📌 মহানবী (সা.) ইয়েমেনে পাঠানো মুয়াজ ইবনে জাবালকে বিদায় দিতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘হয়তো এ বছরের পর আমার তোমার দেখা হবে না’। কোরআনের আয়াত ও জীবনের শেষ দিকে তাঁর ভাষণে ছিল ইন্তেকালের গোপন ইঙ্গিত। সাহাবিরা কীভাবে বুঝতে পারলেন তাঁর শেষের দিন?
মহানবী (সা.) তাঁর ইন্তেকালের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এমনভাবে যে সাহাবিরা বুঝতে পারলেন তাঁর জীবনের শেষ নিকটে তিনি। নবম হিজরির প্রতিনিধিদলের বছর হিসেবে পরিচিত এই বছরেই তিনি ইয়েমেনে পাঠানো মুয়াজ ইবনে জাবালকে বিদায় দিতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘হে মুয়াজ, হয়তো এ বছরের পর তুমি আর আমার সাক্ষাৎ পাবে না। হয়তো তুমি আমার এই মসজিদ আর আমার কবরের পাশ দিয়ে যাবে’। এই কথাগুলো ছিল তাঁর ইন্তেকালের আভাস।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুয়াজ ইবনে জাবালকে বিদায়ে নবী (সা.) বলেছিলেন, ‘হয়তো এ বছরের পর আমার তোমার দেখা হবে না’ — যা ইন্তেকালের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত
- 📌 সুরা আন-নাসর নবীজির আয়ু শেষ হওয়ার সংবাদ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন ইবনে আব্বাস ও ওমর (রা.)
- 📌 ওমর (রা.) নবীজির ইন্তেকালের খবর শুনে মাটিতে পড়েছিলেন, ‘রাসুল (সা.) ইন্তেকাল করেননি’ বলে বললেও আয়াত শুনে বুঝতে পারলেন সত্যি ইন্তেকাল হয়েছে
- 📌 কোরআনে নবীজির ইন্তেকালের কথা বলা হয়েছে: ‘নিশ্চয়ই তুমি মরণশীল এবং তারাও মরণশীল’ (সুরা জুমার: ৩০)
- 📌 বিদায় হজে নবীজি ঘোষণা করেছিলেন, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম পূর্ণ করে দিলাম’ (সুরা মায়িদা: ৩)
📰 বিস্তারিত
নবম হিজরির প্রতিনিধিদলের বছর হিসেবে পরিচিত এই বছরেই মহানবী (সা.) ইয়েমেনে পাঠানো মুয়াজ ইবনে জাবালকে বিদায় দিতে গিয়ে তাঁর মুখে ইন্তেকালের ইঙ্গিত পড়েছিল। মদিনা থেকে ইয়েমেনের দীর্ঘ পথে মুয়াজকে বিদায় জানানোর সময় নবী (সা.) তাঁকে পায়ে হেঁটে কিছুটা পথ এগিয়ে দিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তে তিনি বলেছিলেন, ‘হে মুয়াজ, হয়তো এ বছরের পর তুমি আর আমার সাক্ষাৎ পাবে না। হয়তো তুমি আমার এই মসজিদ আর আমার কবরের পাশ দিয়ে যাবে’। এই কথাগুলো ছিল তাঁর ইন্তেকালের আভাস।
সুরা আন-নাসরে ইন্তেকালের ইঙ্গিত ছিল আরও স্পষ্ট। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছিলেন, এই সুরা নবীজির আয়ু শেষ হয়ে আসার সংবাদ। ওমর (রা.)ও তাঁর বক্তব্য সমর্থন করেছিলেন। সাহাবিরা কোরআনের আয়াত ও নবীজির ভাষণ থেকে বুঝতে পারতেন তাঁর জীবনের শেষ নিকটে তিনি। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই তুমি মরণশীল এবং তারাও মরণশীল’ (সুরা জুমার: ৩০)। আরেক আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আপনার পূর্বে আমি কোনো মানুষকে অনন্ত জীবন দিইনি’ (সুরা আম্বিয়া: ৩৪)।
বিদায় হজের ময়দানে নবী (সা.) ঘোষণা করেছিলেন, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম পূর্ণ করে দিলাম’ (সুরা মায়িদা: ৩)। এই ঘোষণা ছিল তাঁর জীবনের শেষ হজে ধর্মের পূর্ণতা ঘোষণা। সাহাবিরা বুঝতে পারলেন, তাঁর জীবনের শেষ নিকটে তিনি।
“হে মুয়াজ, হয়তো এ বছরের পর তুমি আর আমার সাক্ষাৎ পাবে না। হয়তো তুমি আমার এই মসজিদ আর আমার কবরের পাশ দিয়ে যাবে।”
ওমর (রা.) নবীজির ইন্তেকালের খবর শুনে মাটিতে পড়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘রাসুল (সা.) ইন্তেকাল করেননি’। কিন্তু যখন আয়াত ‘মুহাম্মদ একজন রাসুল ছাড়া আর কিছু নন’ (সুরা আলে ইমরান: ১৪৪) পাঠ করা হলো, ওমর (রা.) বুঝতে পারলেন নবীজি সত্যিই ইন্তেকাল করেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মদিনা, ইয়েমেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.), ওমর (রা.), ইবনে আব্বাস (রা.), আবু বকর (রা.), মহানবী (সা.)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪৪ (সুরা আলে ইমরান), ৩০ (সুরা জুমার), ৩৪ (সুরা আম্বিয়া), ৩ (সুরা মায়িদা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!