📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এর বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২৬ অক্টোবর শেষ হলেও পরবর্তী নির্বাচনের কোনো সময়সূচি ঘোষণা না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। উপাচার্য জানান, গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বাড়ানোর বিধান নেই বলে কার্যকাল আর বাড়ানো যাবে না
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এর বর্তমান কমিটির মেয়াদ আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) শেষ হলেও পরবর্তী নির্বাচনের কোনো স্পষ্ট সময়সূচি বা উদ্যোগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর মেয়াদ ৩ মাস বাড়ানো হলেও রাকসুর ক্ষেত্রে সে সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৬ অক্টোবর ২০২৬ রাকসুর বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী নির্বাচনের কোনো সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি
- 📌 ৩৫ বছর পর ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল ২০টি পদে জয়লাভ করে
- 📌 উপাচার্য জানান, গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বাড়ানোর বিধান না থাকায় কার্যকাল আর বাড়ানো যাবে না
- 📌 রাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক সালমান সাব্বির বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গঠনতন্ত্র সংস্কার ও সময়সূচি প্রণয়নের জন্য
- 📌 ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচন সরকারের গ্রীন সিগনালের অপেক্ষায় থাকতে পারে
📰 বিস্তারিত
রাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, রাকসুর গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বাড়ানোর কোনো বিধান নেই। সেজন্য বর্তমান কমিটির মেয়াদ আজ শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “রাকসু ৩৫ বছর পর হয়েছে, আমরাও চাই রাকসু হোক। পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে, তখনই এর আয়োজন করা হবে।”
১৯৫৭ সালে ‘রাসু’ নামে যাত্রা শুরু করে রাকসু। সামরিক শাসনের কারণে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে ১৯৬২ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘রাকসু’ করা হয়। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত মোট ১৪টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৩৫ বছর রাকসুর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। গত বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে নয়টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ সহসভাপতি ও সহসাধারণ সম্পাদকসহ ২০টি পদে জয়লাভ করে।
শিক্ষার্থী মো. আরিফ আলভি বলেন, “রাকসু নির্বাচনের মেয়াদ আজ শেষ হলো। অথচ পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে কোনো আপডেট নেই। এ নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। রাকসু কোনো দয়া বা দান নয়, এটা আমাদের অধিকার। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং নেতৃত্বের বিকাশ ঘটায়। একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে অবশ্যই রাকসু চাই। অন্যথায় রাজপথে দেখা হবে। আমাদের অধিকার নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেব না।”
"আমাদের সফলতা কেবল আমরা কী করতে পেরেছি বা কী করতে পারিনি, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসুকে বাস্তবে রূপ দিতে পারা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বাকি খাওয়া কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ঊর্ধ্বে থেকে মেয়াদ শেষ করতে পারাটাই আমাদের আসল সফলতা বলে মনে করি।"
রাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির বলেন, “পরবর্তী রাকসু নির্বাচন ও নতুন সংসদের পথ সুগম করতে আমরা শুরু থেকেই কাজ করে আসছি। সর্বশেষ অধিবেশনে বর্তমান কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গঠনতন্ত্র সংস্কার, নির্বাচনী তফসিল প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। এ বিষয়ে আমরা স্যারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।”
রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “ভিসি স্যার আমাদের জানিয়েছেন যে পরবর্তী নির্বাচন তিনি দিবেন। কিন্তু কার্যকরী সিদ্ধান্ত বা কোন পদক্ষেপ আমরা এখন পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছি না। এজন্য আমাদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে যে আসলেই নির্বাচন উনি নিরপেক্ষভাবে, স্বতন্ত্রভাবে দিবে না কি সরকারের গ্রীন সিগনালের অপেক্ষায় থাকবে। এটা ভাবার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মো. ফরিদুল ইসলাম (উপাচার্য), সালমান সাব্বির (রাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক), মো. আরিফ আলভি (শিক্ষার্থী), মোস্তাকুর রহমান জাহিদ (রাকসুর ভিপি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ অক্টোবর (মেয়াদ শেষ), ৩৫ বছর (বন্ধ অবস্থান), ১৬ অক্টোবর (২০২৫, নির্বাচন), ২৩টি পদ, ২০টি পদ (জয়লাভ), ১৪টি নির্বাচন (১৯৮৯ পর্যন্ত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!