📌 ফেরাউনের হত্যার নির্দেশের মুখে মুসা (আ.)-কে নীলনদে ভাসিয়ে দেন তাঁর মা। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেই শিশু ফিরে আসেন তাঁর কোলে, এমনকি ফেরাউনের পরিবারেই লালিত হন। ইসলামের শিক্ষায় তাওয়াক্কুলের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে এই ঘটনায়
ফেরাউনের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী তাঁর সিংহাসন ধ্বংস হবে বনি ইসরাইলের এক পুত্রসন্তানের হাতে। এই আশঙ্কায় তিনি রাজ্যে জন্ম নেওয়া সব ইসরাইলি শিশুকে হত্যার নির্দেশ দেন। এমন বিপজ্জনক পরিবেশে মুসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা নবজাতককে নিয়ে আতঙ্কিত ছিলেন। চারদিকে মৃত্যুভয় ঘিরে থাকলেও আল্লাহ তাঁকে দুটি প্রতিশ্রুতি দেন—শিশুকে আবার তাঁর কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং তিনি একদিন আল্লাহর রাসুল হবেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফেরাউনের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল তাঁর রাজ্য ধ্বংস হবে ইসরাইলি এক শিশুর হাতে
- 📌 মুসার মা আল্লাহর নির্দেশে তাঁকে একটি কাঠের সিন্দুকে ভাসিয়ে দেন নীলনদে
- 📌 আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিশুটি আবার তাঁর মায়ের কাছে ফিরে আসেন
- 📌 ফেরাউনের স্ত্রী শিশুটিকে নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব দেন
- 📌 ইসলামে তাওয়াক্কুলের শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে মুসার মায়ের ঘটনায়
📰 বিস্তারিত
মিসরের অত্যাচারী শাসক ফেরাউন তাঁর রাজ্য ধ্বংসকারী হিসেবে একজন ইসরাইলি শিশুর ভবিষ্যদ্বাণী শুনে সন্ত্রস্ত হন। তাঁর রাজ্যে জন্ম নেওয়া সব ছেলেশিশুকে হত্যার নির্দেশ দেন তিনি। এমন এক বিপজ্জনক পরিবেশে মুসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা নবজাতককে নিয়ে আতঙ্কিত ছিলেন। চারদিকে মৃত্যুভয় ঘিরে থাকলেও আল্লাহ তাঁকে দুটি প্রতিশ্রুতি দেন—প্রথমত, শিশুটিকে তাঁর মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হবে; দ্বিতীয়ত, তিনি একদিন আল্লাহর রাসুল হবেন।
আল্লাহ তাঁর মাকে নির্দেশ দেন, "আমি মুসার মায়ের হৃদয়ে নির্দেশ পাঠালাম যে তুমি তাকে দুধ পান করাও; অতঃপর যখন তুমি তার নিরাপত্তার ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ করবে, তখন তাকে নদীতে (নীলনদে) ভাসিয়ে দাও। তুমি ভয় পেয়ো না এবং শোকাচ্ছন্নও হয়ো না।" মুসার মা নিজের বুদ্ধি ও শক্তির ওপর ভরসা না করে আল্লাহর ওপর শতভাগ নির্ভর করেন। তিনি তাঁকে একটি কাঠের সিন্দুকে পুরে নীলনদে ভাসিয়ে দেন।
আল্লাহর কৌশল অনুযায়ী সেই সিন্দুক নীলনদের স্রোতে ভেসে ফেরাউনের প্রাসাদের ঘাটে গিয়ে থামে। ফেরাউনের স্ত্রী শিশুটিকে কুড়িয়ে নিয়ে বলেন, "এ শিশু আমার ও তোমার চোখের শীতলতা; তাকে মেরো না। হতে পারে সে আমাদের উপকারে আসবে কিংবা আমরা তাকে সন্তান হিসেবে গ্রহণ করতে পারি।" আল্লাহ বলেন, "ফেরাউনের পরিবার তাকে কুড়িয়ে নিল, যেন সে পরে তাদের শত্রু ও দুঃখের কারণ হয়।" এমনকি ফেরাউনের স্ত্রীর অনুরোধে শিশুটিকে তাঁর পরিবারেই লালন-পালন করা হয়।
আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুসাকে আবার তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন। কোরআনে বলা হয়েছে, "এভাবেই আমি তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার মায়ের চোখ জুড়ায়, সে যেন শোকাচ্ছন্ন না হয় এবং সে যেন জানতে পারে যে আল্লাহর ওয়াদা সত্য।" ইসলামি জীবনদর্শনে তাওয়াক্কুলের গুরুত্ব তুলে ধরে মহানবী (সা.) বলেছেন, "তোমরা যদি আল্লাহর ওপর প্রকৃত ভরসা করতে পারতে, তবে তিনি পাখিদের মতো তোমাদের রিজিক দান করতেন—যারা সকালে খালি পেটে বের হয় আর সন্ধ্যায় পেট ভরে নীড়ে ফেরে।"
"আমি মুসার মায়ের হৃদয়ে নির্দেশ পাঠালাম যে তুমি তাকে দুধ পান করাও; অতঃপর যখন তুমি তার নিরাপত্তার ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ করবে, তখন তাকে নদীতে (নীলনদে) ভাসিয়ে দাও। তুমি ভয় পেয়ো না এবং শোকাচ্ছন্নও হয়ো না।"
"ফেরাউনের পরিবার তাকে কুড়িয়ে নিল, যেন সে পরে তাদের শত্রু ও দুঃখের কারণ হয়। নিশ্চয়ই ফেরাউন, হামান ও তাদের বাহিনী ছিল চরম অপরাধী। ফেরাউনের স্ত্রী বলল, ‘এ শিশু আমার ও তোমার চোখের শীতলতা; তাকে মেরো না।’"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিশর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুসা (আ.), মুসার মা, ফেরাউন, ফেরাউনের স্ত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: সূরা কাসাসের আয়াত ৭, ৮-৯, ৩৮-৩৯, ১৩
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!