📌 বিএনপি সরকারের প্রশাসনিক নিয়োগে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি উঠেছে গোলটেবিল আলোচনায়। বিরোধী নেতারা সতর্ক করেছেন, দলীয়করণ দেশের পরিবর্তনের স্বপ্নকে ব্যর্থ করবে
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসন, সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক উঠেছে। সরকার সমর্থক ও নাগরিক সমাজের অংশ একপক্ষে মত দিলেও বিরোধী দলগুলো এর বিরোধিতা করেছে। শনিবার রাজধানীর রমনায় বিআইআইএসএস মিলনায়তনে ‘গণ-অভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোন পথে?’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ বিষয়টি উঠে আসে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারে দলীয় নিয়োগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক উঠেছে গোলটেবিল আলোচনায়
- 📌 বিরোধী দলের নেতারা বলেছেন, দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত
- 📌 জামায়াত নেতা নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, দলীয়করণ বিপ্লবের চেতনার বিরুদ্ধে
- 📌 জাতীয় নাগরিক পার্টির নুসরাত তাবাসসুম প্রশাসনে ১০ শতাংশ দলীয় নিয়োগ কমাতে সরকারকে আহ্বান জানান
- 📌 প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, দলীয় পরিচয় অন্যায় নয়, তবে আচরণ গুরুত্বপূর্ণ
📰 বিস্তারিত
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। সরকার সমর্থক ও নাগরিক সমাজের অংশ একপক্ষে মত দিলেও বিরোধী দলগুলো এর বিরোধিতা করেছে। শনিবার রাজধানীর রমনায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বিষয়টি উঠে আসে। ‘গণ-অভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোন পথে?’ শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজন করে অ্যালায়েন্স ফর মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস (এএমআরএ)।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের নেতারা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারে দলীয়করণের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য দেন। জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ‘চব্বিশের বিপ্লবে প্রধান বিষয় ছিল দেশে আর বৈষম্য করা হবে না। কিন্তু দলীয় পরিচয়ে নিয়োগের মাধ্যমে যে বৈষম্য হচ্ছে, তার মাধ্যমে সেই চেতনার মূলে আঘাত করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, দলীয়করণ যদি আবার ফিরে আসে, তাহলে চব্বিশে হাজারো তরুণের আত্মাহুতিকে অবমাননা করা হবে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশা প্রকাশ করলেও নাজিবুর রহমান সতর্ক করে বলেন, ‘যেভাবে হানাহানি ছড়িয়ে পড়ছে, দলীয়করণ হচ্ছে, আমরা যদি এখন থেকেই সতর্ক না হই, তাহলে তৃণমূল পর্যায়ে হানাহানি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারব না।’
বিরোধী দলের সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা বলেন, বিরোধী দলকে ১০-১২টি কমিটির সভাপতি পদ দেওয়ার কথা থাকলেও একটিও দেওয়া হবে না—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটাই যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অবস্থা হয়, তাহলে বিষয়টা বিপ্লবের পিঠে ছুরিকাঘাতের মতো।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম প্রশাসন ও পুলিশে দলীয় নিয়োগ কমিয়ে আনতে সরকারকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘দেশ অনিরাপত্তার চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। আমাদের মতো জনঘনত্বের দেশে পুলিশ-প্রশাসন দলকে সার্ভ করলে কোনো অভ্যুত্থানেই কিছু পরিবর্তন হবে না।’
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মো. আবদুল মান্নান বলেন, প্রশাসকসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় নিয়োগের মাধ্যমে সবার আগে বাংলাদেশের পরিবর্তনের পরিবর্তে বিএনপিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এই সংস্কৃতির পরিবর্তন হওয়া উচিত।’
দ্য ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক কামাল আহমেদ বলেন, সরকার দলীয় লোক নিয়োগ দিন, তবে যোগ্য লোক নিয়োগ দিন। তিনি আরও বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ—শুধু বিএনপিকে নিয়ে নয়, সবাইকে নিয়েই ভাবতে হবে।’
"দলীয় মানুষ পেশাদারভাবে দায়িত্ব পালন করলে সেই নিয়োগে কোনো সমস্যা নেই। দলীয়করণ প্রসঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, দলীয় পরিচয় থাকা কোনো অন্যায় নয়। সেই ব্যক্তির আচরণটা দলীয় হচ্ছে কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। যোগ্য লোক নিয়োগ দেওয়ার দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কে যোগ্য, কে অযোগ্য—সেটার জন্য তিনটা তদন্ত কমিটি করতে হবে। জনগণ যে গুণগত পরিবর্তন চায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেটা শুরু করেছেন—এটুকু আশ্বস্ত করতে পারি।’"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানীর রমনা, বিআইআইএসএস মিলনায়তন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাজিবুর রহমান মোমেন, নুসরাত তাবাসসুম, মো. আবদুল মান্নান, আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ শতাংশ, ১০-১২টি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!