📌 সিরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনী মার্কিন সাংবাদিক অস্টিন টাইসের অপহরণ ছিল পূর্বপরিকল্পিত। গোয়েন্দা নথি ও সাক্ষাতকার থেকে জানা যায়, টাইসের গাড়িচালক সরকারকে তথ্য দিচ্ছিলেন এবং তাঁকে ধরে নিয়ে আসার নির্দেশ আসাদ নিজে দিয়েছিলেন। টাইসের ভাগ্য এখনো অজানা
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মার্কিন সাংবাদিক অস্টিন টাইসের অপহরণ ছিল পূর্বপরিকল্পিত। বিবিসির গবেষণায় উঠে এসেছে, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনী তাঁকে ধরে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছিল। ২০১২ সালের আগস্টে সিরিয়ার বিদ্রোহী এলাকায় প্রতিবেদন করার সময় নিখোঁজ হন টাইস, যিনি সাবেক মার্কিন মেরিন কর্মকর্তা ও জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির আইন শিক্ষার্থী ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ মার্কিন সাংবাদিক অস্টিন টাইসের অপহরণ ছিল পূর্বপরিকল্পিত, বিবিসির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
- 📌 টাইসের গাড়িচালক হামিদ আবু ওবেইদ সরকারকে তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছিলেন এবং এনডিএফকে জানিয়েছিলেন।
- 📌 আসাদের ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বাসাম আল-হাসানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়, ‘তাকে আমাদের কাছে নিয়ে আসুন’।
- 📌 টাইসের গাড়িচালক তাঁর ব্যাগ থেকে ম্যাকবুক ও স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী সরিয়ে নেন।
- 📌 টাইসকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর চোখ বাঁধা অবস্থায় ভিডিওতে দেখা যায়।
- 📌 টাইসের চালক হামিদ আবু ওবেইদকে সিরীয় নাগরিকত্ব ও বাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অপহরণের পর শুধু একটি পিস্তল পেয়েছিলেন।
- 📌 আসাদ সরকারের পতনের পর হামিদ আবু ওবেইদও নিখোঁজ হয়ে যান। টাইসের ভাগ্য এখনো অজানা।
- 📌 এক সিরীয় কমান্ডার দাবি করেছেন, টাইসকে হত্যা করা হয়েছিল, কিন্তু প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
📰 বিস্তারিত
২০১২ সালের ১১ আগস্ট, মার্কিন সাংবাদিক অস্টিন টাইসের ৩১তম জন্মদিন উদযাপন করার পর সিরিয়া ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। লেবাননে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তাঁর গাড়িচালক হামিদ আবু ওবেইদ তাঁকে দামেস্কের উপকণ্ঠের তাহৌনেহ এলাকায় একটি সরকারি স্থাপনায় নিয়ে যান। সেখানে চালক অস্ত্র বের করলে টাইস বিষয়টিকে রসিকতা মনে করেছিলেন। পরে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এরপর এনডিএফ সদস্যরা তাঁকে ধরে চোখ বেঁধে নিয়ে যায়।
বিবিসির অনুসন্ধানে জানা যায়, টাইসের গাড়িচালক হামিদ আবু ওবেইদ দীর্ঘদিন ধরে আসাদ সরকারকে তথ্য দিচ্ছিলেন। তিনি টাইসের গতিবিধি সম্পর্কে এনডিএফকে জানান। বিষয়টি এনডিএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আসাদের ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বাসাম আল-হাসানের কাছে পৌঁছায়। আবু আলীর দাবি, হাসান আসাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর প্রেসিডেন্ট নির্দেশ দেন, ‘তাকে আমাদের কাছে নিয়ে আসুন’। তবে টাইসকে সঙ্গে সঙ্গে অপহরণ করা হয়নি। তাঁর চালককে আরও কিছুদিন তাঁকে নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
টাইস সাবেক মেরিন হওয়ায় বিদ্রোহীদের সামরিক কৌশল ও অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে কখনো কখনো পরামর্শ দিতেন। এ কারণে তাঁকে সিআইএর সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করেছিল কিছু সরকারি কর্মকর্তা। তবে বিবিসি এই ধরনের দাবির কোনো প্রমাণ পায়নি। টাইস গোয়েন্দা কর্মকর্তা ছিলেন না বলে তাঁর মামলার সঙ্গে যুক্ত সাবেক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাও জানিয়েছেন।
"তাকে আমাদের কাছে নিয়ে আসুন" — প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের নির্দেশ, বিবিসির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরিয়া (তাহৌনেহ এলাকা), লেবানন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অস্টিন টাইস, হামিদ আবু ওবেইদ, বাশার আল-আসাদ, বাসাম আল-হাসান, আবু আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ আগস্ট ২০১২, ৩১তম জন্মদিন, ২০ জনেরও বেশি সাক্ষাতকার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!