📌 সাংসদীয় কমিটির বৈঠকে শেখ হাসিনা প্রত্যর্পণের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ ও ভারতের সাথে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটি জানতে চায় সরকার কীভাবে চুক্তির আলোকে প্রত্যর্পণ চেষ্টা করছে। এছাড়াও রোহিঙ্গা বিষয় ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগের কথা আলোচিত হয়
সাংসদীয় কমিটির বৈঠকে শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনার বিষয়ে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ ও ভারতের সাথে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার জন্য সরকার ভারতকে বারবার তাগাদা দিচ্ছে। কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাংসদীয় কমিটি জানতে চায় সরকারের শেখ হাসিনা প্রত্যর্পণের সম্পূর্ণ প্রতিবেদন ও ভারতের সাথে আলোচনার অগ্রগতি
- 📌 পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী(১) হুমায়ুন কবির বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে কোনো শর্ত নেই, শুধুমাত্র প্রত্যর্পণ চুক্তির আলোকে কাজ চলছে
- 📌 শরিফ ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরত আনার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানানো হয়
- 📌 রোহিঙ্গা বিষয়ে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
- 📌 আগামী অক্টোবরে সাংসদীয় কমিটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিজিট করবে এবং সেখানে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে
- 📌 অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, মাইগ্রেশন উইং চালু করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনার বিষয়ে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ ও ভারতের সাথে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী জানান, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা আমাদের সরকারের অন্যতম এজেন্ডা। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে থাকা দুই প্রতিমন্ত্রীই জানিয়েছেন, তাঁরা কাজ করছেন। শেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে মন্ত্রণালয় কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তার প্রতিবেদন সাংসদীয় কমিটিতে জানানোর জন্য সুপারিশ করেছি।’
বৈঠকে জানানো হয়, শেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে সরকার ভারতকে বারবার তাগাদা দিচ্ছে। এ বিষয়ে কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী(২) শামা ওবায়েদ ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, এস কে আজিজুল বারী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন ও সানজিদা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ আমন্ত্রণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী(১) হুমায়ুন কবিরও অংশগ্রহণ করেন। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা তাঁকে অবশ্যই ফেরত চাবি, তবে সেটা কোনো শর্তযুক্ত নয়। কোনো কিছুর বিনিময়ে নয়। তাঁকে ফেরত দিতেই হবে।’
বৈঠকে আরও জানানো হয়, শরিফ ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরত আনার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। কমিটির সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল ও এ বি এম মোশাররফ হোসেন বিষয়টি উত্থাপন করেন। রোহিঙ্গা বিষয়ে কমিটি জানায়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে হবে। তবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে গুরুত্বারোপ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
রোহিঙ্গা বিষয়ে জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, ‘ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংসদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করি। সেসব জায়গায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরব।’ এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আরও কার্যকরী উদ্যোগ নিতে মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে বলেছি।’
বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। জানানো হয়, বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত দুর্বলতা ছিল। এ সমস্যা মোকাবিলা করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়াও, নিরাপদ অভিবাসন ও প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মাইগ্রেশন উইং চালু করা হয়েছে।
"আমরা তাঁকে অবশ্যই ফেরত চাবি, তবে সেটা কোনো শর্তযুক্ত নয়। কোনো কিছুর বিনিময়ে নয়। তাঁকে ফেরত দিতেই হবে।"
"শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা আমাদের সরকারের অন্যতম এজেন্ডা। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে থাকা দুই প্রতিমন্ত্রীই জানিয়েছেন, তাঁরা কাজ করছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জহরত আদিব চৌধুরী, হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, এস কে আজিজুল বারী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, সানজিদা ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!