📌 গত অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে ২৮ জন সাংবাদিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে একজন নিহত ও ১৮ জন শারীরিক আঘাতের শিকার। বিএজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখিত হয়েছে, রাজনৈতিক ও সামাজিক অনিয়মের প্রতিবাদে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আইনি হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে
গত অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই মাসে অন্তত ২৮ জন সাংবাদিক বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে একজন সাংবাদিক নিহত হন, ১৮ জন শারীরিক হামলার শিকার হন এবং ৯ জন আইনি হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির সম্মুখীন হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৮ সাংবাদিক নিপীড়নের শিকার: অক্টোবর মাসে ২৮ জন সাংবাদিকের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়, যার মধ্যে একজন নিহত হন, ১৮ জন আহত হন এবং ৯ জন আইনি হয়রানির শিকার হন।
- 📌 নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির: নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া গ্রামে চায়ের দোকানে অবস্থানকালে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত হন।
- 📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ সাংবাদিক আহত: বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলায় ৪ জন সাংবাদিক আহত হন। তাদের মধ্যে একজন সাংবাদিকের মাথা ফেটে যায়।
- 📌 গাজীপুরে সাংবাদিক অপহরণ ও নির্যাতিত: মোটরসাইকেলে আসা ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যক্তি এক সাংবাদিককে অপহরণ করে, মারধর করে এবং জোরপূর্বক নগ্ন ভিডিও ধারণ করে।
- 📌 ৯ সাংবাদিক আইনি হয়রানির শিকার: ঝিনাইদহ কলেজের অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দু’জন সাংবাদিক মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়।
- 📌 সাংবাদিকদের ওপর প্রাণনাশের হুমকি: শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে মৃত নারীদের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ প্রকাশের পর এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
📰 বিস্তারিত
বিএজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখিত হয়েছে, অক্টোবর মাসে সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ অত্যন্ত উদ্বেগজনক ছিল। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা শারীরিক হামলা, গ্রেপ্তার, আইনি হয়রানি, হত্যা ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া গ্রামে চায়ের দোকানে অবস্থানকালে মোটরসাইকেলে আসা দুই অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীর হামলায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নিহত হন। সহকর্মীদের দাবি, তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধানী লেখালেখির কারণে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলায় চার সাংবাদিক আহত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক ও ব্যাট হাতে মিছিল থেকে আসা নেতা-কর্মীরা অস্ত্রের ভিডিও ধারণ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের মারধর করেন। এতে একজন সাংবাদিকের মাথা ফেটে যায়। এ সময় আহত সাংবাদিকদের উদ্ধারে এগিয়ে আসা অন্য সাংবাদিকদেরও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
গাজীপুরের টঙ্গীতে এক সাংবাদিককে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। ওই সাংবাদিকের দাবি, মোটরসাইকেলে আসা ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যক্তি তাঁর চোখ-মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে যান। পরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। এক নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দিয়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মাজার বস্তির মাদকের সংবাদ প্রকাশ করলে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জ্ঞান হারালে তাঁকে ফেলে যাওয়া হয়।
আইনি হয়রানির শিকার ৯ জন সাংবাদিকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে ঝিনাইদহ কলেজে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, কলেজের ইট বিক্রির অনিয়ম আড়াল করতে অধ্যক্ষের মদদে বহিরাগত ব্যক্তিরা তাঁদের রড দিয়ে পেটান। পরে মিথ্যা মামলায় তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি, ডিবি পুলিশের মাদক-সংশ্লিষ্টতার সংবাদ প্রকাশের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে।
"সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও আইনি হয়রানির এসব ঘটনাকে মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করি। রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কিংবা পেশিশক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।"
বিএজে অবিলম্বে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি মনে করছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কিংবা পেশিশক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেত্রকোনা, রাজশাহী, ঝিনাইদহ, গাজীপুর, সিলেট, মৌলভীবাজার, টঙ্গী, দুর্গাপুর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির, সাংবাদিকদের, ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ জন সাংবাদিক নিপীড়নের শিকার, ১৮ জন আহত, ৯ জন আইনি হয়রানির শিকার, ৪০-৫০ জন অপহরণকারী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!