📌 ষাটের দশকের গ্রামীণ জীবনের প্রতীক বায়েজিদ হারিকেনের আলো আজও স্মৃতিতে জ্বলছে। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের বাদলপাড়া গ্রামের সেই হারিকেনের স্মৃতি লেখক তুলে ধরেছেন তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে
ষাটের দশকের গ্রামীণ জীবনের প্রতীক বায়েজিদ হারিকেনের আলো আজও স্মৃতিতে জ্বলছে। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের বাদলপাড়া গ্রামে হারিকেনের সেই হলুদ শিখা একসময় ছিল জীবনের একমাত্র আলোকবর্তিকা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের বাদলপাড়া গ্রামে হারিকেন ছিল জীবনের একমাত্র আলোক উৎস।
- 📌 হারিকেনটি ছিল বায়েজিদ মার্কা, যার চিমনিতে লেখা থাকত ‘মেড ইন ইংল্যান্ড’।
- 📌 লেখকের মা প্রতিদিন হারিকেনের চিমনি পরিষ্কার করতেন এবং সলতেটা উসকে দিতেন।
- 📌 ২০১৪ সালে লেখক তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে একটি ভাঙা হারিকেন উদ্ধার করেন, যা তিনি সংরক্ষণ করে রেখেছেন।
- 📌 লেখক ১৯৬৭ সালে চরামদ্দি ডব্লিউ কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন এবং পরবর্তীতে বরিশাল বিএম কলেজে ভর্তি হন।
📰 বিস্তারিত
ষাটের দশকে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের বাদলপাড়া গ্রামে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে নেমে আসত গভীর অন্ধকার। গ্রামজুড়ে বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি তখনও। সেই সময় হারিকেন ছিল জীবনের একমাত্র আলোক উৎস। লেখকের মা প্রতিদিন সন্ধ্যায় হারিকেন জ্বালাতেন। চিমনির ভেতরে হলুদ শিখাটি ঘরের ভেতরে নরম আলো ছড়াত। হারিকেনটি ছিল বায়েজিদ মার্কা, যার চিমনিতে লেখা থাকত ‘মেড ইন ইংল্যান্ড’।
লেখকের পরিবারে ছিল তিন ভাই ও চার বোন। সন্ধ্যার পর মা খুলে বসতেন সীতানাথ বসাকের ‘আদর্শলিপি’। লেখক মায়ের গা ঘেঁষে বসে অক্ষর চেনার চেষ্টা করতেন। তালপাতা সেদ্ধ করে শুকিয়ে রাখা হতো, আর লোহার সুচালো কলম দিয়ে কেউ একজন পাতায় বাংলা ও ইংরেজি অক্ষর খোদাই করে দিতেন। লেখক কয়লার গুঁড়া গুলে কালি তৈরি করতেন এবং বাঁশের কঞ্চির কলম দিয়ে খোদাই করা অক্ষরের ওপর হাত ঘোরাতেন।
শীতের রাতগুলো ছিল অন্যরকম। জ্যোৎস্না রাতে জানালা দিয়ে চাঁদের আলো ঘরে প্রবেশ করত। হারিকেনের আলোর সঙ্গে মিশে যেত সেই চাঁদের আলো। মা বলতেন, চাঁদের বুকে এক বুড়ি সারা রাত চরকায় সুতা কাটেন। লেখক তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতেন, সত্যিই কি কেউ ওখানে বসে আছে?
রাঙামাটি নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। জেলেরা ছোট ছোট নৌকায় হারিকেন ঝুলিয়ে জাল ফেলতেন। ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ উঠত নদীর বুক থেকে। লেখক পাড়ে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখতেন। দূর থেকে মনে হতো, নদীর বুকে জোনাকিরা ভেসে বেড়াচ্ছে।
লেখক ১৯৬৭ সালে চরামদ্দি ডব্লিউ কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি বরিশাল বিএম কলেজে ভর্তি হন এবং সেখানে প্রথম বিদ্যুতের আলো দেখেন। পরবর্তী জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করেন এবং তিন মেয়ের জন্ম দেন। জীবনের বড় একটা পথ পেরিয়ে এসে তিনি এখন অবসরজীবন যাপন করছেন।
"এখন আমার গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হয় না বললেই চলে। একবার, ২০১৪ সালে সম্ভবত গ্রামের বাড়ির ঘরের কোণে পুরোনো জিনিসের ভেতর থেকে একটা ভাঙা হারিকেন উদ্ধার করলাম। চিমনিটা নেই। গায়ে মরিচা পড়েছে। তবু ওটা ফেলতে পারিনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লেখক (পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৭ (বায়েজিদ হারিকেন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!