📌 হাইকোর্ট পাঁচ জেলা শহর (বগুড়া, বরিশাল, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম) এর পুকুর তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। ৩ মাসের মধ্যে হলফনামা আকারে তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ পুকুর ভরাট বন্ধে মনিটরিং কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
হাইকোর্ট পাঁচটি জেলা শহরে (বগুড়া, বরিশাল, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম) রেকর্ড অনুযায়ী কতগুলো পুকুর রয়েছে, তার হলফনামা আকারে তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। তিন মাসের মধ্যে এই তথ্য জমা দিতে পাঁচ জেলা প্রশাসককে বলা হয়েছে। এছাড়াও পুকুরের অবৈধ ভরাট ও দখল বন্ধে ১৫ দিনের মধ্যে মনিটরিং কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বগুড়া, বরিশাল, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম জেলা শহরে রেকর্ড অনুযায়ী পুকুরের তালিকা হলফনামা আকারে দাখিল করতে হবে — তিন মাসের মধ্যে।
- 📌 পাঁচ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে — ১৫ দিনের মধ্যে।
- 📌 ২০০০ সালের জলধার সংরক্ষণ আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা পুকুরের বাদে অন্য সব পুকুরের দখল-ভরাট বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
- 📌 চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বগুড়া, বরিশাল, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম জেলা শহরে রেকর্ড অনুযায়ী কতগুলো পুকুর রয়েছে, তার তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানির সময় বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আজ সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেন।
এই আদেশে পাঁচ জেলা শহরে অবৈধভাবে পুকুর ভরাট ও দখল বন্ধে ১৫ দিনের মধ্যে সাত সদস্যবিশিষ্ট মনিটরিং কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। কমিটিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি থাকবেন। পুকুরের রেকর্ডে থাকা পুকুর যাতে কেউ দখল বা ভরাট করতে না পারেন, সে বিষয়ে মনিটরিং কমিটিকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ২০০০ সালের জলধার সংরক্ষণ আইনের ৬ ধারা অনুসারে বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা পুকুর এর অন্তর্ভুক্ত হবে না।
এই রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) এর প্রেসিডেন্ট ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী নাসরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।
মনজিল মোরসেদ প্রথম আলোকে জানান, বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম শহরে রেকর্ড করা পুকুরগুলো রক্ষায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং পুকুরগুলো কার্যকরভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০০০ সালের জলাধার সংরক্ষণ আইনের ৬ ধারা অনুসরণ করে যাঁরা পুকুরের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করেছেন, তাঁরা ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে দখল-ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৮ ধারা অনুসারে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।
"বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম শহরে রেকর্ড করা পুকুরগুলো রক্ষায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং পুকুরগুলো কার্যকরভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।"
এইচআরপিবির প্রেসিডেন্ট মনজিল মোরসেদ আরও জানান, পরিবেশসচিব, অর্থসচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বগুড়া, বরিশাল, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম জেলা শহর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মনজিল মোরসেদ, ফাতেমা আনোয়ারের, শিকদার মাহমুদুর রাজী, নাসরিন সুলতানা, নূর মোহাম্মদ আজমী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ মাস (তালিকা জমা দিতে), ১৫ দিন (মনিটরিং কমিটি গঠন), ৬ ধারা (জলধার সংরক্ষণ আইন), ৮ ধারা (পরিবেশ সংরক্ষণ আইন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!