📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার দুপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে ফোন করে গ্যাস সঙ্কটে সহায়তা চেয়েছেন। সোমবার চিঠি শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন হস্তান্তর করেন। এফএসআরইউ ত্রুটিতে দৈনিক ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (১৭%) গ্যাস কম। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন।
চলমান গ্যাস সঙ্কট নিরসনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় বাংলাদেশ সময় ফোনালাপে এ সহযোগিতা চান তিনি—আগের দিন সোমবার লিখিত চিঠি শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন কুয়ালালামপুরে হস্তান্তর করেন। এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (মোট সরবরাহের ১৭%) গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে—জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার দুপুর ২টায় ফোনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে কথা বলে গ্যাস সঙ্কট নিরসনে সহযোগিতা চেয়েছেন।
- সোমবার প্রধানমন্ত্রীর লিখিত চিঠি মঙ্গলবার কুয়ালালামপুরে হস্তান্তর করেন শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন (মালয়েশিয়া সফরে ছিলেন)।
- আনোয়ার ইব্রাহিম আশ্বাস দিয়েছেন—দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর টিম ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করবেন।
- একটি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল)-এ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (৪৫ কোটি ঘনফুট) গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে—মোট সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশ।
- শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
- জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা ঢাকা সফরে—তাঁর সঙ্গে আলোচনায় ল্যান্ড-বেসড এলএনজি টার্মিনালে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
ফোনালাপ ও চিঠি: দুই পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, সমস্যার গুরুত্ব অনুভব করে প্রধানমন্ত্রী গতকাল (সোমবার) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি পত্র লেখেন—যেটি মঙ্গলবার শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন (মালয়েশিয়া সফরে আছেন) হস্তান্তর করেছেন কুয়ালালামপুরে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আজকে (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে ফোনে কথা বলেছেন। বাংলাদেশের এই উদ্ভূত জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় তাঁর এবং তাঁর দেশের সহযোগিতা কামনা করেছেন।' আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন—তাঁর তরফ থেকে এবং তাঁর দেশের তরফ থেকে এ সঙ্কট নিরসনে যা কিছু করার সুযোগ রয়েছে, তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর টিমের সঙ্গে কথা বলবেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করবেন।
এফএসআরইউ ত্রুটি: ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি
একটি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল)-এ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বর্তমানে দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (৪৫ কোটি ঘনফুট) গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে—যা মোট সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশ। এতে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'হতে পারে এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত একটি স্থাপনা বা কাঠামো, যার মাধ্যমে আমরা আমদানিকৃত এলএনজিকে রিগ্যাসিফাই করছি; কিন্তু এটা তো জনগণের সরকার। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা এই দায়িত্বটা অনুভব করি, জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে বলেই আমরা প্রাণান্ত করার চেষ্টা করছি এ সমস্যার সমাধানে।'
মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ
এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'মালয়েশিয়া থেকে আমরা এলএনজি আমদানির সুযোগ নিয়ে কাজ করছি। এটা তো একটা প্রক্রিয়ার ব্যাপার। এই প্রক্রিয়া কত দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা সম্পন্ন করতে পারি, এ ছাড়াও বিকল্প কোনো পন্থা আছে কি না যেখানে তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে তারা আমাদের সহায়তা করতে পারে, তাদের পরামর্শ দিয়ে আমাদের সহায়তা করতে পারে কিংবা তাদের রিসোর্সেস আমাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারে—সবকিছুই হতে পারে।'
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'বিভিন্ন উৎস থেকে আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। বিকল্প উৎসগুলো এক্সপ্লোর করার জন্য। হাতে যখন অনেকগুলো অপশনস থাকবে, তাহলে কখনো যদি কোনো একটি বিকল্প ফেইল করে, আপনি কোনোভাবে সেটাকে সমাধান করতে পারেন। আমাদের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই বলেই তো আজকে একটা এফএসআরইউ সমস্যার কারণে আমরা সবাই মিলে ভুগছি।'
জাপানের সঙ্গে ল্যান্ড-বেসড এলএনজি টার্মিনাল আলোচনা
প্রতিমন্ত্রী জানান, জাপানি একটি টিম—অর্থাৎ জাপানি প্রধানমন্ত্রীর অ্যাডভাইজার—ভিজিট করেছেন। তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় এনার্জি কো-অপারেশন বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমরা কালকে বলেছিলাম যে, এফএসআরইউ নিয়ে আমরা কাজ করছি; কিন্তু আলটিমেট সলিউশন হচ্ছে ল্যান্ড-বেসড এলএনজি টার্মিনাল। আমরা সেখানে তাদের সহযোগিতা চেয়েছি।'
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলবিষয়ক সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিয়েকে, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং জাপানের সিভিল এভিয়েশন ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
'প্রতি মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ'
সঙ্কট সমাধানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় দিনরাত কাজ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'জ্বালানি বিভাগের অন্যান্য সংগঠন পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল যেমন দিনরাত কাজ করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রতি মুহূর্তে ঘটনা সম্পর্কে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাঁর তরফ থেকে, তাঁর পক্ষ থেকে যদি কিছু করার থাকে সেই ব্যাপারে চেষ্টা করছেন।'
তিনি বলেন, 'চাহিদা অনুযায়ী কিন্তু গ্যাস সরবরাহ করতে পারছি না। তাহলে চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে যে গ্যাপটুকু রয়েছে, সে গ্যাপটা মিনিমাইজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেছেন।' প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'এই বার্তাটি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আমি এই কারণে অনুভব করছি যে, মানুষের এই সমস্যা, মানুষের এই কষ্টটা প্রতি মুহূর্তে আমাদেরকে কষ্ট দিচ্ছে এবং বাংলাদেশের মানুষের এই কষ্টে আমরাও সমব্যথী।'
'আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন, তাঁর তরফ থেকে এবং তাঁর দেশের তরফ থেকে—এ সঙ্কট নিরসনে যা কিছু করার সুযোগ রয়েছে, তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর টিমের সঙ্গে কথা বলবেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করবেন।'—অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!