📌 যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত ‘বিশ্ব পরিবার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাওয়া আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতের বিরুদ্ধে মুসলিম সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আয়োজকদের দাবি অনুষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী সম্প্রীতির বার্তা দেবে, তবে সমালোচকরা একে হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রচার হিসেবে দেখছেন
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিতব্য ‘ইউনিভার্সাল ওননেস সেলিব্রেশন’ নামক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে যাওয়া ভারতীয় হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন আরএসএস-এর প্রধান মোহন ভগবতের বিরুদ্ধে মুসলিম সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। আয়োজকদের দাবি অনুষ্ঠানটি বিশ্বকে ‘এক পরিবার’ হিসেবে তুলে ধরবে, তবে সমালোচকরা একে হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রচার হিসেবে অভিহিত করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিতব্য ‘ইউনিভার্সাল ওননেস সেলিব্রেশন’-এ অংশ নিতে যাওয়া আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত
- 📌 আয়োজকদের দাবি অনুষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী সম্প্রীতির বার্তা দেবে, যেখানে বলা হয়েছে “বিশ্ব হলো এক পরিবার”
- 📌 মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিবাদকারীরা দাবি করেছেন, আরএসএস মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বৈষম্যের ইতিহাসকে ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে
- 📌 ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ‘হাউডি মোদি’ সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও উপস্থিত ছিলেন
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিতব্য ‘ইউনিভার্সাল ওননেস সেলিব্রেশন’ নামক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাওয়া ভারতীয় হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন আরএসএস-এর প্রধান মোহন ভগবতের বিরুদ্ধে মুসলিম সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। আয়োজকদের দাবি অনুষ্ঠানটি বিশ্বকে ‘এক পরিবার’ হিসেবে তুলে ধরবে, যেখানে বলা হয়েছে “বিশ্ব হলো এক পরিবার” এবং “বৃহত্তর শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা”। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিবাদকারীরা দাবি করেছেন, আরএসএস মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বৈষম্যের ইতিহাসকে ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
উত্তর ক্যারোলিনার মুসলিম সম্প্রদায় সংগঠক সাফা আহমেদ নিউইয়র্কে প্রতিবাদে অংশ নিতে এসে আল জাজিরাকে বলেন, “এই আন্দোলন মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মুসলিম পুরুষদের হিন্দু নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের বিরুদ্ধে সহিংসতা স্বাভাবিক করেছে।” তিনি আরও বলেন, “তারা যদিও ঐক্যের কথা বলে, তবে ভারতে সংখ্যালঘুদের রক্তাক্ত বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।”
ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর আদর্শিক পিতা হিসেবে বিবেচিত আরএসএস যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৫ লাখ হিন্দু বসবাস করেন। হিন্দুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’-এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শ্রাব্য তাড়েপল্লী বলেন, “এটি আরএসএস-এর জনসাধারণের চিত্র উন্নয়নের প্রচেষ্টা। এটি একটি ফ্যাসিবাদী আধা-সামরিক সংগঠন, যা দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে সহিংসতা চালিয়ে আসছে।”
তিনি আরও বলেন, “আয়োজকরা অনুষ্ঠানটিকে হিন্দু ইতিহাসের ব্যাপক আবেদনের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক হিসেবে উপস্থাপন করলেও বাস্তবে আরএসএস বিপরীত মতাদর্শের সমর্থন করে।” সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন, হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা বৈশ্বিক দক্ষিণপন্থীদের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে তুলছে, যেখানে ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষ অভিজাতদের হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
আরএসএস-এর নেতৃত্বাধীন বিজেপি দলটি ২০১৪ সাল থেকে ভারত শাসন করছে এবং দেশটিকে হিন্দু জাতীয়তাবাদী আদর্শে পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল কনজারভেটিজম কনফারেন্সে বিজেপির সহসভাপতি রাম মাধব বলেন, পশ্চিমের রক্ষণশীলদের উচিত ভারতকে অনুসরণ করা, যেখানে তারা ‘বামপন্থী, উদারপন্থী, মার্কসবাদী ও ইসলামপন্থী চক্রান্ত’ পরাজিত করার উদাহরণ হিসেবে কাজ করতে পারে।
“এই আন্দোলন মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণহিংসা স্বাভাবিক করেছে, হিন্দু নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনকারী মুসলিম পুরুষদের উপর হামলা চালিয়েছে এবং মুসলিমদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহন ভগবত (আরএসএস প্রধান), নরেন্দ্র মোদি (ভারতের প্রধানমন্ত্রী), সাফা আহমেদ (মুসলিম সম্প্রদায় সংগঠক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ লাখ (যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু জনসংখ্যা), ৫০ হাজার (২০১৯ সালের ‘হাউডি মোদি’ সমাবেশে উপস্থিতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!