📌 বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে একই ফ্যাসিবাদী চরিত্রের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের মামলা প্রত্যাহার ও অপরাধীদের বিচারের অভাবের মাধ্যমে ক্ষমতাবানরা গণতন্ত্রের ধ্বংস করছে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে একই ফ্যাসিবাদী চরিত্রের দায়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, শুধু দলের নাম পরিবর্তন হয়েছে, বাকি সব চরিত্র একই রকম। ২৬ অক্টোবর ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে অনুষ্ঠিত সেমিনারে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জামায়াতের সেক্রেটারি গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে নামের পার্থক্য ছাড়া চরিত্র সম্পূর্ণ একই — চাঁদাবাজি, খুন, দখলদারি ইত্যাদি সবই চলছে, শুধু নাম উল্টে গেছে
- 📌 তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের মামলা প্রত্যাহারের অভিযোগ তুলে বলেছেন, সরকারকে মামলা পুনরুজ্জীবিত করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে হবে
- 📌 গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কাছে শিখেছে যে, ক্ষমতায় না থাকলে গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু ক্ষমতায় গেলে ফ্যাসিবাদের পথ ধরে
- 📌 তিনি তারেক রহমানের উদাহরণ দিয়েছেন, যিনি নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে নিজের দেওয়া হ্যাঁ ভোটের সঙ্গে গাদ্দারী করেছেন
- 📌 গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর জোট সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের দিন বিএনপির হামলায় ইসলামী আন্দোলনকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে তারা জড়িত ছিল
- 📌 তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন সেদিন যাদের হাতে ক্ষমতা ছিল তারা নিষ্ঠুর বর্বরতা রুখে দিতে ব্যর্থ হয়েছিল
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে শুধু দলের নাম পরিবর্তন হয়েছে, বাকি সব চরিত্র একই। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, খুন, দখলদারি, হাট কমিটি, বাজার কমিটি, স্কুল কমিটি, বালুঘাট, টেম্পু স্ট্যান্ড, বাস স্ট্যান্ড — যা আগে চলতো, এখনো ঠিকই চলছে, তবে নামটা শুধু উল্টে গেছে।
গোলাম পরওয়ার ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের মামলা প্রত্যাহারের অভিযোগ তুলে বলেন, ২০০৯ সালের হাসিনা সরকার সেই মামলা প্রত্যাহার করে নিল এবং মামলার নথিপত্র নিখোঁজ করে দিল। তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আপনারা আওয়ামীলীগকে সত্যিই খুনি ফ্যাসিবাদী চরিত্র বলে মনে করে থাকেন, তাহলে ২৮ অক্টোবরের মামলা পুনরুজ্জীবিত করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করুন।"
তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কাছে শিখেছে ক্ষমতায় না থাকলে গণতন্ত্র, ক্ষমতায় গেলে কীভাবে ফ্যাসিবাদের পথ ধরতে হয়। বিএনপি এখন সে পথেই হাঁটছে। তারেক রহমান নিজে নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে হাঁ ভোট চেয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে নিজের দেওয়া হ্যাঁ ভোটের সঙ্গে গাদ্দারী করার এমন নজির পৃথিবীর কোথাও নেই।"
গোলাম পরওয়ার ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবরের ঘটনাবলী নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "সেদিন গণতন্ত্র হত্যাকারী ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে আঁতাত করে ইসলামী আন্দোলনকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে তারা জড়িত ছিল কিনা? তা না হলে উত্তর গেটে হামলা হলো আর নয়া পল্টনে নির্বিঘ্নে সমাবেশ হলো কীভাবে?" তিনি আরও বলেন, "একটা সমাবেশে সাপের মতো মানুষকে পিটিয়ে পিটিয়ে লাশের উপর নৃত্য করা হলো আর আরেকটি সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে হয়ে গেলো। সেদিনও কোনো নতুন সরকার গঠিত হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ, র্যাব, বিডিআর, সেনাবাহিনী সবকিছু ছিল। সকাল থেকে লড়াই চলল, যুদ্ধ চললো সরকারের একজন মন্ত্রীর কর্মসূচিতে এমন নির্মম ঘটনা ঘটলো অথচ তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না।"
গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন করেন, "কেন সেদিন যাদের হাতে ক্ষমতা ছিল নিষ্ঠুর বর্বরতা রুখে দেওয়ার জন্য তারা ভূমিকা রাখেনি?" তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগের ইতিহাস হচ্ছে ফ্যাসিবাদের ইতিহাস। তারা ক্ষমতার বাইরে থাকলে গণতন্ত্রের কথা বলে আর যখন ক্ষমতার যায় তখনই গণতন্ত্র হত্যা করে।"
"রক্তে ভেজা ২৮ অক্টোবর, ফ্যাসিবাদের উত্থান : কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের চ্যালেঞ্জ করণীয়"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিয়া গোলাম পরওয়ার (জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ অক্টোবর (সেমিনার তারিখ), ২৮ অক্টোবর (হত্যাকাণ্ডের দিন), ২০০৬ (হত্যাকাণ্ডের বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!