📌 বুধ গ্রহের একটি বিশাল ক্রেটারকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নামে নামকরণ করা হয়েছে। ১১৬ কিলোমিটার ব্যাসের এই ক্রেটারটি নাসার মহাকাশযান 'মেসেঞ্জার' দ্বারা আবিষ্কৃত এবং আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (আইএইউ) কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। জয়নুল আবেদিনের বিশ্বব্যাপী শিল্পী মর্যাদা ও মানবতার প্রতি অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই নামকরণ করা হয়েছে
বুধ গ্রহের পাথুরে মাটিতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নামের স্মারক হিসেবে একটি বিশাল ক্রেটারকে ‘আবেদিন ক্রেটার’ নামে নামকরণ করা হয়েছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ১০ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রহে কোনো বায়ুমণ্ডল বা জীবনের উপস্থিতি নেই। সেখানে অসংখ্য উল্কাপাতের গর্ত বা ক্রেটার রয়েছে, যার মধ্যে একটির নামকরণ করা হয়েছে বাংলাদেশের বিখ্যাত শিল্পী জয়নুল আবেদিনের নামে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বুধ গ্রহের একটি ১১৬ কিলোমিটার ব্যাসের ক্রেটারকে ‘আবেদিন ক্রেটার’ নামকরণ করা হয়েছে, যা নাসার ‘মেসেঞ্জার’ মহাকাশযান দ্বারা আবিষ্কৃত এবং ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (আইএইউ) কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।
- 📌 বুধের বড় ক্রেটারগুলোর নাম রাখা হয় বিশ্বের বিখ্যাত শিল্পী, সাহিত্যিক ও সৃজনশীল ব্যক্তিদের স্মরণে, যাঁদের কাজ মানব সংস্কৃতিতে স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।
- 📌 শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নামকরণের পিছনে রয়েছে তাঁর ‘মন্বন্তর’ সিরিজের ছবি, যা ১৯৪৩ সালে বাংলার দুর্ভিক্ষের করুণ দৃশ্য তুলে ধরেছিল।
- 📌 জয়নুল আবেদিনের জন্ম হয়েছিল ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে। তিনি কলকাতার গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৩৮ সালে ব্রহ্মপুত্র নদ নিয়ে আঁকা জলরঙের সিরিজের জন্য গভর্নরের স্বর্ণপদক লাভ করেন।
- 📌 ১৯৭৬ সালের ২৮ মে মৃত্যুবরণকারী জয়নুল আবেদিনের আঁকা ছবির বর্তমান মূল্য আকাশচুম্বী। ২০২৪ সালে তাঁর ‘সাঁওতাল দম্পতি’ ছবিটি ৩ লাখ ৮১ হাজার ডলারে (প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা) এবং একটি ওয়াশ ছবি ৫ লাখ ১৬ হাজার পাউন্ডে (প্রায় ৮ কোটি টাকা) বিক্রি হয়।
📰 বিস্তারিত
বুধ গ্রহের কোনো বায়ুমণ্ডল না থাকায় সেখানে উল্কাপাতের ফলে অসংখ্য ক্রেটার তৈরি হয়েছে। নাসার ‘মেসেঞ্জার’ মহাকাশযান ২০০৮ সালে বুধের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় গ্রহটির অসংখ্য ছবি তোলে। সেসব ছবি বিশ্লেষণ করে ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (আইএইউ) একটি বিশাল ক্রেটারকে ‘আবেদিন ক্রেটার’ নামে নামকরণ করে। এই ক্রেটারটির ব্যাস প্রায় ১১৬ কিলোমিটার, যা বুধ গ্রহের অন্যতম বৃহত্তম ক্রেটারগুলোর মধ্যে একটি।
বুধের ক্রেটারগুলোর নামকরণের নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বের বিখ্যাত শিল্পী, সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ ও সৃজনশীল ব্যক্তিদের স্মরণে এই নামকরণ করা হয়। জয়নুল আবেদিনের নামকরণের পিছনে রয়েছে তাঁর অসামান্য অবদান। তিনি ১৯৪৩ সালে ‘মন্বন্তর’ সিরিজের ছবি আঁকেন, যা বাংলার দুর্ভিক্ষের করুণ দৃশ্য তুলে ধরেছিল। তাঁর এই কাজ মানবতার প্রতি সংবেদনশীলতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই ব্রহ্মপুত্র নদ, নদীপাড়ের জীবন ও প্রকৃতি তাঁকে আকৃষ্ট করত। তিনি কলকাতার গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৩৮ সালে ব্রহ্মপুত্র নদ নিয়ে আঁকা জলরঙের সিরিজের জন্য গভর্নরের স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকায় তিনি আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। তিনি বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
"জয়নুল আবেদিনের কাজের প্রভাব মানবজাতি ও সংস্কৃতিতে স্থায়ী রূপ নিয়েছে। তাঁর নামকরণের মাধ্যমে মহাকাশে তাঁর স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বুধ গ্রহ, মহাকাশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১৬ কিলোমিটার (ক্রেটার ব্যাস), ১০ কোটি কিলোমিটার (পৃথিবী থেকে দূরত্ব), ১৯১৪ (জন্মবছর), ২৯ ডিসেম্বর (জন্ম তারিখ), ২৮ মে (মৃত্যুবার্ষিকী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!