📌 জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান কুষ্টিয়ায় সাত দফা আন্দোলনের সমাপনী সমাবেশে বলেছেন, সরকার যদি সাত দফা প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে এক দফা দাবি অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে। তিনি বলেছেন, জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে জীবন বাজি রেখে লড়াই করা হবে
কুষ্টিয়া জেলায় সাত দফা আন্দোলনের সমাপনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকার যদি সাত দফা দাবি প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে এক দফা দাবি অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে। শনিবার রাতে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী জনসভায় তিনি এই কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শফিকুর রহমান বলেছেন, “সাত দফা দাবি মেনে নিলে এক দফা দাবির প্রয়োজন হবে না; কিন্তু সাত দফা না মানলে এক দফা অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে। সেই এক দফার ডাক আমরা দেশের স্বার্থে দিতে বাধ্য হব”
- 📌 জামায়াতের আমির বলেন, “সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী করুণ পরিণতি ভোগ করেছে যখন জনগণের রায় অগ্রাহ্য করা হয়েছে। আমরা যদি জীবন হারাই, তবুও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না”
- 📌 ১১-দলীয় ঐক্যর লংমার্চে ৪২৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ১৯টি জেলা অতিক্রম করে কুষ্টিয়ায় পৌঁছেছে
- 📌 ১২ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে দলীয়করণের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
- 📌 ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে নতুন লংমার্চের পরিকল্পনা রয়েছে
📰 বিস্তারিত
শনিবার রাত ১১টা ৩৩ মিনিটে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে পৌঁছান জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। তিনি মাত্র ৬ মিনিটে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে, কিন্তু তারা দুই-তৃতীয়াংশ সিট দখল করে নিয়েছে। এ জন্য তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করছে।”
জামায়াতের আমির আরও বলেন, “ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ায় এসেছি। যদি এক দফার প্রয়োজন হয়, তাহলে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকা যেতে হবে। আমাদের কাছে টাকা নেই, বিরিয়ানি নেই। জীবন যেতে পারে, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না। আপনারা প্রস্তুত হন।”
জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মুহসিন এবং সেক্রেটারি এনামুল হকর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, “আমরা চাইনি আট মাসের মধ্যে আন্দোলনে আসতে হবে। কিন্তু বিএনপির নেতারা বোঝেন না। তারা বিশ্বাসঘাতকতা, দুর্নীতি করে লুটপাট করছে। সচিবালয় থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত দলীয়করণে ১২ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছে।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “বাংলাদেশ আর কোনোদিন অন্য কোনো রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যে পরিণত হতে দেব না। সাত দফা না মানলে এক দফায় পরিণত হবে। এক দফার ডাক এলে ঢাকার দিকে মার্চ করতে প্রস্তুত থাকবেন।”
কর্ণেল অলি আহমদ বলেন, “আমরা চেয়েছি সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ। কিন্তু বর্তমান সরকার সেটি দিতে পারছে না। তাহলে বিগত সরকার আর এই সরকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। দলীয়করণ থেকে উত্তরণের জন্য আরও কষ্ট করতে হবে। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।”
এছাড়া এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হান্নান মাসউদসহ ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন। লংমার্চের যাত্রা শুরু হয়েছিল বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে। ৪২৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে শেষ হয় লংমার্চ। আগামী ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে নতুন লংমার্চের পরিকল্পনা রয়েছে।
"আমরা চেয়েছিলাম, আপনাদের মূল্যবান ভোটে যে সংসদ গঠিত হয়েছে, অনুরূপভাবে সংস্কার পরিষদও গঠন করা হবে। তারা সংসদে বসেই তার ফায়সালা করবে; কিন্তু কায়দা করে তারা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সিট দখল করে নিয়েছে। এ জন্য তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম, কুষ্টিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শফিকুর রহমান, মিয়া গোলাম পরওয়ার, মাওলানা মামুনুল হক, কর্নেল অলি আহমদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ দল, ৪২৫ কিলোমিটার, ১২-২০ লাখ টাকা, ৬ মিনিট, ৭ দফা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!