📌 বাগেরহাটের লাবণ্য ইসলামের প্রশ্নে জামিয়া উলুমিল ইসলামিয়া বানুরি টাউনের দারুল ইফতা বলেছে, শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা শরিয়তের বাধ্যতামূলক নয়। তবে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্মানেই পরিবারের শান্তি স্থায়ী হয়
বাগেরহাটের একজন পাঠক লাবণ্য ইসলামের প্রশ্নে বিয়ের পর শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা কি পুত্রবধূর ওপর শরিয়তের বাধ্যতামূলক — এই বিষয়ে ইসলামের বিধান জানতে চেয়েছেন। দাম্পত্য ও পারিবারিক সম্পর্কের শান্তি রক্ষায় কোরআন ও হাদিসের শিক্ষা কী তা নিয়ে জামিয়া উলুমিল ইসলামিয়া বানুরি টাউনের দারুল ইফতা একটি স্পষ্ট ফতোয়া জারি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা শরিয়তের বাধ্যতামূলক (ওয়াজিব) নয়, তবে স্বামীর মা-বাবাকে নিজের মা-বাবার মতো বিবেচনা করা উত্তম
- 📌 পুত্রবধূকে জোরপূর্বক সেবায় বাধ্য করা বা মানসিক চাপ দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে সমীচীন নয়
- 📌 শ্বশুর-শাশুড়িরও উচিত পুত্রবধূকে নিজের মেয়ের মতো স্নেহ ও সম্মান প্রদান করা
- 📌 দাম্পত্যজীবন পরিচালিত হওয়া উচিত পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহমর্মিতার ভিত্তিতে, নয় কঠোর আইনের উপর
- 📌 ফতোয়া নং: ১৪৪৫১১১০২০৯৬ অনুযায়ী, শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নৈতিকতার বিষয়
📰 বিস্তারিত
বাগেরহাটের লাবণ্য ইসলামের প্রশ্নে ইসলামের দৃষ্টিতে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা কি বাধ্যতামূলক তা নিয়ে জামিয়া উলুমিল ইসলামিয়া বানুরি টাউনের দারুল ইফতা একটি ফতোয়া প্রকাশ করেছে। ফতোয়ায় বলা হয়েছে, শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা শরিয়তের বাধ্যতামূলক নয়। তবে স্বামীর মা-বাবাকে নিজের মা-বাবার মতো বিবেচনা করে তাঁদের সেবা করা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়।
ফতোয়ায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যদি কড়া আইনি বা অধিকারের হিসাব কষা হয়, তবে এমন বহু বিষয় রয়েছে যা শরিয়তের দৃষ্টিতে স্বামীর ওপরও সরাসরি আবশ্যক নয়, কিন্তু স্বামী স্ত্রীকে ভালোবেসে সেসব অধিকার বা সুযোগ দিয়ে থাকেন। তাই দাম্পত্যজীবন শুধু কঠোর আইন বা শরিয়তের ফরজ-ওয়াজিবের মাপকাঠিতে পরিচালিত না হয়ে বরং পারস্পরিক আন্তরিকতা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার হাত ধরে চলা উচিত।
পারিবারে যার যার দায়িত্ব ও অবস্থান — শ্বশুর-শাশুড়ির ভরণপোষণ ও মৌলিক সেবাযত্ন করার মূল দায়িত্বটি মূলত তাঁদের নিজেদের সন্তানের (ছেলের)। তাই পুত্রবধূকে জোরপূর্বক সেবায় বাধ্য করা বা এই নিয়ে তাঁর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। একইভাবে শ্বশুর-শাশুড়িরও উচিত পুত্রবধূকে নিজের ঘরের একজন পরবাসী বা সেবক না ভেবে নিজের মেয়ের মতো স্নেহ করা, তাঁর ছোটখাটো সীমাবদ্ধতাগুলোকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা এবং সম্মান দেওয়া।
ফতোয়ায় কোরআন ও হাদিসের শিক্ষা তুলে ধরে বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা স্বামীদের উদ্দেশে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো’ (সুরা নিসা: ১৯)। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মুমিনদের মধ্যে ইমানের দিক দিয়ে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর এবং যে তার পরিবারের (স্ত্রীর) কাছে সবচেয়ে বেশি উত্তম’ (সুনানে তিরমিজি: ২৬১২)।
"পুত্রবধূকে জোরপূর্বক সেবায় বাধ্য করা বা এই নিয়ে তাঁর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। একইভাবে শ্বশুর-শাশুড়িরও উচিত পুত্রবধূকে নিজের মেয়ের মতো স্নেহ ও সম্মান প্রদান করা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাগেরহাট, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুফতি খালিদ কাসেমি (ইসলামবিষয়ক গবেষক), লাবণ্য ইসলাম (পাঠক)
- 📜 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ফতোয়া নং: ১৪৪৫১১১০২০৯৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!