📌 বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রাজপথে চলমান কর্মসূচি ও সংঘাতের সমালোচনা করে বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার সময় দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। তিনি জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারের সমাধান গণতান্ত্রিক পথেই হতে হবে বলে দাবি করেছেন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ রোববার ঢাকার আইনজীবী সমিতি ভবনে অনুষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বলেছেন, রাজপথে চলমান কর্মসূচি ও সংঘাতের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশ সফর করে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার সময় গার্মেন্টস খাতসহ রাজপথে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিএনপির রিজভী: “রাজপথে ‘মৌরসি পাট্টা’ দেওয়া হয়নি যে আমরা চুপ থাকব” — বিরোধী দলের কর্মসূচি ও আলটিমেটামের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ১৭ বছরের সংগ্রামের ফলস্বরূপ আজকের অবস্থানে এসেছে দলটি।
- 📌 “দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চলছে, কিন্তু রাজপথে সংঘাত সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে” — রিজভী অভিযোগ করেছেন।
- 📌 “জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারের সমাধান গণতান্ত্রিক পথেই হতে হবে — লংমার্চ বা সড়ক অবরোধে নয়” — তিনি সংবিধানকে ‘জাতির আত্মজীবনী’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেছেন।
- 📌 “গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বেশিরভাগই ‘পরাজিত স্বৈরাচারী শক্তির দোসর’” — রিজভী বলেছেন, যানবাহনে আগুন দেওয়া ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারদের এই অভিযোগ করেছেন।
- 📌 “আইনজীবীদের সম্মিলিত প্রতিবাদ ও আইনি লড়াই না থাকলে জুলুমের মাত্রা আরও বাড়ত” — রিজভী নিজের ৩৫ দিনের রিমান্ডের স্মৃতি উল্লেখ করে বলেছেন।
📰 বিস্তারিত
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ রোববার ঢাকার আইনজীবী সমিতি ভবনে অনুষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সভায় বলেছেন, “রাজপথ কাউকে ‘মৌরসি পাট্টা’ দেওয়া হয়নি যে আমরা চুপ করে বসে থাকব। আপনারা একের পর এক উসকানি দেবেন আর আমরা চুপ করে বসে থাকব না।” তিনি উল্লেখ করেছেন, দলটি ১৭ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম, নির্যাতন ও অসংখ্য নেতা-কর্মীর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে।
রিজভী দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর উদ্যোগ চলছে। কিন্তু রাজপথে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী যখন বিভিন্ন দেশ সফর করে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছেন, তখন গার্মেন্টস খাতসহ রাজপথে হঠাৎ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।”
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, “দলটি এসবের মূল ভাবনার বিরোধিতা করছে না। তবে জাতীয় পর্যায়ের যেকোনো সিদ্ধান্তের সমাধান গণতান্ত্রিক পথেই হতে হবে। সংবিধানকে ‘জাতির আত্মজীবনী’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়ের প্রয়োজনে এতে সংশোধনী আসতে পারে। তবে লংমার্চ বা সড়ক অবরোধের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়। সমাধান হতে হবে আলোচনার টেবিলে এবং জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে।”
রিজভী অতীতে স্বৈরাচারের কাছে নতজানু হওয়া ব্যক্তিদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “যাঁরা অতীতে স্বৈরাচারের কাছে নতজানু হয়েছিলেন এবং নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের মুখে এখন বিপ্লবের কথা মানায় না। জনগণের কাছে সবার অতীত ইতিহাস পরিষ্কার।”
সভায় তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাড়ে তিন দশকের ঐতিহ্য স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আদালত প্রাঙ্গণই ছিল তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের শেষ আশ্রয়স্থল। আমার নিজের টানা ৩৫ দিনের রিমান্ডের স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সম্মিলিত প্রতিবাদ ও আইনি লড়াই না থাকলে জুলুমের মাত্রা আরও বাড়ত। তিনি বিচার বিভাগের দলীয়করণের অভিযোগ তুলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড এবং বিচারব্যবস্থার দুরভিসন্ধিমূলক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন।
"রাজপথ কাউকে ‘মৌরসি পাট্টা’ দেওয়া হয়নি যে আমরা চুপ করে বসে থাকব। আপনারা একের পর এক উসকানি দেবেন আর আমরা চুপ করে বসে থাকব না"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আইনজীবী সমিতি ভবন, পুরান ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুহুল কবির রিজভী (বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ বছর (বিএনপির সংগ্রাম), ৩৫ বছর (ফোরামের প্রতিষ্ঠা), ৩৫ দিন (রিজভীর রিমান্ড)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!