📌 বিনোদন মাধ্যমকে জেন্ডার-সংবেদনশীল করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বাজারের চাহিদার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন
ঢাকার প্রথম আলো কার্যালয়ে ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে ‘বিনোদন মাধ্যম ও জেন্ডার-সংবেদনশীলতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নেদারল্যান্ডস সরকারের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিনোদন মাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বিনোদন মাধ্যমকে বাজার ও মুনাফার হিসাবের বাইরে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
- 📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দর্শকের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়।
- 📌 জেন্ডার-সংবেদনশীল বিনোদন মাধ্যম গড়ে তুলতে রাষ্ট্র, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও নির্মাতাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা বলা হয়।
- 📌 মাশফিকা জামান সাটিয়ার জানান, জেন্ডার বৈষম্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে পুরুষের সমস্যাকে সামনে আনা একপেশে ধারণা।
📰 বিস্তারিত
গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন, বিনোদন মাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাণে বাজারের চাহিদা প্রধান ভূমিকা পালন করলেও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, "আমরা এমন এক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আছি, যেখানে বিনোদন মাধ্যমও বাজার ও মুনাফার হিসাবের বাইরে নয়। ফলে যে ধরনের কনটেন্টের চাহিদা বেশি, নির্মাতারা স্বাভাবিকভাবেই সেদিকেই ঝুঁকবেন।" তবে তিনি আরও বলেন, "জেন্ডার-সংবেদনশীল বিনোদন মাধ্যম নিয়ে আলোচনা করতে গেলে শুধু বাজারকে দায়ী করলে হবে না। আমাদের বুঝতে হবে, দর্শকের চাহিদা কীভাবে তৈরি হয় এবং কেন কিছু নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্ট বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।"
মাশফিকা জামান সাটিয়ার বলেন, "জেন্ডার-সংবেদনশীলতা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, যখনই নারীর প্রতি সহিংসতা বা বৈষম্যের কথা বলি, তখনই বলা হয়, পুরুষেরও সমস্যা আছে। এটি একটি একপেশে ধারণা। পুরুষতান্ত্রিক একটি সমাজে বেড়ে ওঠায় নারী–পুরুষ–নির্বিশেষে পিতৃতান্ত্রিকতা দ্বারা কমবেশি প্রভাবিত। কিন্তু এর প্রভাবে যাঁরা কাঠামোগতভাবে বেশি পিছিয়ে আছেন, তাঁদের এগিয়ে না আনলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "সমতার অর্থ সবাইকে একই জায়গায় দাঁড় করানো নয়; বরং যাঁরা পিছিয়ে আছেন, তাঁদের এগিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করা।"
অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, জেন্ডার-সংবেদনশীল বিনোদন মাধ্যম গড়ে তুলতে রাষ্ট্র, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নির্মাতা, গণমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সব পক্ষকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে সংবেদনশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণে নীতিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন তাঁরা।
"পরিবর্তনের শুরু পরিবার থেকে হলেও আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অনলাইননির্ভর সময়ে মানুষের চিন্তা ও আচরণ গঠনে বিনোদন মাধ্যমের প্রভাব অনেক বেশি। আমরা কোনো বিষয় পরিবারে না শিখলেও যদি পর্দায় বারবার সেটিকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখি, তাহলে সেটি ধীরে ধীরে আমাদের মানসিকতার অংশ হয়ে যায়। তাই জেন্ডার-সংবেদনশীল সমাজ গঠনে বিনোদন মাধ্যমের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. জাহেদ উর রহমান, মাশফিকা জামান সাটিয়ার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!