📌 বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ঘোষণা করেছে মানহীন ওষুধের উৎপাদন ও বিতরণে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির বিরুদ্ধে 'শূন্য সহনশীলতা' নীতি কার্যকর করা হবে। এছাড়াও ফার্মাসিস্ট নিয়োগ ও ফার্মাকোভিজিল্যান্স ব্যবস্থা জোরদার করার কথা জানানো হয়েছে
বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে মানহীন ওষুধের উৎপাদন ও বিতরণে নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি ওষুধের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য নতুন নীতিমালা জোরদার করা হবে। ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন বলেছেন, ওষুধ সাধারণ ভোগ্যপণ্য নয়, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে নিবন্ধিত অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৩২২টি, এর মধ্যে সক্রিয় ২৫৮টি। শীর্ষ ৩০টি প্রতিষ্ঠান ডব্লিউএইচও মানদণ্ড অনুসরণ করে মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন করছে।
- 📌 দেশে সোয়া দুই লাখ ফার্মেসির মধ্যে ১ লাখ ৮৫ হাজার নিবন্ধিত। অনুমোদনহীন ফার্মেসির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে।
- 📌 অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির বিরুদ্ধে 'শূন্য সহনশীলতা' নীতি কার্যকর করা হবে এবং ফার্মেসিতে প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
- 📌 ওষুধের উৎপাদন থেকে বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নজরদারি জোরদার করা হবে, বিশেষ করে রাসায়নিক অপদ্রব্য ও বিষাক্ততার পরীক্ষা বাড়ানো হবে।
- 📌 ফার্মাকোভিজিল্যান্স ব্যবস্থা জোরদার করে ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দ্রুত শনাক্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
- 📌 ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রতি ১০ জন রোগীর একজন স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সময় ক্ষতির শিকার হন, যার অর্ধেক প্রতিরোধযোগ্য।
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর আজ বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘অসংক্রামক ব্যাধির নিরাপদ চিকিৎসা’ এই বছর দিবসের প্রতিপাদ্য। তিনি জানান, ওষুধের উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের প্রতিটি ধাপে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড অনুসরণ করে সিংহভাগ মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন করছে শীর্ষ ৩০টি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০০টি উৎপাদন কারখানা রয়েছে। অন্যদিকে, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ঘোষণা করেছে, মানহীন ও অপ্রয়োজনীয় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ওষুধের গুণগত মান, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে কাঁচামাল থেকে প্রস্তুত ওষুধ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা করা হবে।
ওষুধ প্রশাসনের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেন বলেন, ‘বিরূপ ওষুধ প্রতিক্রিয়ার তথ্য দ্রুত রিপোর্ট করা গেলে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করে রোগীর নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব।’ তিনি বলেন, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া নজরদারি জরুরি, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল চিকিৎসায়।
অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার কমাতে সরকারি হাসপাতালগুলোতেও ফার্মাসিস্ট নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ফার্মাসিস্টদের দায়িত্ব দেওয়া হলে অপব্যবহার কমানো সম্ভব। ভারত ও মালয়েশিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ফার্মাসিস্ট ছাড়া ফার্মেসি পরিচালনার সুযোগ নেই। বাংলাদেশে তিন মাসের কোর্সের মাধ্যমে ‘সি গ্রেডের ফার্মাসিস্ট’ তৈরি করা হলেও তাঁদের অনেকের অ্যান্টিবায়োটিক সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই।’
"ওষুধ সাধারণ ভোগ্যপণ্য নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে হবে।"
ওষুধ ও প্রসাধনী আইন ২০২৩ অনুযায়ী, ওষুধ প্রস্তুতকারকদের ফার্মাকোভিজিল্যান্স ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার তথ্য রিপোর্টের আইনি বাধ্যবাধকতা আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও ওষুধের প্যাকেটে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আলমগীর হোসেন (মহাপরিচালক), ড. মো. আকতার হোসেন (পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২২টি নিবন্ধিত ওষুধ প্রতিষ্ঠান, ২৫৮টি সক্রিয়, ১০০টি উৎপাদন কারখানা, ২ লাখ ফার্মেসি, ১ লাখ ৮৫ হাজার নিবন্ধিত ফার্মেসি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!