📌 ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। মানুষের শরীরের ঘ্রাণ অনুকরণে তৈরি বিশেষ ফাঁদে মশা আটকাতে যাচ্ছে হাসপাতালগুলো। আগামী সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে কার্যক্রম
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নতুন এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মানুষের শরীরের ঘ্রাণের অনুকরণে তৈরি বিশেষ ফাঁদে মশাকে আকৃষ্ট করে ধরে রাখার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। আগামী সপ্তাহ থেকে ঢাকার নির্ধারিত ১০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে স্থাপন করা হবে ‘বিজি সেন্টিনেল ট্র্যাপ’ নামের এই ফাঁদগুলো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডিএনসিসি মানুষের শরীরের ঘ্রাণ অনুকরণে তৈরি বিশেষ ফাঁদে মশা ধরতে যাচ্ছে
- 📌 প্রাথমিকভাবে ডেঙ্গু রোগী বেশি ভর্তি হওয়া ১০টি হাসপাতালে স্থাপন করা হবে ফাঁদগুলো
- 📌 ফাঁদগুলোতে ব্যবহৃত ‘বিজি–লিওর’ নামের কৃত্রিম সুগন্ধি মানুষের ত্বকের প্রাকৃতিক গন্ধ অনুকরণ করে
- 📌 ফাঁদগুলোতে ল্যাকটিক অ্যাসিড, অ্যামোনিয়া ও ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো উপাদান ব্যবহৃত হয়
- 📌 ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, ফাঁদগুলো মশার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে
- 📌 কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার মনে করেন, ফাঁদগুলো মূলত পর্যবেক্ষণ যন্ত্র হিসেবে কাজ করবে, মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে না
📰 বিস্তারিত
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। মানুষের শরীরের ঘ্রাণের অনুকরণে তৈরি বিশেষ ফাঁদে মশাকে আকৃষ্ট করে ধরে রাখার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কাছ থেকে সংগ্রহ করা এই ফাঁদগুলোতে কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহৃত হয় না। ফাঁদগুলোতে ব্যবহৃত ‘বিজি–লিওর’ নামের বিশেষ কৃত্রিম সুগন্ধি মানুষের ত্বকের প্রাকৃতিক গন্ধের অনুকরণ করে। এতে ল্যাকটিক অ্যাসিড, অ্যামোনিয়া ও বিভিন্ন ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো উপাদানের গন্ধ ছড়িয়ে মশাকে আকৃষ্ট করা হয়।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, ফাঁদগুলো মূলত মশার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন, মশাকে বন্ধ্যা ও প্রজনন ক্ষমতাহীন করার কৌশল নিয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সঙ্গে ডিএনসিসির গবেষণা ও কারিগরি সহযোগিতা চলছে।
কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার মনে করেন, বিজি সেন্টিনেল ট্র্যাপ মূলত মশা নিধনের যন্ত্র নয়; এটি মশার উপস্থিতি, ঘনত্ব ও বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণের একটি বৈজ্ঞানিক উপকরণ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ফাঁদে কিছু মশা আটকা পড়লেও ব্যাপকভাবে মশা নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা সীমিত।
ফাঁদটির নকশাও মশাকে আকৃষ্ট করতে ভূমিকা রাখে। মানুষের শরীরের তাপ ও বায়ুপ্রবাহের মতো কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে এটি মশাকে ফাঁদের দিকে টেনে আনে। সাদা জালিদার অংশের মাঝখানে থাকা কালো প্রবেশপথটি মশার জন্য দৃষ্টিগত সংকেত হিসেবে কাজ করে। মশা ওই কালো অংশের দিকে উড়ে এলে ভেতরে থাকা বৈদ্যুতিক সাকশন পাখা সেটিকে টেনে ফাঁদের মধ্যে নিয়ে যায়। ভেতরে ঢোকার পর মশাগুলো একটি বিশেষ নেট ব্যাগে জমা হয়। বাতাসের প্রবাহের কারণে সেখান থেকে সহজে বের হতে পারে না। বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলেও ফাঁদের স্বয়ংক্রিয় শাটার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আগে ধরা মশা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় না।
"ফাঁদগুলো মূলত হাসপাতাল এলাকায় এডিস মশার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে। মশাকে বন্ধ্যা ও প্রজনন ক্ষমতাহীন করার কৌশল নিয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সঙ্গে ডিএনসিসির গবেষণা ও কারিগরি সহযোগিতা চলছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, অধ্যাপক কবিরুল বাশার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০টি হাসপাতাল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!