📌 আমদানি করা মোটরসাইকেলের ট্যাংক তিন বছরের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যশোরে ট্যাংক সংস্কার ও বিক্রির বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে, কিন্তু জ্বালানি তেলের নিম্নমান বা নিম্নমানের ধাতুর ব্যবহার কী কারণে দায়ী তা স্পষ্ট নয়। বেনাপোল কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে ৬ লাখেরও বেশি ট্যাংক আমদানি হয়েছে
আমদানি করা মোটরসাইকেলের ফুয়েল ট্যাংক সড়কে নামার তিন থেকে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ট্যাংকে ছোট ছোট ছিদ্রের কারণে চালকদের বাধ্য হয়ে নতুন ট্যাংক লাগাতে হয়। এই সমস্যার কারণে যশোরে ট্যাংক সংস্কার, ডেন্টিং ও রং করার বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। তবে জ্বালানি তেলের নিম্নমান বা ট্যাংক তৈরিতে নিম্নমানের ধাতুর ব্যবহার কী কারণে দায়ী তা নিয়ে আজও ধোঁয়াশা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মোটরসাইকেলের ট্যাংক তিন বছরের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, চালকদের বাধ্য হয়ে নতুন ট্যাংক কিনতে হয়
- 📌 যশোরে ট্যাংক সংস্কার ও বিক্রির বাজার রমরমা, অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি শোরুম রয়েছে
- 📌 বেনাপোল কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে ২১ লাখ ৪৩ হাজার ১৯৯ কেজি ট্যাংক আমদানি হয়েছে
- 📌 প্রতি কেজি চার ডলার মূল্যে ট্যাংক আমদানি করা হয়, গড় ওজন ৩ কেজি ৩৮০ গ্রাম
- 📌 যশোর থেকে সারা দেশে ট্যাংক সরবরাহের ৯০ শতাংশ আসে, ভারত থেকে ব্ল্যাঙ্ক ট্যাংক আমদানি বেড়েছে পাঁচগুণ
- 📌 ট্যাংক নষ্ট হওয়ার কারণ হিসেবে জ্বালানি তেলের নিম্নমান বা নিম্নমানের ধাতুর ব্যবহার উল্লেখ করা হলেও কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি
📰 বিস্তারিত
যশোর শহরের বিভিন্ন মেকানিক পট্টি ও গ্যারেজে মোটরসাইকেলের ট্যাংক খোলার ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়। নলডাঙ্গা সড়ক ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সড়কের এলাকায় ট্যাংক সংস্কারের বড় কর্মযজ্ঞ চলছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের আঞ্চলিক কার্যালয়ের কাছাকাছি এসব এলাকায় আমদানি করা ‘ব্ল্যাঙ্ক’ ট্যাংক ও পুরোনো ট্যাংক সংস্কারের একাধিক কারখানা গড়ে উঠেছে। দক্ষ শ্রমিকেরা সেখানে মরিচা পরিষ্কার, লেপন, স্প্রে পেইন্ট ও পলিশের কাজ করছেন।
শুধু ট্যাংক বিক্রির জন্যই যশোরে অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি বিশেষায়িত শোরুম রয়েছে। এসব শোরুমের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের ৯০ শতাংশই মোটরসাইকেলের ট্যাংক। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে খুচরা ট্যাংক আমদানি রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। বেনাপোল কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের পর আমদানি বেড়ে প্রায় পাঁচগুণ হয়েছে। প্রতি কেজি চার ডলার মূল্যে এসব ট্যাংকের শুল্কায়ন করা হয়। গত পাঁচ বছরে (২০২২-২০২৬) বেনাপোল কাস্টমসে ২১ লাখ ৪৩ হাজার ১৯৯ কেজির বেশি তেলের ট্যাংকের শুল্কায়ন হয়েছে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, একটি ট্যাংকের গড় ওজন প্রায় ৩ কেজি ৩৮০ গ্রাম। সে হিসাবে পাঁচ বছরে প্রায় ৬ লাখ ৩৪ হাজার ২৩টি ট্যাংক আমদানি করা হয়েছে। এর বড় অংশ এসেছে গত দুই বছরে।
যশোর থেকে সারা দেশে ট্যাংক সরবরাহের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে। সুজন দত্ত বলেন, ভারতে ট্যাংক দুই অবস্থায় পাওয়া যায়—রং করা ও ব্ল্যাঙ্ক। এখন বেশির ভাগই ব্ল্যাঙ্ক ট্যাংক আমদানি হয়। যশোরে এনে সেগুলো রং করে সারা দেশে পাঠানো হয়। তাঁর হিসাবে, সারা দেশের চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ যশোর থেকে সরবরাহ হয়। অন্তত ১৫ জন আমদানিকারক এ ব্যবসায় যুক্ত। রং করার জন্য যশোরে বড় কারখানা আছে ৭ থেকে ৮টি। নলডাঙ্গা সড়কের পাশে কারখানা চালান শান্ত মোল্লা। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকেরা বেশ কিছু ট্যাংকে একসঙ্গে রং ও পলিশের কাজ করছেন।
২৭ বছর ধরে ডেন্টিং ও রঙের কাজে যুক্ত শান্ত মোল্লা জানান, দুই বছর ধরে তিনি ভারত থেকে আনা ব্ল্যাঙ্ক ট্যাংক নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ৩০টি ট্যাংকে রং করা হয়। এ কাজে তিনিসহ ৯ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। বাগেরহাটের মোংলা থেকে যশোরে এসেছেন মোটরসাইকেলচালক রুবেল হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘তিন বছর আগে কেনা বাইকের তেলের ট্যাংক ফুটো হয়ে গেছে। যশোরে এসে ১০ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে বাজাজ কোম্পানির পালসার মোটরসাইকেলের একটি ট্যাংক কিনলাম। এখানে রং ভালো ও টেকসই হয়—এই শুনে আসা।’ তবে নতুন বাইকের ট্যাংক কেন তিন বছরেই নষ্ট হচ্ছে, তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
"তিন বছর আগে কেনা বাইকের তেলের ট্যাংক ফুটো হয়ে গেছে। যশোরে এসে ১০ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে বাজাজ কোম্পানির পালসার মোটরসাইকেলের একটি ট্যাংক কিনলাম। এখানে রং ভালো ও টেকসই হয়—এই শুনে আসা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোর (নলডাঙ্গা সড়ক, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সড়ক), বেনাপোল কাস্টমস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুজন দত্ত, শান্ত মোল্লা, রুবেল হাওলাদার, আবদুল মতিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫-৩০টি ট্যাংক শোরুম, ৯০% ট্যাংক সরবরাহ যশোর থেকে, ২১ লাখ ৪৩ হাজার ১৯৯ কেজি ট্যাংক আমদানি, ৬ লাখ ৩৪ হাজার ট্যাংক পাঁচ বছরে আমদানি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!