📌 প্রযুক্তির অতিরিক্ত নির্ভরতা স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা দাবি, নতুন কিছু শেখা, বই পড়া, মেমোরি প্যালেস কৌশল এবং মনোযোগের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্মৃতিশক্তি বাড়ানো সম্ভব। কেমব্রিজের অধ্যাপক বারবারা সাহাকিয়ান ও স্মৃতিশক্তি প্রশিক্ষক সানিয়া আলমের পরামর্শসহ ১০টি সহজ উপায়ের বিবরণ দিয়েছেন
স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য বিজ্ঞান-প্রমাণিত কৌশল অনুসরণ করলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রযুক্তির অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে স্মৃতিশক্তিকে শক্তিশালী করা সম্ভব। স্মৃতিশক্তি বিশেষজ্ঞরা দাবি, মস্তিষ্ককে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া, নতুন কিছু শেখা এবং মনোযোগের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্মৃতিশক্তি উন্নত করা যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মস্তিষ্ক প্রশিক্ষণ: স্মৃতিশক্তি বিশেষজ্ঞ সানিয়া আলম বলেন, স্মৃতিশক্তি হলো একটি দক্ষতা যা চর্চার মাধ্যমে উন্নত করা যায়। তিনি দাবি করেন, বর্তমান যুগে প্রযুক্তির অতিরিক্ত নির্ভরতা মস্তিষ্ককে ক্লান্ত করে তুলছে। নিজের ফোন নম্বর বা জরুরি যোগাযোগের নম্বর মনে রাখার অভ্যাস ফিরিয়ে আনা দরকার।
- 📌 নতুন কিছু শেখা: কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বারবারা সাহাকিয়ান বলেন, নতুন কিছু শেখা স্মৃতিশক্তি উন্নত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। গবেষণা দেখায়, নতুন কাজে মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসের আকার বৃদ্ধি পায়। দাবা খেলা, নতুন ভাষা শেখা বা বাদ্যযন্ত্র বাজানো স্মৃতিশক্তিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
- 📌 বই পড়ার অভ্যাস: নিয়মিত বই পড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, পড়ার অভ্যাস ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
- 📌 মনোযোগের প্রশিক্ষণ: প্রযুক্তি আমাদের মনোযোগ কেড়ে নেয়। ফোন বা অন্যান্য ডিভাইস দূরে রাখলে কোনো কাজে গভীর মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ফোনের উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের ফলাফলকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
- 📌 মেমোরি প্যালেস কৌশল: স্মৃতিশক্তি বিজয়ী কেটি কারমোডের ‘মেমোরি প্যালেস’ কৌশল ব্যবহার করে তালিকা বা ধারাবাহিক তথ্য মনে রাখা যায়। এই কৌশলে পরিচিত কোনো রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় মনে রাখতে হবে এমন জিনিসগুলিকে কল্পনা করা হয়।
- 📌 জন্মদিনের তারিখ মনে রাখা: কেটি কারমোড প্রতিটি মাসের একটি রং বা অর্থ ঠিক করে নেন এবং প্রতিটি দিনের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট বস্তুকে মিলিয়ে নেন। উদাহরণস্বরূপ, ২ অক্টোবরকে একটি কুমড়োর ওপর বসে থাকা রাজহাঁসের মতো কল্পনা করা হয়।
- 📌 নেমোনিক কৌশল: পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ‘নেমোনিক’ বা স্মৃতি সহায়ক কৌশল ব্যবহার করা যায়। ‘অ্যাক্রোনিম’ কৌশলে প্রথমে পুরো বিষয়টি ভালোভাবে অধ্যয়ন করে তারপর আদ্যক্ষর দিয়ে শব্দ তৈরি করা হয়।
📰 বিস্তারিত
বিশেষজ্ঞরা জানান, স্মৃতিশক্তি হলো এমন একটি দক্ষতা যা নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে উন্নত করা যায়। সাইকেল চালানোর মতোই মস্তিষ্ককে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। তবে বর্তমান যুগে প্রযুক্তির অতিরিক্ত নির্ভরতা মস্তিষ্ককে ক্লান্ত করে তুলছে। বিশেষজ্ঞ সানিয়া আলম বলেন, ‘আমাদের চারপাশে অতিরিক্ত তথ্য, এআই এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে আমাদের মস্তিষ্ক দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। এমনকি কম বয়সীদের মধ্যেও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’ তিনি পরামর্শ দেন, সবকিছুর জন্য গ্যাজেটের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজের মাথা খাটানোর অভ্যাস করো।
কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বারবারা সাহাকিয়ান বলেন, স্মৃতিশক্তি উন্নত করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নতুন কিছু শেখা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখা। তিনি বলেন, ‘এমন কিছু বেছে নাও, যা তুমি উপভোগ করো, কিন্তু আগে কখনো করোনি। সেটা হতে পারে দাবা খেলা, নতুন কোনো ভাষা শেখা বা কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো। নতুন কিছু শেখার সময় মস্তিষ্কের স্নায়ু দীর্ঘ সময় কার্যকর থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, পড়াশোনা বা চ্যালেঞ্জিং কাজ করলে মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসের আকার বৃদ্ধি পায়।’
বই পড়ার অভ্যাসও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিত পড়ার অভ্যাস বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে পড়ার অভ্যাস অত্যন্ত কার্যকর।
“মনোযোগ বিঘ্নিত হয় এমন জিনিস দূরে রাখা উচিত। প্রযুক্তি আমাদের মনোযোগ কেড়ে নেয় এবং কোনো নির্দিষ্ট কাজে গভীর মনোযোগ দেওয়া কঠিন করে তোলে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বব্যাপী (বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সানিয়া আলম, বারবারা সাহাকিয়ান, কেটি কারমোড
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০টি কৌশল, ২ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!