📌 গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশের নিটওয়্যার শিল্প ধ্বংসের মুখে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেছেন। ক্রয়াদেশ অন্যত্র চলে যাওয়ার আশঙ্কা ও শ্রমিকদের বেতন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে শিল্পমালিকরা
গ্যাস সংকটের কারণে দেশের নিটওয়্যার শিল্প মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি আদেশ অন্যত্র স্থানান্তরিত হচ্ছে এবং শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গ্যাস সংকট শুরু হয়েছে গত ২০ জুলাই থেকে, প্রায় এক মাস ধরে চলছে সংকট
- 📌 উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসের পর দুই দিন গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও আবারও বন্ধ হয়ে যায়
- 📌 ক্রয়াদেশ অন্যত্র স্থানান্তরের আশঙ্কায় ক্রেতারা শঙ্কিত এবং আগামী মৌসুমের বেশ কিছু আদেশ ইতোমধ্যেই অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
- 📌 বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন
- 📌 গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তিনি
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেছে। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, গ্যাস সংকটের কারণে দেশের নিটওয়্যার শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। গত ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া গ্যাস সংকট প্রায় এক মাস ধরে চলছে। এই সময়ে একপর্যায়ে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে ১০ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও মাত্র দুই দিন পর আবারও সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
মোহাম্মদ হাতেম জানান, গ্যাস সংকটের কারণে রপ্তানি আদেশ সময়মতো জাহাজীকরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ক্রয়াদেশ অন্যত্র চলে যাচ্ছে। ক্রেতারা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাঁদের দেওয়া ক্রয়াদেশ নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করা যাবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ কারণে আগামী মৌসুমের বেশ কিছু ক্রয়াদেশ ইতোমধ্যেই অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পমালিকেরা শ্রমিকদের বেতন পরিশোধেও সমস্যায় পড়েছেন। তিনি জানান, জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। গ্যাস বিল পরিশোধে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হলে সংকটকালে যেন তাদের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা হয় সে বিষয়েও জোর দাবি জানান তিনি।
এ ছাড়া সরকারকে প্রতি সপ্তাহে ব্রিফিং করে পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য জানাতে হবে বলে উল্লেখ করেন মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, পুরো বিষয় নিয়ে শিল্পমালিকরা অন্ধকারে রয়েছেন। প্রতিনিয়ত নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। গণপরিবহন ছাড়া অন্যান্য যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখারও দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৮ থেকে ১০ শতাংশ সিস্টেম লস রয়েছে। অর্থাৎ এই পরিমাণ গ্যাস নিয়মিত চুরি বা অপচয় হচ্ছে। অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা গেলে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহের সংকট কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব। গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হতে পারে বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
"গ্যাস সংকটের কারণে দেশের নিটওয়্যার শিল্প মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ক্রয়াদেশ অন্যত্র চলে যাচ্ছে এবং শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সরকারের কাছে আমাদের ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নারায়ণগঞ্জ, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ হাতেম (বিকেএমইএ সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ (জুলাই), ১০ (আগস্ট), ১২ (মাস), ৮-১০ (শতাংশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!