📌 পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নির্বাচনের আগে সহিংসতায় ৪০ নিহত (৩৪ বিক্ষোভকারী + ৬ পুলিশ)। জেএএসি ১২ শরণার্থী আসন বাতিল দাবি — সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ। নির্বাচন ৩ ধাপে, প্রথম ধাপ ২৭ জুলাই।
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে (আজাদ জম্মু-কাশ্মীর) আইনসভা নির্বাচনের আগে সহিংসতায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন — তাঁদের মধ্যে ৩৪ জন বিক্ষোভকারী ও ৬ জন পুলিশ/আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য। নাকাশ জারদাদ নামের ৩০ বছর বয়সী এক শিক্ষা বিভাগের কর্মী রাওয়ালাকোটে নিজ মহিষের খামারে ছিলেন — কাছেই পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ শুরু হলে লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। অধিকারকর্মী জোট জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরিদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আইনসভা আসন বাতিলের দাবিতে লংমার্চ ডেকেছিল — সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জেএএসিকে নিষিদ্ধ করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নিহত: ৪০ জন — ৩৪ বিক্ষোভকারী + ৬ পুলিশ/আধা-সামরিক সদস্য।
- 📌 উদাহরণ নিহত: নাকাশ জারদাদ (৩০) — শিক্ষা বিভাগ কর্মী, রাওয়ালাকোট; চাচা আলতাফ হোসেন বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন।
- 📌 নির্বাচন: ৩ ধাপে — প্রথম ধাপ শুরু ২৭ জুলাই।
- 📌 আইনসভা: ৫৩টি আসন — ৩৩ সরাসরি ভোট, ৮ নারী/অন্যান্য সংরক্ষিত, ১২ বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি সংরক্ষিত।
- 📌 জেএএসি দাবি: ১২টি শরণার্থী আসন বাতিল — ১৯৭০-এর দশক থেকে চলে আসা ব্যবস্থা।
- 📌 সরকার পদক্ষেপ: সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জেএএসি নিষিদ্ধ; নির্বাচন চলবে।
- 📌 ২০২১ নির্বাচন: পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা — ২০২২-এ পার্লামেন্টে অনাস্থায় ক্ষমতাচ্যুত; এরপর ৪ জন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন।
- 📌 বর্তমান ক্ষমতাসীন: পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)।
- 📌 ভয়ের পরিবেশ: মুজাফফরাবাদে প্রার্থীরা নীরব প্রচার — ঘরোয়া সমাবেশ; নারী প্রার্থী নরিন আরিফ দরজা-দরজা প্রচার।
📰 বিস্তারিত
নাকাশ জারদাদ স্রেফ ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ছিলেন। শিক্ষা বিভাগের এই কর্মী পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের রাওয়ালাকোট এলাকায় নিজের মহিষের খামারে ছিলেন — সে সময় কাছেই পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যায়। খামারের চারপাশের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জারদাদ বাড়ি ফিরতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে গোলাগুলি শুরু হয় — লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে একটি গুলি এসে লাগে ৩০ বছর বয়সী এই তরুণের গায়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন তাঁর চাচা আলতাফ হোসেন।
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আইনসভা নির্বাচনের আগে যে ৪০ জন নিহত হয়েছেন, জারদাদ তাঁদেরই একজন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৪ জন ছিলেন বিক্ষোভকারী — বাকি ছয়জন পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য। মারাত্মক কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে রাওয়ালাকোটে। অধিকারকর্মী গোষ্ঠীগুলোর জোট জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) লংমার্চ ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল — সমালোচকদের অভিযোগ, এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে।
🏛️ শরণার্থী আসন সংরক্ষণ বিতর্ক
কয়েক দশক আগে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানে আসা শরণার্থীদের জন্য স্থানীয় আইনসভায় বরাদ্দ ১২টি আসন বাতিলের দাবিতে জনগণকে প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছে জেএএসি — এর জবাবে সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জেএএসিকে নিষিদ্ধ করে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করে। তবে জেএএসি বলছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।
