📌 জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রাজ্জাকের নতুন বইতে প্রকাশিত হয়েছে দলের একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগের গোপন বিবরণ। নেতৃত্বের মতভেদ, প্রভাবশালীদের আপত্তি ও দলীয় কমিটির বিরোধিতা কারণে এই উদ্যোগ বারবার ব্যর্থ হয়। ২০১৯ সালে দল বিলুপ্তির সিদ্ধান্তও পরে প্রত্যাহার করা হয়
জামায়াত-ই-ইসলামীর একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগের পেছনে লুকিয়ে ছিল নেতৃত্বের মতভেদ, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ ও দলীয় কমিটির বিরোধিতা। দলের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের নতুন বই ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’-এ এই গোপন বিবরণ প্রকাশ পেয়েছে। বইতে তিনি বর্ণনা করেছেন কীভাবে একাধিকবার ক্ষমা প্রার্থনার খসড়া তৈরি হলেও তা ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৯ সালে জামায়াতের নির্বাহী কমিটি একাত্তরের বিষয় মোকাবিলা ও দল বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নেয়, পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়
- 📌 আবদুর রাজ্জাকের বইতে প্রকাশিত হয়েছে ১৯৯৩ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনার তিনটি প্রধান উদ্যোগের বিবরণ
- 📌 গোলাম আযমের ১৯৯৪ সালের বিজয় সমাবেশে ক্ষমা প্রার্থনার খসড়া তৈরি হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি
- 📌 ২০০১ সালের চারদলীয় জোটের বিজয়ের পর ক্ষমা প্রার্থনার খসড়া তৈরিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন অধ্যাপকের সহায়তা নেওয়া হয়
- 📌 নেতৃত্বের মতভেদ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি আজহারুল ইসলামের আপত্তি কারণে উদ্যোগ বারবার ব্যর্থ হয়
📰 বিস্তারিত
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের বইতে বর্ণিত হয়েছে, জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগ বারবার ব্যর্থ হয়। ১৯৯৩ সালের ৪ জুলাই তিনি তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল মতিউর রহমান নিজামীকে চিঠি লিখেছিলেন গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার পর তার প্রথম ভাষণে একাত্তরের বিষয় তুলে ধরার পরামর্শ দিয়ে। কিন্তু বিজয় সমাবেশে গোলাম আযমের বক্তব্য ছিল খুবই সীমিত: “অতীতে যদি আমি কোনো ভুল করে থাকি, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করবেন।” রাজ্জাকের মতে, এটি ছিল ক্ষমা প্রার্থনার অসম্পূর্ণ চেষ্টা।
২০০১ সালের চারদলীয় জোটের নির্বাচনী বিজয়ের পর আবদুর রাজ্জাক উদ্যোগ নেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন অধ্যাপক আফতাব আহমেদ, এম মাহবুবউল্লাহ ও আবদুর রবের সহায়তা নিয়ে একটি বিবৃতির খসড়া তৈরি করেন। খসড়ায় ছিল অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে জামায়াতের অবস্থানের ব্যাখ্যা এবং একাত্তরের রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা। তবে নেতৃত্বের মধ্যে মতভেদ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি আজহারুল ইসলামের আপত্তি কারণে এই উদ্যোগও ব্যর্থ হয়।
২০১৯ সালে জামায়াতের নির্বাহী কমিটি একাত্তরের বিষয় মোকাবিলা ও দল বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পরে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এই ঘটনার পর আবদুর রাজ্জাক পদত্যাগ করেন। তিনি ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে চলে যান এবং ২০২৫ সালের ৪ মে ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
"সুদৃঢ় অবস্থানে থেকে ক্ষমা চাইলে তা আন্তরিক বলে বিবেচিত হতো এবং একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনার অবসান ঘটাতে পারত"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ; যুক্তরাজ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুর রাজ্জাক, গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা, আজহারুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৯৩ (চিঠি), ১৯৯৪ (বিজয় সমাবেশ), ২০০১ (চারদলীয় জোট), ২০১৯ (দল বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত), ৪ (মে, মৃত্যু তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!