📌 বন্যা ও ভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার এবার প্রকৃতির শক্তিকে কাজে লাগাতে চাইছে। শক্ত শিকড়যুক্ত ‘বিন্না ঘাস’ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই উদ্যোগের পরিকল্পনা করা হয়
বাংলাদেশ সরকার বন্যা ও ভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকৃতির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সড়ক, বাঁধ ও নদীর তীর রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য শক্ত শিকড়যুক্ত ‘বিন্না ঘাস’ ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই বিষয়টি আলোচনায় আসে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিন্না ঘাস ব্যবহারের সম্ভাবনা আলোচিত হয়
- 📌 বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বিন্না ঘাস নিয়ে গবেষণা উপস্থাপন করেন
- 📌 অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে গঠিত হবে কারিগরি কমিটি
- 📌 বিন্না ঘাসের শিকড় মাটির ক্ষয় রোধে ৭৮ শতাংশ বেশি কার্যকর বলে গবেষণায় প্রমাণিত
- 📌 এলজিইডি ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৭১ কিলোমিটার সড়কে বিন্না ঘাস রোপণ করেছিল
📰 বিস্তারিত
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায় প্রতিবছরই বাংলাদেশে সড়ক, বাঁধ ও নদীর তীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব স্থাপনা রক্ষায় সরকার এর আগে কংক্রিট, পাথর ও জিও ব্যাগ ব্যবহারের মতো ব্যয়বহুল ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে এবার প্রকৃতির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব সমাধান খুঁজছে সরকার। শক্ত শিকড়যুক্ত ‘বিন্না ঘাস’ ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই বিষয়টি আলোচনায় আসে।
সভা থেকে বিন্না ঘাস ব্যবহারের বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহ-উপাচার্য ও পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম। তাঁর গবেষণায় দেখা গেছে, বিন্না ঘাসের শিকড় মাটির ক্ষয় রোধে অত্যন্ত কার্যকর। শিকড়যুক্ত মাটির গড় সহনশীলতা শিকড়বিহীন মাটির তুলনায় ৭৮ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে শিকড়যুক্ত মাটি ৫১৫ শতাংশ বেশি বিকৃতি সহ্য করতে পারে।
সভা শেষে সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে বিন্না ঘাস ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে একটি কারিগরি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিন্না ঘাস ব্যবহারের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে পরিকল্পনা কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
"বিন্না ঘাসের শক্ত শিকড় মাটির কণাকে আঁকড়ে ধরে রাখে। ফলে পানির প্রবাহ ধীর হয় এবং মাটি সহজে সরে যেতে পারে না। এটি প্রকৃতির দেওয়া এক ধরনের প্রাকৃতিক জালের মতো কাজ করে।"
বিন্না ঘাসের ইংরেজি নাম ‘ভেটিভার গ্রাস’। বৈজ্ঞানিক নাম ‘ভেটিভেরিয়া জিজানিওইডিস’। বাংলায় খাসখাস বা খসখস ঘাস নামেও পরিচিত। বিদেশে ‘ভেটিভার’ নামে পরিচিত এই ঘাস পাহাড়ের ক্ষয়রোধে অত্যন্ত কার্যকর বলে গবেষকেরা একে ‘জাদুর ঘাস’ বলে অভিহিত করেছেন। অস্ট্রেলিয়া, চীন, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনামসহ শতাধিক দেশে ক্ষয় নিয়ন্ত্রণে এই ঘাস ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশেও উপকূলীয় এলাকায় এর স্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা গেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সচিবালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৮ শতাংশ, ৫১৫ শতাংশ, ১৭১ কিলোমিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!