📌 বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের সাবেক যুবলীগ সদস্য জাহাঙ্গীর আলমকে বিএনপির সদস্যসচিব নিযুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, তিনি ২০২৩ সালে অনুমোদিত যুবলীগ কমিটিতে নাম ছিল। জাহাঙ্গীর দাবি করেন, তিনি কখনো যুবলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না। ঘটনায় তৃণমূল নেতাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে
বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের সাবেক যুবলীগ সদস্য জাহাঙ্গীর আলমকে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্যসচিব নিযুক্ত করা হয়েছে। এই পদোন্নতির পেছনে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতর্ক ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা ও কর্মীদের দাবি, জাহাঙ্গীর আলম ২০২৩ সালে অনুমোদিত দেউলী ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটিতে নাম ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি তালিকায় তার নাম উল্লেখ রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাহাঙ্গীর আলম বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বিএনপির সদস্যসচিব নিযুক্ত হন, কিন্তু তিনি ২০২৩ সালে অনুমোদিত যুবলীগ কমিটিতে নাম থাকার অভিযোগে সমালোচিত হন।
- 📌 জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, তিনি কখনো যুবলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না এবং ২০২০ সালে বিদেশে চলে যান। তবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা তার দাবিকে অস্বীকার করেছেন।
- 📌 দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ওবায়দুল ইসলাম ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাজী মেহেদুল ইসলাম বলেছেন, জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন যুবলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন।
- 📌 মোকামতলা উপজেলা বিএনপির ৩২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে জাহাঙ্গীর আলমকে ২৩ নম্বর সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছিল। কমিটিতে মাহমুদ হাসান তৌফিক আহ্বায়ক, মাহবুব আলম মানিক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রোকনুদ্দৌলা রুবেল সদস্যসচিব নিযুক্ত হন।
- 📌 স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলেছেন, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার ঘটনায় তৃণমূলে হতাশা তৈরি হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গত মঙ্গলবার মোকামতলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে জাহাঙ্গীর আলমকে দেউলী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব করা হয়। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, ২০২৩ সালে অনুমোদিত দেউলী ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটিতে জাহাঙ্গীর আলমের নাম ছিল। ওই কমিটির একটি তালিকাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেছেন, তিনি কখনো যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাঁর ভাষ্য, ২০২০ সালে তিনি বিদেশে চলে যান। দেশে ফিরে ২০২৩ সালে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বলেন, সে সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এলাকার স্বার্থে তাঁর সঙ্গে চলাফেরা করতে হয়েছে। যুবলীগের কমিটিতে তাঁর নাম থাকার যে কাগজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেটি সম্পাদনা করা বলেও দাবি করেন তিনি।
দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, ‘জাহাঙ্গীর আলম অনেক আগে থেকেই যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যুবলীগের কমিটিতেও তাঁর নাম রয়েছে।’ ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাজী মেহেদুল ইসলাম বলেছেন, ‘জাহাঙ্গীর আলম আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলেন, এটি স্থানীয়ভাবে সবাই জানেন।’
গত ২ আগস্ট মোকামতলা উপজেলা বিএনপির ৩২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে মাহমুদ হাসান তৌফিককে আহ্বায়ক, মাহবুব আলম মানিককে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রোকনুদ্দৌলা রুবেলকে সদস্যসচিব করা হয়। জাহাঙ্গীর আলমকে ওই কমিটির ২৩ নম্বর সদস্য রাখা হয়েছিল।
মোকামতলা উপজেলার কয়েকজন বিএনপি নেতা-কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে যাঁরা নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন, তাঁদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের দলে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার ঘটনায় তৃণমূলে হতাশা তৈরি হচ্ছে।
মোকামতলা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মানিক বলেছেন, ‘জাহাঙ্গীরকে আমি আগে চিনতাম না। বিএনপির এক ইফতার মাহফিলে তার সঙ্গে পরিচয়। তিনি যুবলীগ করেছেন কি না, আমার জানা নাই। তবে গত সংসদ নির্বাচনে জাহাঙ্গীর ধানের শীষের ভোট করেছেন।’
"জাহাঙ্গীর আলম অনেক আগে থেকেই যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যুবলীগের কমিটিতেও তাঁর নাম রয়েছে।"
"জাহাঙ্গীর আলম আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলেন, এটি স্থানীয়ভাবে সবাই জানেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বগুড়ার মোকামতলা উপজেলা, দেউলী ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাহাঙ্গীর আলম, ওবায়দুল ইসলাম, কাজী মেহেদুল ইসলাম, মাহমুদ হাসান তৌফিক, মাহবুব আলম মানিক, রোকনুদ্দৌলা রুবেল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২৩ (তালিকায় নাম), ২৩ (কমিটির সদস্য নম্বর), ৩২ (কমিটির সদস্য সংখ্যা), ২ (আগস্ট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!