📌 বিয়েতে আর্থিক সামর্থ্যের হিসাব করতে গিয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। ইসলাম ধর্মে বিয়েকে আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআন ও হাদিস অনুসারে সচ্ছলতা লাভের জন্য বিয়েকে উৎসাহিত করা হয়েছে
বর্তমান সময়ে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়টি প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠেছে। মাসিক আয় দিয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে কিনা, ভবিষ্যৎ বাসস্থান কীভাবে নিশ্চিত হবে এবং আনুমানিক খরচ জোগাড় করা যাবে কিনা—এমন প্রশ্নগুলো তাদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশেষ করে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের এই যুগে পরিবারের দায়িত্ব পালন করা আদৌ সম্ভব হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কোরআনের সূরা নুরের ৩২ নম্বর আয়াতে অবিবাহিতদের বিবাহ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- 📌 ইবনে কাসিরের তাফসির অনুসারে সাহাবি আবু বকর ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বিয়েকে আল্লাহর কাছে সচ্ছলতা লাভের মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- 📌 সূরা রুমের ২১ নম্বর আয়াতে বিবাহের মাধ্যমে পারস্পরিক ভালোবাসা ও প্রশান্তি লাভের কথা বলা হয়েছে।
- 📌 ইসলাম ধর্মে বিয়েকে শুধু আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে যুক্ত না করে আল্লাহর উপর ভরসা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বিয়ের মতো পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এক ধরনের আশঙ্কা কাজ করছে। তারা ভাবছেন, তাদের বর্তমান আয় দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব হবে কিনা। ভবিষ্যৎ বাসস্থান কীভাবে নিশ্চিত হবে এবং আনুমানিক খরচ জোগাড় করা যাবে কিনা—এমন প্রশ্নগুলো তাদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশেষ করে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের এই যুগে পরিবারের দায়িত্ব পালন করা আদৌ সম্ভব হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।
ইসলাম ধর্মে বিয়েকে আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআনের সূরা নুরের ৩২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদের বিবাহ দাও এবং তোমাদের সৎকর্মশীল দাস ও দাসীদেরও; তারা যদি নিঃস্ব বা অভাবগ্রস্তও হয়, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।” এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মানুষকে আশার আলো দেখিয়েছেন। যারা কেবল দারিদ্র্যের ভয়ে দাম্পত্য জীবনের মতো একটি পবিত্র বন্ধনকে বিলম্বিত করছেন, তাদের জন্য এই আয়াতটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য।
ইবনে কাসিরের তাফসিরুল কুরআনিল আজিম গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাহাবি আবু বকর ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলতেন, “তোমরা বিয়ের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সচ্ছলতা ও প্রাচুর্য অন্বেষণ করো।” তবে এই বাণীর অর্থ এটি নয় যে বিয়ে কোনো জাদুকরী সূত্র যার ফলে কাবিন সম্পন্ন হওয়ামাত্রই মানুষ ধনী হয়ে যাবে। বরং এর মূল দর্শন হলো, শুধু বর্তমানের আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে যেন মানুষ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয় এবং আগামী দিনের রিজিককে যেন কেবল আজকের সীমিত আয়ের অঙ্কে পরিমাপ না করে।
“আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সঙ্গিনীদের, যেন তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু বকর, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২, ৬, ২১
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!