📌 জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলামের বহিষ্কার পর বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মাওলানা আবদুর রহমানকে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেয়। দলের সূত্র জানায়, আসনটি শূন্য হলে আবদুর রহমানকে প্রার্থী করা হবে। গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যা ও নৈতিক স্খলনের কারণে দলটি দ্রুত বিকল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে গাজী নজরুল ইসলামের বহিষ্কার পর জামায়াতে ইসলামী দ্রুত বিকল্প প্রার্থী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, আসনটি শূন্য হলে মাওলানা আবদুর রহমানকে প্রার্থী করা হবে। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসনটি শূন্য ঘোষণার আগ পর্যন্ত দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করবে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাওলানা আবদুর রহমানকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সম্ভাব্য বিকল্প প্রার্থী হিসেবে ঘিরে জামায়াত সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেছে। তিনি পেশায় শিক্ষক এবং দলের শ্যামনগর উপজেলা শাখার আমির।
- 📌 গাজী নজরুল ইসলামের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বহিষ্কারের পর জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ২২ জুলাই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়।
- 📌 গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগমের আত্মহত্যা এবং কম বয়সী নারীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দল তদন্ত করে বহিষ্কার করে।
- 📌 সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ২০২৪ সালের নির্বাচনে ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী পান ৮৫ হাজার ৪২৬ ভোট।
- 📌 জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা কমিটির আমির শহীদুল ইসলাম (মুকুল) ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানির নামও বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, “এলাকার জনগণ এবং সংগঠনের অবস্থান বিবেচনা করে প্রার্থী মনোনীত করা হবে। আসনটি শূন্য ঘোষণা পেলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি, কোনো ব্যক্তির কারণে আমাদের ফলাফল খারাপ হবে না। ইনশা আল্লাহ, যাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক, আমরা উঠিয়ে নিয়ে আসতে পারব। সেই নৈতিক মনোবল আমাদের আছে।”
গাজী নজরুলের বহিষ্কারের পর জামায়াতের সাংগঠনিক কর্মকর্তারা দ্রুত বিকল্প প্রার্থী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। সাতক্ষীরা জেলায় চারটি সাংসদীয় আসন রয়েছে, যার মধ্যে শ্যামনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৪ আসনটি জামায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গাজী নজরুলের বহিষ্কারের পর এই আসনে দলের অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগমের আত্মহত্যা এবং কম বয়সী নারীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সমাজে আলোচনা সৃষ্টি হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ২২ জুলাই বৈঠকে গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। দল জানায়, তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এরপর জামায়াত জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে পৃথক চিঠি পাঠায়। তবে স্পিকার বা নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।
সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৯৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ৮৫ হাজার ৪২৬ ভোট পান। গাজী নজরুল এই আসনে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার বহিষ্কারের পর জামায়াতের নেতারা আসনটি নিজেদের পক্ষে রাখার জন্য দ্রুত বিকল্প প্রার্থী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়।
"আমরা মনে করি, সংগঠন এবং এলাকার জনগণ সবার জন্য যিনি মঙ্গল হন, তাঁকেই দল প্রার্থী করবে। যাঁকেই প্রার্থী করা হোক, আমি আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে প্রমাণ করব, সাতক্ষীরায় জামায়াতের অবস্থান শক্তিশালী।"
মাওলানা আবদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, “আমরা মনে করি, সংগঠন এবং এলাকার জনগণ সবার জন্য যিনি মঙ্গল হন, তাঁকেই দল প্রার্থী করবে। যাঁকেই প্রার্থী করা হোক, আমি আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে প্রমাণ করব, সাতক্ষীরায় জামায়াতের অবস্থান শক্তিশালী।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসন, সাতক্ষীরা জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাওলানা আবদুর রহমান, গাজী নজরুল ইসলাম, মো. ইজ্জত উল্লাহ, শহীদুল ইসলাম (মুকুল), মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট, ৮৫ হাজার ৪২৬ ভোট, ৯৭টি কেন্দ্র, ২২ জুলাই, ৬২ নম্বর ধারা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!