📌 গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় সাত দিনে ৭৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ জন হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে এবং ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বাড়ছে। গত সাত দিনে (১২ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৬৩ জন রোগীর ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে ২৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। বিশেষ করে শেষ দুই দিনে (১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর) ১৩৬ জনের পরীক্ষায় ২৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় সাত দিনে (১২-১৯ সেপ্টেম্বর) ৩৬৩ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা, ৭৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত
- 📌 ২৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি, এর মধ্যে ১৮ জনের জ্বর দীর্ঘস্থায়ী
- 📌 শেষ দুই দিনে (১৮-১৯ সেপ্টেম্বর) ১৩৬ জনের পরীক্ষায় ২৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত — শনাক্তের হার ১৯.১%
- 📌 ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, আগের তুলনায় জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে এবং ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে
- 📌 রোগীরা জানান, অনেকের জ্বর দুই-পাঁচ দিন ধরে থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে তা দীর্ঘায়িত হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কালে ৩৬৩ জন রোগীর ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ পরীক্ষা করা হয়েছে ১৮ সেপ্টেম্বর (৮২ জন) এবং সর্বনিম্ন ১৬ সেপ্টেম্বর (৩৮ জন)। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১২ সেপ্টেম্বর ৫০ জনের মধ্যে ১২ জন, ১৩ সেপ্টেম্বর ৪৮ জনের মধ্যে ৮ জন, ১৪ সেপ্টেম্বর ৪৩ জনের মধ্যে ৯ জন, ১৫ সেপ্টেম্বর ৪৮ জনের মধ্যে ১১ জন এবং ১৬ সেপ্টেম্বর ৩৮ জনের মধ্যে ৮ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর ৫৪ জনের মধ্যে ১২ জন এবং ১৮ সেপ্টেম্বর ৮২ জনের মধ্যে ১৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, আগের তুলনায় জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে এবং ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। তিনি বলেন, "হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি নেই। তবে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর তথ্য সমন্বয় করলে উপজেলার ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যেতে পারে।"
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে কেউ কেউ জানান, তাদের জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়েছে। দরদরিয়া গ্রামের রবিন আহমেদ (২৫) বলেন, তিনি ১৮ দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি হন। আড়াল গ্রামের রমজান জানান, তিনি দুই দিন ধরে জ্বরে ভোগার পর হাসপাতালে ভর্তি হন। বীর উজলী গ্রামের রইস উদ্দিন পাঁচ দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। উত্তর খামের গ্রামের কামাল হোসেন জানান, হঠাৎ জ্বর আসার পর পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। শিক্ষার্থী আনাছও পাঁচ-ছয় দিন জ্বরে ভোগার পর ডেঙ্গু শনাক্ত হন। তরগাঁওয়ের যোবায়ের হোসেন জ্বরের সঙ্গে পেটব্যথার কথা জানিয়েছেন।
"আগের তুলনায় জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে এবং ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি নেই।"
— ডা. হাবিবুর রহমান, কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কাপাসিয়া উপজেলা, গাজীপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. হাবিবুর রহমান, রবিন আহমেদ, রইস উদ্দিন, কামাল হোসেন, রমজান, আনাছ, যোবায়ের হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৪ জন ডেঙ্গু শনাক্ত, ২৩ জন হাসপাতালে ভর্তি, ৩৬৩ জন পরীক্ষা করা, ১৩৬ জনের পরীক্ষা শেষ দুই দিনে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!