📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের ১২১ নম্বর কক্ষে রাতের ঘুম ভেঙে যায় শিক্ষার্থী রাব্বি রেজার। মশারির ওপর বিষধর সাপের কুণ্ডলী দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সংগঠন 'সোয়ান' সাপটিকে উদ্ধার করে। সাপের বিষ স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে এবং কামড়ের লক্ষণ কম থাকে। হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের ১২১ নম্বর কক্ষে রাতের ঘুম ভেঙে যায় শিক্ষার্থী রাব্বি রেজার। রাত দুইটায় মশারির ওপর বিষধর সাপের কুণ্ডলী দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন। সাপের বিষ অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে জানা গেছে। সংগঠন 'সোয়ান' সাপটিকে উদ্ধার করে। ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার রাতে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাব্বি রেজা (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী) মশারির ওপর বিষধর সাপের কুণ্ডলী দেখে আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন।
- 📌 সাপের নাম 'কালাচ' বা 'কমন ক্রেইট'। এর কামড়ের বিষ স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে এবং শুরুতে লক্ষণ কম থাকে।
- 📌 সংগঠন 'সোয়ান' সাপটিকে উদ্ধার করে। সাপের ওজন মশারির ওপর নেমে পড়ায় শিক্ষার্থী সাপটিকে দেখতে পান।
- 📌 হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশের কক্ষের শিক্ষার্থী মো. শাকিল আহমেদ হল সংসদকে জড়িত করে প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করেন।
- 📌 হলের প্রাধ্যক্ষ আল আমিন সরকার বলেন, হলের চারপাশ পরিষ্কার করার পর সাপগুলি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে।
📰 বিস্তারিত
রাত দুইটায় ঘুম ভেঙে যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাব্বি রেজার। মশারির ওপর কিছু একটা নড়াচড়া করছে বলে মনে হয়। ফোনের আলো জ্বালিয়ে দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সেখানে কুণ্ডলী পাকিয়ে আছে বিষধর একটি সাপ। সাপের নাম 'কালাচ' বা 'কমন ক্রেইট'। সাপের ওজন মশারির ওপর নেমে পড়ায় শিক্ষার্থী সাপটিকে দেখতে পান।
রাব্বি রেজা বলেন, 'সাপের ওজনে মশারিটি আমার হাঁটুর কাছাকাছি নেমে পড়ে। পরে সেখানে কিছু একটা নড়াচড়া করছে টের পাই। এরপর আমি ফোনের লাইট জ্বালিয়ে দেখি সাপ। যে সাপটা আমি সবচেয়ে বেশি ভয় পেতাম, সেটিই আমার মশারির ওপরে। আমি অনেক আতঙ্কিত হয়ে যাই।'
সাপের বিষ অত্যন্ত বিপজ্জনক। সংগঠন 'সোয়ান' এর সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন জানান, এই সাপের কামড় অত্যন্ত বিষাক্ত। এর বিষ মূলত স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো কামড়ের পর শুরুতে ব্যথা বা দাগ খুব কম থাকতে পারে। ফলে অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতেই পারেন না যে তাঁকে বিষধর সাপে কামড়েছে।
পাশের কক্ষে থাকা শিক্ষার্থী মো. শাকিল আহমেদ ঘটনাটি জানতে পেরে হলের শিক্ষার্থীদেরকে ডেকে একত্রিত করেন। তিনি বলেন, 'ঘুম থেকে উঠে শুনি, ১২১ নম্বর কক্ষে মশারির ওপর সাপ ছিল। সঙ্গে সঙ্গে ওই কক্ষে যাই। হলের চারপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ সাপের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে ব্লকের সবাইকে ডেকে একত্র করি। পরে হল সংসদকে সঙ্গে নিয়ে প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করি।'
হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হলের প্রাধ্যক্ষ আল আমিন সরকার বলেন, 'হলের পেছনে অনেক জঙ্গল ছিল। গত সপ্তাহে আমি হলের চারপাশ পরিষ্কার করিয়েছি। আমার মনে হয়, সাপের বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলো লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। আমাদের আরও বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।'
"সাপের ওজনে মশারিটি আমার হাঁটুর কাছাকাছি নেমে পড়ে। পরে সেখানে কিছু একটা নড়াচড়া করছে টের পাই। এরপর আমি ফোনের লাইট জ্বালিয়ে দেখি সাপ। যে সাপটা আমি সবচেয়ে বেশি ভয় পেতাম, সেটিই আমার মশারির ওপরে। আমি অনেক আতঙ্কিত হয়ে যাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শহীদ শামসুজ্জোহা হল, ১২১ নম্বর কক্ষ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাব্বি রেজা, মো. শাকিল আহমেদ, আল আমিন সরকার, সাজ্জাদ হোসাইন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২১ (কক্ষ নম্বর), ২০২০-২১ (শিক্ষাবর্ষ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!