আইনসভার ৫৩টি আসনের মধ্যে সংরক্ষিত এই ১২ আসন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অঞ্চলে বিতর্ক চলে আসছে। এই আইনসভার ৩৩টি আসনে সরাসরি ভোট হয় — আটটি আসন নারী ও অন্যদের জন্য সংরক্ষিত। বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরিদের জন্য এই আসনগুলো বরাদ্দের নিয়মটি শুরু হয় ১৯৭০-এর দশকে — ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে যেসব মানুষ পাকিস্তানে এসে বসতি গড়েছিলেন, তাঁদের জন্য এই আইন করা হয়েছিল। আশা ছিল, দীর্ঘদিনের এই বিরোধ মিটে গেলে একদিন তাঁরা নিজ দেশে ফিরতে পারবেন। কিন্তু যাঁদের জন্য আসনগুলো সংরক্ষিত রাখা হয়েছে, তাঁদের অনেকেই আসলে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে থাকেন না — এর মানে হলো, স্থানীয় বাসিন্দারা চাইলেও এই আসনগুলোতে নির্বাচন করতে পারেন না।
📅 নির্বাচনের ইতিহাস
২০২১ সালের সর্বশেষ আইনসভা নির্বাচনে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল — যদিও ২০২২ সালে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে দলটি ক্ষমতাচ্যুত হয়। এর পর থেকে এই অঞ্চলে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে চারজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছে। পাকিস্তানে আজাদ জম্মু-কাশ্মীর (এজেকে) হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী আর রাষ্ট্রপ্রধান প্রেসিডেন্ট পদবি ব্যবহার করেন।
😨 ভয়ের পরিবেশ
নির্বাচনের আগে বিবিসির সাংবাদিকেরা প্রাদেশিক রাজধানী মুজাফফরাবাদ ঘুরে দেখেছেন — সেখানে সর্বত্র উত্তেজনা ও ভয়ের স্পষ্ট পরিবেশ বিরাজ করছে। বেশির ভাগ মানুষই নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি — কারও কারও মনে ভয় ছিল, নির্বাচন বা নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর পক্ষে কথা বললে জেএএসি তাঁদের 'বিশ্বাসঘাতক' বা 'দালাল' তকমা দিতে পারে। অন্যদিকে যাঁরা জেএএসিকে সমর্থন করেন, তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হাতে হয়রানির শিকার হওয়ার ভয়ে ছিলেন। এর মধ্যে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে — প্রার্থীদের গাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তিতে আগুন দেওয়া হয়েছে, এমনকি কোনো কোনো প্রার্থীর ওপর হামলাও হয়েছে। পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) একমাত্র নারী প্রার্থী নরিন আরিফ বিবিসিকে বলেন, জেএএসির বিক্ষোভের কারণে তিনি জনসমাবেশের বদলে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রাজনৈতিক বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
"নির্বাচন চলবেই — তবে এটি হবে তিন ধাপে, যার প্রথম ধাপ শুরু হবে ২৭ জুলাই।" — পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর কর্তৃপক্ষ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- অঞ্চল: পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর (আজাদ জম্মু-কাশ্মীর / AJK)
- রাজধানী: মুজাফফরাবাদ
- নিহত: ৪০ (৩৪ বিক্ষোভকারী + ৬ পুলিশ/আধা-সামরিক)
- উদাহরণ নিহত: নাকাশ জারদাদ (৩০, শিক্ষা বিভাগ, রাওয়ালাকোট) — চাচা আলতাফ হোসেন
- আইনসভা: ৫৩ আসন (৩৩ সরাসরি + ৮ নারী/অন্যান্য + ১২ শরণার্থী)
- শরণার্থী আসন: ১৯৭০-এর দশক থেকে
- জেএএসি দাবি: ১২ আসন বাতিল
- সরকার পদক্ষেপ: সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জেএএসি নিষিদ্ধ
- নির্বাচন: ৩ ধাপে, প্রথম ধাপ ২৭ জুলাই
- ২০২১: পিটিআই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা
- ২০২২: পিটিআই পার্লামেন্টে অনাস্থায় ক্ষমতাচ্যুত
- পরবর্তী: ৪ জন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন
- বর্তমান ক্ষমতাসীন: পিএমএল-এন
- নারী প্রার্থী: নরিন আরিফ (পিএমএল-এন, একমাত্র)
- সূত্র: বিবিসি; প্রথম আলো, বিশ্ব বিভাগ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!