ যেমন স্কিজোফ্রেনিয়া, সেরিব্রাল প্যালসি এবং ডিমেনশিয়া অধ্যয়নের নতুন পথ খুলতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা মাউসের মস্তিষ্কে মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের কোষ রোপণ করে ‘অ্যালিয়েন-কর্টিক্যাল মাউস’ তৈরি করেছেন, যেখানে মাউসের মস্তিষ্কের ৫০% জায়গা মানুষের স্নায়ুতন্ত্র দখল করেছে।
- 📌 ২৫টি মাউসে এই প্রক্রিয়া সফল হয়েছে, যেখানে মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের কোষ মাউসের মস্তিষ্কে সংযুক্ত হয়ে ৯০% জায়গা দখল করেছে এবং রক্তের সরবরাহ পেয়েছে।
- 📌 মাউসগুলো মেজাজ ও চলাচল সাধারণ মাউসের মতোই ছিল, কিন্তু মেজাজ পরীক্ষায় মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের কোষ থাকা মাউসগুলো ভুলে যাওয়া কম করেছে, যা স্মৃতির উন্নতি নির্দেশ করে।
- 📌 অপ্রত্যাশিতভাবে মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের কোষ থেকে ‘ভন ইকোনোমো নিউরন’ তৈরি হয়েছে, যা সাধারণত মানুষ, শিম্পাঞ্জি, হাতি ও বালেনের মতো উচ্চ সামাজিক প্রাণীদের মস্তিষ্কে পাওয়া যায়।
- 📌 গবেষক সার্জিউ পাস্কা বলেছেন, এই আবিষ্কার মানব মস্তিষ্কের রোগ অধ্যয়নে নতুন দিক খুলতে পারে, কারণ ল্যাবরেটরিতে তৈরি স্নায়ুতন্ত্রের কোষের সাথে মাউসের মস্তিষ্কের সংযোগ মানব মস্তিষ্কের প্রকৃত পরিবেশের মতো।
- 📌 সেরিব্রাল প্যালসি অধ্যয়নে এই মাউসগুলো সাহায্য করতে পারে, কারণ সাধারণ মাউসের মতো মাউসের শিশুদের অক্সিজেনের অভাবের কারণে সেরিব্রাল প্যালসি হয় না, কিন্তু এই মডেল মাউসগুলোতে এই রোগের লক্ষণ দেখা গেছে।
📰 বিস্তারিত
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মাউসের জিনগত পরিবর্তন করে তাদের মস্তিষ্কের কর্টেক্স এবং হিপোক্যাম্পাসের অংশ বাদ দিয়ে তৈরি করেছেন। এরপর তারা দুই দিন বয়সের মাউসের মস্তিষ্কে মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের কোষের ‘অর্গানয়েড’ রোপণ করেছেন। প্রতিটি অর্গানয়েডে ১০০,০০০ টি মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের কোষ ছিল। মোট রোপণ করা হয়েছে ৪ মিলিয়ন মানুষের কোষ, যা মাউসের মস্তিষ্কের ১৪ মিলিয়ন স্নায়ুতন্ত্রের কোষ বাদ দিয়ে করা হয়েছে। গবেষকরা বলেছেন, এটি মানব মস্তিষ্কের ট্রান্সপ্ল্যান্ট নয়, এবং মাউসগুলো মানুষের মতো চিন্তা করতে পারে না।
তিন মাসের মধ্যে, মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের কোষ মাউসের মস্তিষ্কে পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মাউসের মস্তিষ্কের ৯০% জায়গা দখল করেছে। মাউসগুলো সাধারণ মেজাজ ও চলাচল রেখেছে, এমনকি মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের কোষ মাউসের মস্তিষ্কের ৫০% জায়গা দখল করলেও। গবেষকরা মেজাজ পরীক্ষায় দেখেছেন, মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের কোষ থাকা মাউসগুলো ভুলে যাওয়া কম করেছে, যা স্মৃতির উন্নতির প্রমাণ দেয়।
অপ্রত্যাশিতভাবে, কিছু মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের কোষ ‘ভন ইকোনোমো নিউরন’ তৈরি করেছে, যা সাধারণত মানুষ, শিম্পাঞ্জি, হাতি ও বালেনের মতো উচ্চ সামাজিক প্রাণীদের মস্তিষ্কে পাওয়া যায়। এই আবিষ্কার মানব মস্তিষ্কের রোগ অধ্যয়নে নতুন দিক খুলতে পারে, বিশেষ করে সেরিব্রাল প্যালসি, স্কিজোফ্রেনিয়া এবং ডিমেনশিয়া। গবেষকরা বলেছেন, এই মডেল মাউসগুলো মানব মস্তিষ্কের রোগ অধ্যয়নে নতুন পথ খুলতে পারে, কারণ ল্যাবরেটরিতে তৈরি স্নায়ুতন্ত্রের কোষের সাথে মাউসের মস্তিষ্কের সংযোগ মানব মস্তিষ্কের প্রকৃত পরিবেশের মতো।
"এই মাউসগুলো মানুষের মতো চিন্তা করতে পারে না, কিন্তু মানব স্নায়ুতন্ত্রের কোষের সাথে মাউসের মস্তিষ্কের সংযোগ মানব মস্তিষ্কের রোগ অধ্যয়নে নতুন দিক খুলতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সার্জিউ পাস্কা (গবেষক ও মনোবিজ্ঞানী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫টি মাউসে সফল, ১০০,০০০ টি মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের কোষ প্রতি অর্গানয়েডে, ৪ মিলিয়ন মানুষের কোষ মোট রোপণ করা, ১৪ মিলিয়ন মাউসের স্নায়ুতন্ত্রের কোষ বাদ দিয়ে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!