📌 পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরের ক্রসফায়ার হুমকির প্রতিবাদে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহারের ও বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে। ঢাকায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সভায় জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ সরকারের অনুমোদন ছাড়া পুলিশের এমন বক্তব্য মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছেন।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না’ এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। দলটি আইজিপিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য আল্টিমেটাম দিয়েছে। এছাড়াও আইজিপির বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে জেডিপি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার: আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের ক্রসফায়ার হুমকির প্রতিবাদে জেডিপি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে
- 📌 বহিষ্কারের দাবি: জেডিপি আইজিপিকে বহিষ্কারেরও দাবি জানিয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাঁর পদত্যাগ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছে
- 📌 মানবাধিকার লঙ্ঘন: জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইঙ্গিত ছাড়া পুলিশ কর্মকর্তার এমন বক্তব্য মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছেন
- 📌 ক্রসফায়ার সংস্কৃতি: বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া আইজিপির বক্তব্যে ফ্যাসিবাদী শাসনের আশঙ্কা দেখেছেন
- 📌 পুলিশ সংস্কার দাবি: জেডিপি পুলিশ সংস্কারের জন্য ১৮৬১ সালের ঔপনিবেশিক পুলিশ অ্যাক্টের পরিবর্তন ও নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে
📰 বিস্তারিত
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের হুমকির প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইঙ্গিত ছাড়া কোনো পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে এমন মানবাধিকারবিরোধী মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, পুলিশকে ফের মানবাধিকার লঙ্ঘনের আস্কারা দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
নাঈম আহমাদ আরও বলেন, মাসখানেক আগে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর আদলে বিচারবহির্ভূত অভিযান পরিচালনার গুঞ্জন উঠেছিল। সাম্প্রতিক বক্তব্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকে কাজে লাগিয়ে ক্রসফায়ারের পক্ষে জনমত তৈরির কোনো প্রেক্ষাপট প্রস্তুত করা হচ্ছে কি না। আইজিপির বক্তব্যে সরকারের অনুমোদনের প্রসঙ্গ তোলায় প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশ কি এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য সরকারের অনুমতি চাইছে?
জেডিপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম বলেন, ‘কত বন্দুক আছে তা দিয়ে রাষ্ট্রের শক্তি মাপা যায় না বরং রাষ্ট্রের শক্তি মাপা যায় তার সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকটি কতটা নিরাপদ তা দিয়ে। সুতরাং মানুষকে ভয় দেখানোর পরিবর্তে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সরকারকে মনজোগী হতে হবে।’ তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা পুলিশের দায়িত্ব। কিন্তু আইনের ঊর্ধ্বে উঠে যাওয়া কারও দায়িত্ব নয়।
বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, ‘ক্রসফায়ার নিয়ে পুলিশের আইজিপির বক্তব্য জাতিকে আতঙ্কিত করছে। তার বক্তব্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, দেশকে আবার ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না।’ তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ সংস্কারের জন্য যেসব সুপারিশ করা হয়েছিল, সরকার সেগুলো বাস্তবায়ন করছে না কেন, তার জবাব দিতে হবে।
জেডিপি’র প্রধান সংগঠক আহছান উল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করার পাঁয়তারা করছেন আইজিপি। বিরোধী মত দমনে ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছি।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবিলম্বে ১৮৬১ সালের ঔপনিবেশিক পুলিশ অ্যাক্টের পরিবর্তে নতুন আইন প্রণয়ন করে পুলিশ সংস্কার করতে হবে।
"স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইঙ্গিত ছাড়া কোনো পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে এমন মানবাধিকারবিরোধী ও গর্হিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। পুলিশকে ফের মানবাধিকার লঙ্ঘনের আস্কারা দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমরা আইজিপি’র এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, জাতীয় জাদুঘর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাঈম আহমাদ (জেডিপি আহ্বায়ক), মো. আলী হোসেন ফকির (আইজিপি), এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া (বাংলাদেশ ন্যাপ), অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম (জেডিপি সদস্য সচিব), আহছান উল্লাহ (জেডিপি প্রধান সংগঠক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ ঘণ্টা, ২৬ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!