📌 শৈশবের দুই সঙ্গী শাপলা ও নীলার জীবনের গল্প উঠে এসেছে পাঠকের কলমে। অক্ষর শেখার লড়াই থেকে শুরু করে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির টুকরোগুলো ফিরে দেখা হয়েছে এই লেখায়
শৈশবের দুই সঙ্গী শাপলা ও নীলার জীবনের গল্প উঠে এসেছে পাঠকের কলমে। অক্ষর শেখার লড়াই থেকে শুরু করে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির টুকরোগুলো ফিরে দেখা হয়েছে এই লেখায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮৮ নম্বর পাঠকের লেখায় শাপলা ও নীলার শৈশবের গল্প স্থান পেয়েছে
- 📌 শাপলাকে অক্ষর শেখাতে গিয়ে পরিবারের সবাই হিমশিম খেয়েছেন
- 📌 শাপলার স্মৃতিশক্তি দুর্বল থাকায় তাকে বারবার অক্ষর শেখাতে হয়েছে
- 📌 নীলা ছিল লেখকের অত্যন্ত কাছের মানুষ, যার সঙ্গে খেলা, গল্প ও পড়াশোনা হতো
- 📌 নীলার সঙ্গে পুনর্মিলনের সময় লেখক অস্বস্তিতে ভুগেছেন
- 📌 শাপলা ইচ্ছাকৃতভাবে অক্ষর ভুলে যাওয়ার ভান করতেন বলে জানা গেছে
📰 বিস্তারিত
শাপলাকে অক্ষর শেখাতে গিয়ে পরিবারের সবাই প্রায় হাঁপিয়ে উঠেছিলেন। লেখা তো দূরের কথা, প্রতিদিন ‘অ আ’ শেখালেও পরদিন শুধু ‘অ’ মনে রাখত সে। ফলে ‘ই’-তে যাওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না তার। ক, খ; এক, দুই; এ, বি, সি, ডি—সবকিছুতেই একই অবস্থা। ৮ থেকে ৯ বছর বয়সী একটা মেয়ের স্মৃতিশক্তি এতটাও খারাপ হওয়ার কথা নয় বলে মনে করেন লেখক।
শাপলা ছিল অত্যন্ত চটপটে মেয়ে। পদ্মার ওপারের চরে তার বাড়ি। হিসাবমতো, অক্ষর শেখা তার জন্য সহজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে পড়াতে বসালে পরিবারের সবার কপালের ঘাম ছুটে যেত। তাতে অবশ্য শাপলার কোনো রেহাই ছিল না। রোজ সন্ধ্যায় পরিবারের সবার সঙ্গে তাকে পড়তে বসতে হতো।
শাপলা যখন প্রথমবার লেখকের বাড়িতে আসে, তখন ছিল শীতকাল। গায়ে চাদর পেঁচিয়ে গলার কাছে বেঁধে রাখা ছিল তার। রোদে পোড়া মুখটা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, সে নিয়মিত মাঠে কাজ করে। হাসলে তার সামনের বড় বড় সাদা দাঁত দুটি চোখে লাগত ভীষণ। মাঠের কাজ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্যই সম্ভবত শাপলার নানি তাকে কোথাও কাজের জন্য রেখে যেতে চেয়েছিলেন।
সব বুঝেশুনে লেখকের মা শাপলাকে রেখে দিয়েছিলেন। তখন লেখকের ছোট ভাই সদ্য হাঁটা শেখা অবস্থায় ছিলেন। শাপলা ভাইয়ের সঙ্গে ছুটে বেড়াত বলে তার নাম হয়ে গিয়েছিল ‘শাপরা’। কারণ লেখকের ভাই তখন ‘ল’ উচ্চারণ করতে পারত না, বলত ‘র’। শাপলা লেখকের চেয়ে এক থেকে দুই বছরের ছোট ছিল। সারা দিন পাখির মতো উড়ে বেড়াত সে। তরতর করে অনায়াসে যেকোনো গাছে উঠে যাওয়া, ডুবসাঁতার দিয়ে পুকুরের এপার থেকে ওপারে যাওয়া—সবই সহজ ছিল তার কাছে।
লেখকের অত্যন্ত কাছের মানুষ ছিলেন নীলা। একসময় মাকে বাড়ির কাজে সাহায্য করতে আসত এক খালা। তাঁরই মেয়ে ছিল নীলা। লেখকের সমবয়সী হওয়ায় তারা একসঙ্গে পড়া, খেলা ও গল্প করতেন। নীলা ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি। একবার ইংরেজির স্যার ‘মাইসেলফ’ প্যারাগ্রাফ লিখতে দিলে নীলা লেখকের খাতা দেখে লিখে জমা দেয়। পরে দেখা যায়, লেখকের মতো নীলাও লিখেছে, ‘মাই নেম ইজ তথাপি।’ এ ঘটনার জেরে কয়েক দিন বেশ হাসাহাসি হয়েছিল।
কয়েক বছর আগে হঠাৎ একবার নীলার সঙ্গে লেখকের দেখা হয়েছিল। টুকটুকে বেগুনি রঙের একটা শাড়ি ছিল তার পরনে। মাথায় ঘোমটাটা টেনে দেওয়া ছিল। পুরোপুরি সংসারী একজন নারী হিসেবে তাকে দেখে লেখক নিঃসংকোচ হয়ে কথা বলতে পারেননি। শৈশবের স্মৃতিগুলো তখন মাথার ভেতরে গরম পানির মতো টগবগ করে ফুটছিল। কথার ঝাঁপি খুলতে গিয়ে তিনি আটকে গিয়েছিলেন।
শাপলা ছিল নীলার বিপরীত স্বভাবের। একবার সে ভয়ংকর এক কাণ্ড ঘটিয়েছিল। ছাদের রেলিংয়ে বসে দুষ্টুমি করে ঢিল ছুড়ে দিয়েছিল। সরাসরি লেখকের চোখে এসে লাগায় তাকে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। তবে এসব ইঁদুর-বিড়াল খেলা বেশি দিন চলেনি। শাপলার নানি মিথ্যা বলে তাকে নিয়ে চলে গিয়েছিলেন। পরে জানা যায়, শাপলার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল।
শাপলা চলে যাওয়ার কিছুদিন পর তার পড়াশোনার রহস্য জানতে পেরে পরিবারের সবাই থ হয়ে গিয়েছিলেন। লেখকের নিজের প্রতিও ভীষণ অভিমান হয়েছিল। তিনি মনে করেন, শাপলা ছিল প্রজাপতির মতো, যাকে পাখির মতো পোষ মানানো যায় না। তাই শাপলাও তাকে আপন ভাবতে পারেনি। চুপিচুপি মনের কথাগুলোও তাকে বলতে পারেনি।
"আমার পড়তে ভালো লাগে না। তাই ইচ্ছা করেই পড়া ভুলে যাওয়ার ভান করি, যাতে ওরা আমাকে বেশি দূর পড়া শেখাতে না পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাপলা, নীলা, লেখক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৮
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!