📌 বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬০ শতাংশের বেশি ব্যয় হয় ওষুধ ক্রয়ে। সরকারি নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতার কারণে ওষুধের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় শিল্পের বিকাশ সত্ত্বেও রোগীদের ওপর চাপ কমছে না
বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬০ শতাংশের বেশি ব্যয় হয় ওষুধ ক্রয়ে। এই ব্যয়ের বেশিরভাগই বহন করতে হয় রোগীদের নিজেদেরকেই। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধের সরবরাহ পর্যাপ্ত না হওয়ায় জনগণের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। ওষুধের মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সরকারের দুর্বল নিয়ন্ত্রণের কারণে দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬০ শতাংশ ব্যয় হয় ওষুধ ক্রয়ে
- 📌 সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধের সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়
- 📌 ওষুধের মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সরকারের দুর্বল নিয়ন্ত্রণ
- 📌 স্থানীয় শিল্পের বিকাশ সত্ত্বেও দাম বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত
- 📌 অত্যাবশ্যকীয় ১১৭টি ওষুধের দাম দীর্ঘদিন সমন্বয় না হওয়ায় বাজারে সরবরাহ ঘাটতি
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬০ শতাংশের বেশি ব্যয় হয় ওষুধ ক্রয়ে। এই ব্যয়ের বেশিরভাগই বহন করতে হয় রোগীদের নিজেদেরকেই। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধের সরবরাহ পর্যাপ্ত না হওয়ায় জনগণের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। ওষুধের মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সরকারের দুর্বল নিয়ন্ত্রণের কারণে দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আজ শনিবার বিকেলে ‘ওষুধের দাম: কী যুক্তি? কার যুক্তি? সমাধান কী?’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এসব বিষয় উঠে আসে। ওয়েবিনারটি আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)। এতে রোগীদের ওষুধের খরচ সহনশীল রাখা, ওষুধশিল্পের সুষ্ঠু বিকাশ, ওষুধের দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়া এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে অংশ নেন শিক্ষক, আইনজীবী, জনস্বাস্থ্যবিদ এবং ওষুধশিল্পের প্রতিনিধিরা। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০০৬ ও ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি–২০০৬ বাতিলের সমালোচনা করে জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন বলেন, অংশীজনদের মতামত পুরোপুরি প্রতিফলিত না হওয়ায় পুরো ব্যবস্থাটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর ফলে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।
‘অংশীজনদের, বিশেষ করে ঔষধ শিল্প মালিক যারা তাদের মতামত পুরোটা প্রতিফলিত হয়নি এমন অজুহাতে পুরো জিনিসটাকে বাতিল করা হলো। পুরো ওষুধের বাজারটাকে খোলাবাজারে নিয়ে গেলেন। যেখানে প্রতিযোগিতার বদলে সিন্ডিকেট হয়।’
রেনাটা লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কায়সার কবির বলেন, স্থানীয় বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে বাংলাদেশে ওষুধ তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। দেশের বাজারে সরাসরি মূল্য নিয়ন্ত্রণ কার্যকর নয়। মূল্য নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিল রোগগুলোর চিকিৎসার দায়িত্ব সরকারের নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশে ওষুধের চাহিদার ৯৮ শতাংশ স্থানীয় শিল্প থেকেই সরবরাহ করা হয় উল্লেখ করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএপিআই) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, প্রায় সব রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেশেই তৈরি হচ্ছে। মানসম্মত ওষুধ উৎপাদনে ওষুধের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় অত্যাবশ্যকীয় ১১৭টি ওষুধের দাম সমন্বয় না করায় কিছু ওষুধ এখন বাজারে পাওয়া যায় না। কারণ, নেতিবাচক মুনাফা হওয়ায় কোম্পানিগুলো সেগুলো তৈরি করছে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ১১৭টি ওষুধের দাম নির্ধারণের বিধান থাকলেও ১৯৯৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সেই দাম সমন্বয় করা হয়নি। এর ফলে অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ওষুধের মূল্য সমন্বয়ের দায়িত্ব সরকার পরিচালিত কমিটির হাতে থাকায় জনরোষের আশঙ্কায় মূল্য সমন্বয় আটকে থাকে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ১৯৮২ সালের ড্রাগস কন্ট্রোল অর্ডিন্যান্সে সরকারকে সব ধরনের ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে নতুন আইন করে সরকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করেছে। এই আইনে সরকার শুধুমাত্র নির্দিষ্ট তালিকার ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। তবে সেই তালিকা এখনো তৈরি হয়নি।
‘২০২৪ সালের আগস্ট মাসে উৎপাদন হয়েছে এমন এক ওষুধের গায়ে মূল্য লেখা ৪০০ টাকা। সেপ্টেম্বরে উৎপাদন তারিখ লেখা ওই ওষুধের দাম আবার ১ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ৬০০ টাকা দাম বেড়েছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক বলেন, এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য ৮৩০ কোটি টাকার ওষুধ সরবরাহ করেছিল। তবে এটি চাহিদার তুলনায় এখনো পর্যাপ্ত নয়। তিনি সরকারি ওষুধ খোলাবাজারে বিক্রি বন্ধে তদারকির আহ্বান জানান।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তিবর্গ: মুশতাক হোসেন, হোসেন জিল্লুর রহমান, কায়সার কবির, মোসাদ্দেক হোসেন, সৈয়দ আবদুল হামিদ, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, রুমানা হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ শতাংশ, ৯৮ শতাংশ, ১১৭টি, ৪০০ টাকা, ৬০০ টাকা, ৮৩০ কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!