📌 জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভোলার লালমোহনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় শেখ হাসিনাকে 'বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী' বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার গুম-হত্যার শিকারদের পরিবারের সঙ্গে দেখানো সহানুভূতি ছিল কৌশলগত অভিনয়
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ শনিবার ভোলার লালমোহন উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় শেখ হাসিনার প্রতি তীক্ষ্ণ সমালোচনা করেছেন। তিনি শেখ হাসিনাকে 'বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী' বলে উল্লেখ করে বলেছেন, গুম ও হত্যার শিকারদের পরিবারের সঙ্গে তার দেখানো সহানুভূতি ছিল কৌশলগত অভিনয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শেখ হাসিনাকে অভিনেত্রী বলে সমালোচনা: স্পিকার বলেছেন, শেখ হাসিনার গুম-হত্যার শিকারদের পরিবারের সঙ্গে দেখানো সহানুভূতি ছিল অভিনয়।
- 📌 গুম-হত্যার ঘটনাসমূহ তুলে ধরেন স্পিকার: তিনি বলেছেন, বহু মানুষের স্ত্রীদের সামনে থেকে স্বামীকে নিয়ে গেছে, মায়ের সামনে থেকে ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। পরে টুকরা টুকরা করে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- 📌 রূপপুর বালিশ কাণ্ড উল্লেখ: স্পিকার বলেছেন, একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা, একটি পর্দার দাম ধরা হয়েছে ৪২ হাজার টাকা।
- 📌 লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি থাকার কথা উল্লেখ: তিনি বলেছেন, তখনকার এক ভূমি প্রতিমন্ত্রীর লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে।
- 📌 স্বাধীনতা আন্দোলন ও ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান উল্লেখ: স্পিকার বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন।
📰 বিস্তারিত
ভোলার লালমোহন উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনা গুম ও হত্যার শিকারদের পরিবারের সঙ্গে দেখানো সহানুভূতি ছিল কৌশলগত অভিনয়। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে অভিনয়ের জন্য তো অনেক পুরস্কার দেওয়া হয়। বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী হিসেবে বাংলাদেশেই একজনকে পাওয়া গিয়েছিল। এত সুন্দর অভিনয়। গতকাল বা পরশু দিন যাঁকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাঁকে হত্যা করা হয়েছে, টুকরো টুকরো করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই ব্যক্তির স্ত্রী-পুত্ররা যখন গণভবনে দেখা করতে আসত, তখন তিনি (হাসিনা) বাচ্চাদের মাথায় হাত বুলিয়ে, স্ত্রীর মাথায় হাত বুলিয়ে বলতেন, ‘আমি ফিরিয়ে এনে দেব আপনার স্বামীকে, তোমার বাবাকে’। অথচ তিনি জানেন গুম বা খুন হওয়া ব্যক্তি কোথায় চলে গেছে। এই রকম অভিনয় বাংলাদেশে আর কেউ করতে পারেনি’।
স্পিকার বলেন, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এখন জনগণের কাছে প্রমাণ হয়ে গেছে, শেখ হাসিনা ছিলেন গুমের নির্দেশদাতা। তিনি বলেন, “জনগণের কাছে সব পরিষ্কার হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এখন জনগণের কাছে প্রমাণ হয়ে গেছে, শেখ হাসিনা ছিলেন গুমের নির্দেশদাতা”।
স্পিকার বিগত সরকারের দুর্নীতির নমুনাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বালিশ-কাণ্ডের প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন, একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা, একটি পর্দার দাম ধরা হয়েছে ৪২ হাজার টাকা। তিনি বলেন, “এক ভূমি প্রতিমন্ত্রীর লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে। সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রকল্পগুলোতে কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে”।
"আমি ফিরিয়ে এনে দেব আপনার স্বামীকে, তোমার বাবাকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভোলার লালমোহন উপজেলা অডিটোরিয়াম, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (স্পিকার), শেখ হাসিনা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ হাজার টাকা (বালিশের দাম), ৪২ হাজার টাকা (পর্দার দাম), ৩৬০টি (লন্ডনের বাড়ি), ১১:০০ (সভার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!