📌 বাংলাদেশে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া পরীক্ষায় নেগেটিভ হলেও জ্বর, শরীরব্যথা ও ক্লান্তির উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। আইইডিসিআর জানায়, পরিচিত ভাইরাস যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা, আরএসভি বা অ্যাডিনোভাইরাসের সংক্রমণই এর পেছনে হতে পারে
বাংলাদেশে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া পরীক্ষায় নেগেটিভ হলেও জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথার মতো উপসর্গ নিয়ে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন। আইইডিসিআর জানায়, পরিচিত ভাইরাসের সংক্রমণই এর পেছনে হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাহিদুল ইসলাম (চিকিৎসক) ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট জ্বর ও শরীরব্যথায় ভুগেছিলেন, কিন্তু ডেঙ্গু পরীক্ষায় নেগেটিভ পেয়েছিলেন।
- 📌 আইইডিসিআরের ডা. আহমেদ নওশের আলম বলেন, নতুন কোনো ভাইরাস শনাক্ত হয়নি — পরিচিত ভাইরাস যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা, আরএসভি বা অ্যাডিনোভাইরাসের সংক্রমণই জ্বরের কারণ হতে পারে।
- 📌 ডা. নেলসন তাপস মণ্ডল (এনাম মেডিকেল কলেজ) বলেন, পরীক্ষায় ভাইরাস শনাক্ত না হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসকরা উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
- 📌 জ্বর চলে গেলেও সাত দিন পর্যন্ত শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি বজায় থাকে বলে অভিযোগ করেন রোগীরা।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম (৪২) তিন থেকে চার দিন ধরে ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট জ্বর ও শরীরব্যথায় ভুগছিলেন। ডেঙ্গু পরীক্ষায় নেগেটিভ পাওয়ার পরেও চিকিৎসকরা ভাইরাসজনিত জ্বর বলে ধারণা করেছিলেন। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, “পরীক্ষায় নির্দিষ্ট কোনো কারণ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসক তখন এটিকে ভাইরাসজনিত জ্বর বলে ধারণা করেছিলেন। তাই ভাইরাল জ্বর হিসেবেই চিকিৎসা নিয়েছি।”
জ্বর তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সেরে গেলেও সাত দিন পর্যন্ত শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি বজায় ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, “জ্বর চলে যাওয়ার পরও প্রায় সাত দিন শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি ছিল। এবারের জ্বরের অভিজ্ঞতা কিছুটা আলাদা। বিশেষ করে শরীরে শুষ্কতা, ক্লান্তি ও অবসাদ বেশি অনুভব করেছি।”
আইইডিসিআরের ভাইরোলজী বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. আহমেদ নওশের আলম জানান, বর্তমানে নতুন কোনো ভাইরাস শনাক্ত হয়নি। তবে পরিচিত ভাইরাস যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা, রেসপিরেটরি সিনসিশিয়াল ভাইরাস (আরএসভি) বা অ্যাডিনোভাইরাসের সংক্রমণ জ্বরের কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে নতুন কোনো কিছু শনাক্ত হয়নি। আমরা নিয়মিত কিছু পরীক্ষা করি। ইনফ্লুয়েঞ্জা শনাক্তের জন্য আমাদের একটি ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে আসা নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হয়। তবে সারা বাংলাদেশের সব রোগীর পরীক্ষা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”
এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. নেলসন তাপস মণ্ডল বলেন, “আমরা মূলত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া পরীক্ষা করি। কিন্তু পরীক্ষায় কিছু পাওয়া না গেলেও রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসা দিচ্ছি। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা ভাইরাল জ্বর বলে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।”
"কোনো রোগী ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষা করালেন, কিন্তু কিছু পাওয়া গেল না। এরপর চিকিৎসক যদি আর কোনো পরীক্ষা না দেন এবং রোগী সুস্থ হয়ে যান, তাহলে তার জ্বরের নির্দিষ্ট কারণ আর শনাক্ত করা হয় না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (বিশেষত ঢাকা ও বেসরকারি হাসপাতাল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাহিদুল ইসলাম (চিকিৎসক), ডা. আহমেদ নওশের আলম (আইইডিসিআর), ডা. নেলসন তাপস মণ্ডল (এনাম মেডিকেল)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট (জ্বর), ৩-৪ দিন (জ্বর চলমান), ৭ দিন (দুর্বলতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!