📌 স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে ৪২ শতাংশ বাংলাদেশি আর্থিক চাপে পড়ছে। ২০২২ সালে শুধু এই কারণে ৭২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।
চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে বাংলাদেশের প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ আর্থিক কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালে শুধু স্বাস্থ্য ব্যয়ের কারণে ৭২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। গবেষণায় ব্যবহৃত তথ্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০০৫, ২০১০, ২০১৬ ও ২০২২ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে ৪২ শতাংশ মানুষ আর্থিক চাপে পড়ছে
- 📌 ২০২২ সালে স্বাস্থ্য ব্যয়ের কারণে ৭২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে
- 📌 ২০০৫ সালে ২৮.২ শতাংশ মানুষ আর্থিক কষ্টে ছিল, ২০২২ সালে তা বেড়ে ৪১.৭ শতাংশ হয়েছে
- 📌 ২০০৫ সালে চিকিৎসার জন্য নিজের পকেট থেকে খরচ করত ৫২.৫ শতাংশ মানুষ, ২০২২ সালে তা বেড়ে ৯২.৭ শতাংশ হয়েছে
- 📌 ২০০৫ সালে চিকিৎসার গড় খরচ ছিল ৭০৯ টাকা, ২০২২ সালে বেড়ে ৩ হাজার ৪৯৩ টাকা হয়েছে
- 📌 বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার গড় খরচ ৪ হাজার ৮০৮ টাকা, সরকারি হাসপাতালে ২ হাজার ৬৮৮ টাকা
- 📌 ওষুধ ও রোগনির্ণয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়
📰 বিস্তারিত
স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্টের ফোকাল পয়েন্ট সুব্রত পাল গবেষণা ফলাফল উপস্থাপনের সময় বলেন, আর্থিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে দেশে স্ববিরোধী পরিস্থিতি দেখা যায়। ২০০৫ সালে দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ দরিদ্র ছিল, কিন্তু সেই সময় আর্থিক কষ্টে ছিল ১২.৫ শতাংশ মানুষ। ২০২২ সালে দরিদ্র মানুষের হার কমে ১৮.৭ শতাংশ হলেও আর্থিক চাপে থাকা মানুষের হার বেড়ে ৩২.১ শতাংশ হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে আর্থিক কষ্ট বেড়ে চলেছে। ২০০৫ সালে স্বাস্থ্য ব্যয়ের কারণে আর্থিক কষ্টে ছিল ২৮.২ শতাংশ মানুষ। ২০২২ সালে এই হার বেড়ে ৪১.৭ শতাংশ হয়েছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, চিকিৎসার জন্য নিজের পকেট থেকে খরচ করার হার ২০০৫ সালে ছিল ৫২.৫ শতাংশ, যা ২০২২ সালে বেড়ে ৯২.৭ শতাংশ হয়েছে।
গবেষণায় স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয়ের পরিসংখ্যান প্রদান করা হয়নি, তবে দেখা গেছে, চিকিৎসার জন্য নিজের পকেট থেকে খরচ করার হার বেড়ে চলেছে। ২০০৫ সালে চিকিৎসার জন্য একটি খানার গড় ব্যয় ছিল ৭০৯ টাকা, যা ২০২২ সালে বেড়ে ৩ হাজার ৪৯৩ টাকা হয়েছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার গড় খরচ ৪ হাজার ৮০৮ টাকা, যেখানে সরকারি হাসপাতালে তা ২ হাজার ৬৮৮ টাকা।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত অনুষ্ঠানে বলেন, উপস্থাপিত ফলাফল বেহাল স্বাস্থ্য খাতের এক অপূর্ব নিদর্শন। তিনি বলেন, ২০০৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল ফ্যাসিস্ট সরকার। সুতরাং যে চিত্র গবেষণায় উঠে এসেছে, তার দায় বিএনপি সরকারের ওপর বর্তায় না।
"আর্থিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে দেশে একধরনের স্ববিরোধী পরিস্থিতি দেখা যায়। ২০০৫ সালে দরিদ্র মানুষের হার ছিল ৪০ শতাংশ, কিন্তু আর্থিক কষ্টে ছিল ১২.৫ শতাংশ। ২০২২ সালে দরিদ্র মানুষের হার কমে ১৮.৭ শতাংশ হলেও আর্থিক চাপে থাকা মানুষের হার বেড়ে ৩২.১ শতাংশ হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (গবেষণা উপস্থাপন অনুষ্ঠান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুব্রত পাল, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪২ শতাংশ, ৭২ লাখ, ২০০৫-২০২২, ২৮.২ শতাংশ, ৪১.৭ শতাংশ, ৫২.৫ শতাংশ, ৯২.৭ শতাংশ, ৭০৯ টাকা, ৩ হাজার ৪৯৩ টাকা, ২ হাজার ৬৮৮ টাকা, ৪ হাজার ৮০৮ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!