📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি মাদকাসক্তি চিকিৎসাকেন্দ্রে অনুমোদিত শয্যার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকলেও অনুপস্থিত চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও নার্স। কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত বিনোদন ও মানসিক বিকাশের ব্যবস্থাও নেই। জেলা প্রশাসনের তদন্তে উঠে এসেছে অনিয়মের চিত্র
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ছয়টি অনুমোদিত মাদকাসক্তি চিকিৎসাকেন্দ্রে অনুমোদিত শয্যার দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন। তবে কেন্দ্রগুলোতে অনুপস্থিত চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স বা ওয়ার্ড বয়। ফলে চারদেয়ালে বন্দী পরিবেশে চলছে রোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। কেন্দ্রগুলোর পরিচালকরা দাবি করলেও সরেজমিন পরিদর্শনে তাঁদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি মাদকাসক্তি চিকিৎসাকেন্দ্রে অনুমোদিত শয্যার দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেশি রোগী ভর্তি
- 📌 কেন্দ্রগুলোতে অনুপস্থিত চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স বা ওয়ার্ড বয়
- 📌 প্রয়াস মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রোগীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে কেন্দ্রটি বন্ধ
- 📌 জেলায় কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নেই; সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে খণ্ডকালীন চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে
- 📌 কেন্দ্রগুলোর পরিচালকরা জানান, স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগের সামর্থ্য নেই
📰 বিস্তারিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ছয়টি অনুমোদিত মাদকাসক্তি চিকিৎসাকেন্দ্রের মধ্যে চারটি কেন্দ্রে রয়েছে ২০ শয্যা এবং দুটি কেন্দ্রে রয়েছে ১০ শয্যা। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, অশ্রু মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ৬১ জন, প্রত্যয় কেন্দ্রে ৪৩ জন, বার্তা কেন্দ্রে ৪৫ জন এবং প্রত্যাশা কেন্দ্রে ২৬ জনের বেশি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে চিকিৎসা-পরবর্তী পর্যবেক্ষণের জন্য আরও ২০ থেকে ২৫ জন রোগী রয়েছেন।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজেদুল হাসান জানান, জেলায় মাদকাসক্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় কেন্দ্রগুলোতে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত বিনোদন, মানসিক বিকাশের ব্যবস্থা, পৃথক আবাসন বা খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা নেই। সব কেন্দ্রেই চারদেয়ালে বন্দী পরিবেশে চলছে রোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন।
১৮ আগস্ট রাতে প্রয়াস মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রোগী মো. ফোরকানকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরদিন এলাকাবাসীর ভাঙচুরের মুখে কেন্দ্র থেকে ৪০ জন রোগী পালিয়ে যান। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এন এম কায়সার কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে অনিয়মের প্রমাণ পান। কেন্দ্রটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
"জেলায় কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নেই। তাই সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে মনোচিকিৎসক হিসেবে আমি সেবা দিয়ে যাচ্ছি। প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি কেন্দ্রে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় দিই। ওষুধের পাশাপাশি রোগীদের উৎসাহ দিই।"
প্রত্যয় মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক জামাল মিয়া জানান, অভিভাবকদের অনুরোধে অনেক সময় শয্যার চেয়ে বেশি রোগী রাখতে হয়। অশ্রু মাদক নিরাময় কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মোজাম্মেল হক বলেন, স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগের সামর্থ্য নেই কারণ একজন রোগীর কাছ থেকে দুই মাসের জন্য মাত্র ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। অন্যদিকে স্থায়ী চিকিৎসককে মাসে দেড় লাখ টাকা বেতন দিতে হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজেদুল হাসান, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬টি কেন্দ্র, ১০ ও ২০ শয্যা, ৬১ জন রোগী (সর্বোচ্চ), ২০ হাজার টাকা (প্রতি রোগী), দেড় লাখ টাকা (স্থায়ী চিকিৎসক বেতন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!