📌 বাংলাদেশ সরকার অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণে ১৯৯৪ সালের নীতিতে ফিরে যাওয়ায় স্বাস্থ্য খাতে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ সিদ্ধান্তকে 'অযৌক্তিক' বলে অভিহিত করেছেন
ঢাকা, বাংলাদেশ — সরকার অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণে তিন দশকের পুরোনো ১৯৯৪ সালের নীতিতে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় স্বাস্থ্য খাতে নতুন বিপত্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরকার চলতি মাসে ২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল করে ১৯৯৪ সালের নীতিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
- 📌 ১৯৯৪ সালের তালিকায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ ছিল ১১৭টি, যা ২০১৬ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২৮৫টি এবং ২০২৫ সালে হয় ২৯৫টি।
- 📌 স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
- 📌 বাংলাদেশে দরিদ্রতম পরিবারগুলো তাদের আয়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করে।
- 📌 দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীদের পকেট থেকেই বহন করতে হয়।
📰 বিস্তারিত
ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মাজহারুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, তার পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে মাসে অন্তত ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। তিনি বলেন, "মায়ের ডায়াবেটিস-আর্থ্রাইটিস, বাবার হার্টে সমস্যাসহ আরও রোগ - নিয়মিত ডাক্তার দেখানো, ওষুধ কেনা, টেস্ট করা - এর মধ্যেই আছি। মাসে অন্তত ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়, মাঝেমধ্যে আরও বেশি।" তার দুটি ছোট বাচ্চা রয়েছে, যাদের পেছনেও খরচ বাড়ছে বলে জানান তিনি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হলো এমন কিছু জীবনরক্ষাকারী ও গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের নির্দেশিকা, যা সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ নিরাময়ের প্রধান চাহিদাগুলো পূরণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি অনুযায়ী এসব ওষুধ সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী দামে নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুসারে, দেশের দরিদ্রতম পরিবারগুলো তাদের আয়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত সংসদে জানিয়েছিলেন, দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীদের পকেট থেকেই বহন করতে হয়। যেখানে থাইল্যান্ডে এ হার ১০ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ শতাংশ।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাজহারুল ইসলাম, ডা. এম এ মুহিত, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২ বছর, ১১৭টি, ২৮৫টি, ২৯৫টি, ৩৫ শতাংশ, ৮০ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১৮ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!