📌 বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্র (ক্যাপস) গবেষণা করে দেখেছে, উত্তরা এলাকার খালপাড়ে প্রতি ঘনমিটারে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ১৪৪ মাইক্রোগ্রাম, যেখানে নিকুঞ্জে তা ৩৫ মাইক্রোগ্রামের নিচে। ২৭ কিলোমিটার দূরত্বে এই বিরাট পার্থক্য দেখা গেছে।
ঢাকার উত্তরা থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত মাত্র ২৭ কিলোমিটার দূরত্বে বায়ুদূষণের মাত্রা চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্র (ক্যাপস) গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তরা এলাকার খালপাড়ে প্রতি ঘনমিটারে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ১৪৪ মাইক্রোগ্রাম, যেখানে সবচেয়ে নির্মল বাতাস পাওয়া গেছে নিকুঞ্জ এলাকায় — সেখানে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ৩৫ মাইক্রোগ্রামের নিচে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যমুনা ফিউচার পার্কে প্রতি ঘনমিটারে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ১১৭ মাইক্রোগ্রাম, যা নির্ধারিত মানের চার গুণ বেশি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উত্তরা খালপাড়ে প্রতি ঘনমিটারে পিএম ২.৫ মাত্রা ১৪৪ মাইক্রোগ্রাম, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত ৫ মাইক্রোগ্রামের অনেক বেশি
- 📌 নিকুঞ্জ এলাকায় পিএম ২.৫ মাত্রা ৩৫ মাইক্রোগ্রামের নিচে — রাজধানীর সবচেয়ে নির্মল বাতাস
- 📌 যমুনা ফিউচার পার্কে প্রতি ঘনমিটারে পিএম ২.৫ মাত্রা ১১৭ মাইক্রোগ্রাম, খালপাড়ের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ
- 📌 মালিবাগ থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত এলাকায় পিএম ১০-এর মাত্রা ৮১৩ মাইক্রোগ্রাম — নির্ধারিত মানের ২০ গুণ বেশি
- 📌 ১০টি বাস পরীক্ষায় ৮টি লাল কার্ড পায় — যাত্রী পরিবহনের অনুপযোগী
- 📌 ট্রাফিক পুলিশ ও গণপরিবহনের যাত্রীরা দূষিত বাতাসের সরাসরি সংস্পর্শে আসেন
📰 বিস্তারিত
বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্র (ক্যাপস) গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তরা থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়কপথে বায়ুমানের দূষণ মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়। উত্তরা খালপাড়ে প্রতি ঘনমিটারে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ১৪৪ মাইক্রোগ্রাম, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত ৫ মাইক্রোগ্রামের অনেক বেশি। অন্যদিকে, নিকুঞ্জ এলাকায় পিএম ২.৫-এর মাত্রা ৩৫ মাইক্রোগ্রামের নিচে — যা বাংলাদেশের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ নির্ধারিত মান। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যমুনা ফিউচার পার্কে প্রতি ঘনমিটারে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ১১৭ মাইক্রোগ্রাম, যা খালপাড়ের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
গবেষণায় পিএম ১০-এর মাত্রাও উদ্বেগজনক মাত্রায় পাওয়া গেছে। উত্তরা খালপাড়ে প্রতি ঘনমিটারে পিএম ১০-এর পরিমাণ ৮১৩ মাইক্রোগ্রাম, যমুনা ফিউচার পার্কে ৫৫৭ মাইক্রোগ্রাম এবং নতুন বাজার এলাকায় ৩৯৯ মাইক্রোগ্রাম। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী, প্রতি ঘনমিটারে পিএম ১০-এর মানমাত্রা ১০০ মাইক্রোগ্রাম। অর্থাৎ খালপাড়ে এর উপস্থিতি নির্ধারিত মানের আট গুণ বেশি।
গবেষণায় দেখা গেছে, সড়কের ধুলা ও গাড়ির কালো ধোঁয়া মিশে বায়ুমানের যথেষ্ট অবনতি ঘটায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে মাটির ধুলাও বাতাসে মেশে। ট্রাফিক পুলিশ ও গণপরিবহনের যাত্রীরা সরাসরি এসব দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে আসেন। ক্যাপসের গবেষক দল লোকাল বাসে উত্তরা থেকে যাত্রাবাড়ী এবং যাত্রাবাড়ী থেকে উত্তরা যাতায়াত করে বাসের ভেতরের বায়ুমান পরীক্ষা করে।
"ঢাকা শহরের লক্ষাধিক মানুষ গণপরিবহনে যাতায়াত করেন। গণপরিবহনের ভেতরের বায়ুমানের পরিস্থিতি কেমন, তা জানতে এটাই প্রথম উদ্যোগ।"
গবেষণায় শুধু বাসের ভেতরের বায়ুমান পরীক্ষা করা হয়নি, বাসগুলোর কাঠামোগত ও পরিবেশগত ফিটনেসও যাচাই করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, পরীক্ষা করা ১০টি বাসের মধ্যে ৮টিই যাত্রী পরিবহনের অনুপযোগী। এসব বাসকে লাল কার্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি দুটি বাস পেয়েছে হলুদ কার্ড। কোনো বাসই সবুজ কার্ড পায়নি। মূল্যায়নে পাঁচটি শ্রেণিতে মোট ২৫টি প্রশ্নের ভিত্তিতে প্রতিটি বাসকে ১০০ নম্বরের মধ্যে মূল্যায়ন করা হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তরা খালপাড়, যমুনা ফিউচার পার্ক, নিকুঞ্জ, মালিবাগ, নতুন বাজার, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার (ক্যাপস চেয়ারম্যান), জিয়াউল হক (পারিবেশ অধিদপ্তর সাবেক পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪৪ মাইক্রোগ্রাম (পিএম ২.৫, খালপাড়), ৩৫ মাইক্রোগ্রাম (পিএম ২.৫, নিকুঞ্জ), ২৭ কিলোমিটার (উত্তরা থেকে যাত্রাবাড়ী), ৮১৩ মাইক্রোগ্রাম (পিএম ১০, খালপাড়), ১০টি বাস পরীক্ষা, ৮টি লাল কার্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!