📌 আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন আইন পাসের প্রতিবাদে রাজধানীর বিজয়নগরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সরকারের উদ্দেশে বলেন, এই আইন একদিন তাদের জন্যই বুমেরাং হবে। তিনি আইনের দুর্বলতা ও গুম তদন্তের স্বাধীনতা দাবি করেন
রাজধানীর রাজনৈতিক পরিবেশে তীব্র প্রতিবাদ সৃষ্টি করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন আইন সংসদে পাসের প্রতিবাদে দলটি বুধবার বিকেলে বিজয়নগরের বিজয়-৭১ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এই আইনকে তারা সরকারের জন্য ভবিষ্যতে বুমেরাং হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিজয়-৭১ চত্বরে বিক্ষোভ: এবি পার্টি গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন আইন পাসের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
- 📌 মঞ্জুর সতর্কবার্তা: চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, "ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। এই আইন একদিন আপনাদের জন্যই বুমেরাং হবে।"
- 📌 গুম তদন্তের দাবি: তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে গুম তদন্তের দায়িত্ব সরিয়ে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের হাতে দিতে চান।
- 📌 সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সমালোচনা: নতুন আইনে ভবিষ্যতে জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা তুলে ধরে মঞ্জু।
- 📌 ৩১ দফা প্রত্যাখ্যান: দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, সরকার ৩১ দফার সঙ্গে বেইমানি করেছে।
📰 বিস্তারিত
বিজয়নগরের বিজয়-৭১ চত্বরে আজ বুধবার বিকেল চারটায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন দলের যুব সংগঠন এবি যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন। মঞ্জু সরকারের উদ্দেশে বলেন, "আপনারা আমাদের উন্নত আইন দেওয়ার কথা বলে ধোঁকা দিয়েছেন। একের পর এক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছেন। গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।"
মঞ্জু গুমের তদন্তের বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা পুলিশের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে, তাদের হাতে তদন্ত থাকলে তা নিছক প্রহসন। গুমের তদন্তের দায়িত্ব এমন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের হাতে দিতে হবে, যাদের কর্মকর্তাদের বদলি বা পদোন্নতি নিয়ে কোনো চাপের ভয় থাকবে না।"
সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলের সমালোচনা করে মঞ্জু বলেন, "নতুন আইনে ভবিষ্যতে নানা ধরনের জটিলতা ও বিরোধ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দানকৃত সম্পত্তি পরবর্তী সময়ে বিক্রি বা হস্তান্তরের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।" তিনি তিনটি আইন পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের দাবি জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, "যাঁরা ধানখেতে, পাটখেতে ঘুমানোর ইতিহাস দেখেছেন, তাঁরা আজ নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের ভোটে সংসদে গিয়ে সেই ইতিহাস ভুলে গেছেন।" তিনি ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আইন ফিরিয়ে আনার দাবি করেন এবং বলেন, "আওয়ামী লীগের আইন যদি ফিরিয়ে আনতেই হয়, তাহলে আওয়ামী লীগকেও ফিরিয়ে নিয়ে আসুন।" ফুয়াদ সতর্ক করে বলেন, "ভুলে যাবেন না, আবারও মুচলেকা দিতে হতে পারে।"
"আপনারা আমাদের উন্নত আইন দেওয়ার কথা বলে ধোঁকা দিয়েছেন। একের পর এক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছেন। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আজ যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, আগামী দিনে তাঁরাও ক্ষমতার বাইরে যেতে পারেন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার নিয়ে করা এই আইন একদিন আপনাদের জন্যই বুমেরাং হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিজয়নগর, রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মজিবুর রহমান মঞ্জু (চেয়ারম্যান, এবি পার্টি), আসাদুজ্জামান ফুয়াদ (সাধারণ সম্পাদক, এবি পার্টি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭১ (বিজয়-৭১ চত্বরে), ৩১ (দফা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!