📌 নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে রাজশাহীর বাগমারা পর্যন্ত বারনই নদীতে অসংখ্য মাছ মরে ভেসে উঠছে। পানিতে গ্যাসের বুদ্বুদ ও দুর্গন্ধের কারণে জেলেরা মাছ ধরতে পারছেন না। মৎস্য কর্মকর্তারা বৃষ্টিপাতের কারণে পাট পচানোর বর্জ্য ও শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্যের সম্ভাবনা দেখিয়েছেন, কিন্তু কোনো বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই
নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পর্যন্ত বারনই নদীতে হঠাৎ মাছের মড়ক লেগেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে নদীর পানিতে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও গ্যাসের বুদ্বুদ দেখা গেলেও মাছের মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। পানিতে দুর্গন্ধের কারণে জেলেরা মাছ ধরতে পারছেন না এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **বারনই নদীতে মাছের মড়ক**: নলডাঙ্গা থেকে তাহেরপুর পর্যন্ত নদীতে অসংখ্য মাছ মরে ভেসে উঠছে।
- 📌 **পানিতে গ্যাসের বুদ্বুদ ও দুর্গন্ধ**: মাছের মৃত্যুর সাথে সাথে পানিতে গ্যাসের বুদ্বুদ দেখা গেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
- 📌 **জেলেরা মাছ ধরতে পারছেন না**: মাছের মৃত্যু ও পানির দূষণে জেলেরা মাছ ধরতে যেতে চান না।
- 📌 **মৎস্য কর্মকর্তাদের সতর্কতা**: নলডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেছেন, বৃষ্টিপাতের কারণে পাট পচানোর বর্জ্য ও শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য মিশে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যেতে পারে।
- 📌 **বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা অনুপস্থিত**: স্থানীয় কর্মকর্তারা পানি ও মাছের নমুনা সংগ্রহের কথা বললেও কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা হয়নি।
📰 বিস্তারিত
গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বারনই নদীর পানিতে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নদীর পানিতে গ্যাসের বুদ্বুদ দেখা গেলে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আধমরা ও মরা অবস্থায় ভেসে উঠতে থাকে। শনিবার সকালে নদীর দুই পাড়ে মানুষের ভিড় জমে। অনেকে ভেসে ওঠা মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন।
নলডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেছেন, ‘গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে পাট পচানোর বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে গিয়ে গ্যাস হতে পারে। এ ছাড়া রাজশাহী নগরী ও শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে বারনই নদীতে পড়ে। এর ফলে নদীর পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে এ ঘটনা ঘটতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। এখনো এ ব্যাপারে নির্দেশনা পাইনি।’
নলডাঙ্গার বাশিলা গ্রামের জেলে ভবেশ চন্দ্র বলেছেন, ‘কয়দিন ধরি নদীত নামি মাছ ধরতে পারছিনি। পানিতে খুব গন্ধ। পানি গায়ে লাগলে চুলকাচ্ছে। মাছও মরছে। তাই আজ মাছ ধরতে যাইনি। এভাবে চললে সংসার চালানোই মুশকিল হয়ে পড়বে।’ নলডাঙ্গা ব্রীজ ঘাটের নৌকার মাঝি হবিবর রহমান বলেছেন, ‘সারাদিন পানির ওপরই থাকতে হয়। কিন্তু পানিতে দুর্গন্ধ। কী যেন হয়ছে। সব মাছ মরি যাচ্ছে। তাই পানি মুকে লিতেও ভয় লাগছে।’
নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর আলী বলেছেন, ‘একেক দিনের অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে তাহেরপুর এলাকার পোলট্রিখামারের বর্জ্য ও রাজশাহী সিটির বর্জ্য এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের রাসায়নিক বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যেতে পারে। এ কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে পানি ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করব। আমাদের পরীক্ষা–নিরীক্ষার যন্ত্রপাতিও নষ্ট। কয়েক দিন মানুষকে নদীর পানি ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
"‘কয়দিন ধরি নদীত নামি মাছ ধরতে পারছিনি। পানিতে খুব গন্ধ। পানি গায়ে লাগলে চুলকাচ্ছে। মাছও মরছে। তাই আজ মাছ ধরতে যাইনি। এভাবে চললে সংসার চালানোই মুশকিল হয়ে পড়বে।’ — ভবেশ চন্দ্র, জেলে
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নলডাঙ্গা (নাটোর) থেকে তাহেরপুর (রাজশাহী) পর্যন্ত বারনই নদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু সাঈদ (নলডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা), ভবেশ চন্দ্র (জেলে), হবিবর রহমান (নৌকার মাঝি), ওমর আলী (নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: অসংখ্য মরা মাছ, গ্যাসের বুদ্বুদ, দুর্গন্ধের কারণে মাছ ধরতে পারছেন না
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!