📌 ১৯৯৪ সালে সরকার নির্ধারিত অত্যাবশ্যকীয় ১১৭টি ওষুধের বেশিরভাগই এখন বাজারে দুষ্প্রাপ্য। উৎপাদন খরচ ও মূল্য সমন্বয় না হওয়ায় কোম্পানিগুলো উৎপাদন বন্ধ করেছে। সাধারণ মানুষকে উচ্চমূল্যে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা দাম নির্ধারণ ও তদারকি জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন
ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রিকশাচালক আমির আলী ও গাড়িচালক মেহেদীর মতো অসংখ্য সাধারণ মানুষ এখন অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংকটে ভুগছেন। সরকার নির্ধারিত অত্যাবশ্যকীয় ১১৭টি ওষুধের বেশিরভাগই এখন বাজারে দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। ফলে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ না পেয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে রোগীদের।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরকার নির্ধারিত অত্যাবশ্যকীয় ১১৭টি ওষুধের অধিকাংশই এখন বাজারে দুষ্প্রাপ্য
- 📌 উৎপাদন খরচ ও মূল্য সমন্বয় না হওয়ায় কোম্পানিগুলো উৎপাদন বন্ধ করেছে
- 📌 সাধারণ মানুষকে উচ্চমূল্যে ওষুধ কিনতে হচ্ছে, যার ব্যয় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত
- 📌 বিশেষজ্ঞরা দাম নির্ধারণ ও তদারকি জোরদারের পাশাপাশি উৎপাদন খরচ ও ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রাখার তাগিদ দিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রিকশাচালক আমির আলী জানান, তার প্রেসক্রিপশনে থাকা ব্যথার ওষুধটি বিনামূল্যে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, "সব ওষুধই দিয়েছে। তবে দুইটা ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হবে। বাইরে ওষুধ কিনতে গেলে আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা লাগে।" অন্যদিকে গাড়িচালক মেহেদী জানান, তিনি কোনো ওষুধই বিনামূল্যে পাননি। তার মতে, "এগুলো যদি পেতাম, অনেক সুবিধা হতো। বাইরে থেকে দুই-তিন হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হতো। আমাদের ড্রাইভারদের এমনিতেই অনেক সমস্যা চলছে, কষ্টে আছি।"
সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৯৪ সালে সরকার অত্যাবশ্যকীয় ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। তবে সময়ের সঙ্গে ওষুধ প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটেছে। ফলে তালিকায় থাকা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ব্যথার ওষুধ এখন বাজারে পাওয়া যায় না। রাজধানীর একজন ওষুধ ব্যবসায়ী বলেন, "এগুলো এখন পাওয়া যায় না। আমাদের কাছে নিফেডিপিন আছে, কিন্তু অন্যগুলো নেই। তারা বলছে, আপাতত কাঁচামালের সংকট আছে। পরে আবার আসবে।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি দুই বছর পরপর ওষুধের দাম সমন্বয় করার কথা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ওষুধ তৈরির খরচ বেড়েছে, অথচ দাম বাড়ানো হয়নি। ফলে উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারমূল্যের সামঞ্জস্য না থাকায় বাধ্য হয়ে কিছু ওষুধের উৎপাদন বন্ধ করেছে কোম্পানিগুলো। তিনি আরও বলেন, "অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ওষুধের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা বেশি জরুরি। কারণ দাম বেশি হলে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারবে না। আবার দাম খুব কম হলে কোম্পানিগুলো ওষুধ উৎপাদনে আগ্রহ হারাবে। এতে শেষ পর্যন্ত রোগীরাই ওষুধের সংকটে পড়বেন।"
"একজন মানুষের নিজের পকেট থেকে যে চিকিৎসা খরচ হয়, তার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই ওষুধ কেনা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চলে যায়। এই খরচ কমাতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।" — ডা. মোশতাক হোসেন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. শাফিউন নাহিন শিমুল, ডা. মোশতাক হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১৭
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!